Published : 20 Jun 2026, 06:01 PM
সমুদ্রের নীল জলরাশি, মাইলের পর মাইল বিস্তৃত বেলাভূমি, ঢেউয়ের গর্জন আর একই সৈকত থেকে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখার মোহনীয় রূপ—আমাদের পর্যটনের মানচিত্রে কুয়াকাটার পরিচয় কী এটুকুই? না, এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমান্তরালে কুয়াকাটার বুক জুড়ে জড়িয়ে আছে রাখাইন আদিবাসীদের প্রায় দুই শত বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাসের চিহ্ন। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, অনন্য ভাষা, ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস, নিখুঁত তাঁতশিল্প, ঐতিহাসিক সীমাবিহার, প্রাচীন বোধিবৃক্ষ, শ্মশান, কিংবা সৈকতে আবিষ্কৃত প্রাচীন রাখাইন নৌকা ও জাদুঘর—সবকিছু মিলিয়েই আসলে পূর্ণতা পেয়েছে আজকের কুয়াকাটা। অথচ এক নির্মম সত্য হলো, যে রাখাইনদের হাত ধরে এই জনপদের বিকাশ, আজ সেই কুয়াকাটাতেই চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি রাখাইন সমাজ। জমি দখল আর একের পর এক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা-মোকদ্দমার বেড়াজালে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে তাদের আদি ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব।
আমাদের সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদ স্পষ্ট ভাষায় রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা দেয় যে—রাষ্ট্র ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তার’ অনন্য সংস্কৃতি রক্ষা ও বিকাশের দায়িত্ব নেবে। কিন্তু কুয়াকাটার বাস্তব চিত্র এই সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। এখানকার রাখাইনরা শুধু সংখ্যাতেই কমছে না, নাগরিক ও মানবিক অধিকারের দিক থেকেও চরম অরক্ষিত ও প্রান্তিক জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। গ্রাস হতে থাকা জমির সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভাষা, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিও আজ বিলুপ্তির পথে।

গত ১২ থেকে ১৪ জুন সিটিজেনস্ ফর হিউম্যান রাইটসের একটি প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে কুয়াকাটা ও সংলগ্ন এলাকা সরেজমিনে দেখার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে আমরা যা দেখেছি, তা কেবল ‘ভূমি বিরোধ’ নয়, ক্ষমতার করাল গ্রাসে একটি প্রাচীন জনজাতির ধীরে ধীরে ‘সংখ্যালঘু’ থেকে ‘সংখ্যালঘুতর’ এবং অবশেষে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার করুণ ও ভীতিকর আখ্যান। অধিকার হারানো রাখাইনরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ক্লান্ত।
শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের ইতিহাস আমাদের রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতার চরম বৈপরীত্যের দলিল। ১৯৪৩ সালে যে বিহারটি ২ একর ৪৪ শতাংশ জমির এক সুবিশাল প্রাঙ্গণ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, আজ তা সংকুচিত হতে হতে টিকে আছে মাত্র ৬৫ শতাংশে! বাকি সিংহভাগ জমি ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গ্রাসে হারাতে বসেছে।
বলে রাখা ভালো নিজের নামেই যথেষ্ট পরিচিত কুয়াকাটা আসলে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার অন্তর্গত একটি পৌরসভা। এই কুয়াকাটার ‘সীমা বিহার’ ও ‘সীমা ঘর’ পটুয়াখালী জেলার বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পবিত্র ‘উপসম্পদা’ মানে দীক্ষা নেওয়ার জন্য একমাত্র ধর্মীয় স্থান। এই স্থানগুলেঅ কেবল কোনো দর্শনীয় প্রাচীন স্থাপনা নয়।
অথচ যে নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা উন্নয়ন উদ্যাপন করছি, তাতে চরম আশঙ্কা হয়—জমির এই ধারাবাহিক বেদখলের মিছিলে হয়তো একদিন এই ঐতিহ্যবাহী সীমাঘরটি চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে। আর তার সঙ্গে সঙ্গে খণ্ডিত ও বিপর্যস্ত হবে একটি প্রাচীন শান্তিকামী জনজাতির একান্ত নিভৃত, নিজস্ব ধর্মাচারণের অধিকার। একটি সভ্য রাষ্ট্রে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের এমন নীরব ক্ষয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
উন্নয়নের নামে কোনো জাতি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রাণকেন্দ্র কেড়ে নেওয়ার অধিকার রাষ্ট্রের থাকতে পারে না। বেড়িবাঁধের প্রয়োজন নিশ্চয়ই আছে, তবে বিকল্প জমি অধিগ্রহণ না করে বারবার কেন বিহারের জমিতেই হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন এড়ানো অসম্ভব। বিহার অধ্যক্ষ ইন্দ্রবংশ ভিক্ষু পরিষ্কার জানিয়েছেন, সংকট কেবল জমির হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আসলে বিহারের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করাই উদ্দেশ্য। রাখাইনদের ধর্মীয় ও সামাজিক অস্তিত্বের মূলে আঘাত করা। বৌদ্ধ দর্শনে বিহার কেবল প্রার্থনালয় নয়, তাদের সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে ভিক্ষুদের দীক্ষা ও শুদ্ধাচারের মতো গভীর আধ্যাত্মিক আচারগুলো সম্পন্ন হয়। যখন সেই পবিত্র চত্বরে বাইরের হস্তক্ষেপ ঘটে, বেশির অংশ দখল হয়ে যায়, তখন তা সম্প্রদায়ের আত্মপরিচয় ও মানসিক নিরাপত্তার বোধকে নাড়িয়ে দেয়। ফলে এই ভূমি হারানো রাখাইন সমাজজীবনে কেবল বস্তুগত ক্ষতি নয়, আধ্যাত্মিকতার চরম সংকটও।
মিশ্রিপাড়ার প্রাচীন বিহারের দুই একর জমিও পুরোপুরি রেকর্ডভুক্ত না থাকার সুযোগে প্রভাবশালী মহল প্রতিনিয়ত দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। রাখাইন বুদ্ধিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মং হ্লা সেইন রাখাইন অভিযোগ করেন, সরল বিশ্বাসে দুই একর জমি বিক্রি করা হলে রেজিস্ট্রি অফিসের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যোগসাজশ করে দলিলে পাঁচ একর লিখে নেয়। এমনকি আদালতের রায় পক্ষে আসার পরও জমি ফেরত পাচ্ছেন না তারা। কারণ মামলা চালিয়ে যাওয়ার মতো প্রভাব-প্রতিপত্তি তো দূরের কথা, আর্থিক সঙ্গতিও নেই প্রান্তিক এই জাতিগোষ্ঠীর মানুষের। আইন কাগজে-কলমে বিদ্যমান থাকলেও আদিবাসীর অধিকার রক্ষায় তা কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। জাল দলিল তৈরির প্রক্রিয়া যদি এত সহজ আর অবাধ হয়, তবে ভূমি অফিস আসলে কাদের স্বার্থ রক্ষা করছে, সেই প্রশ্ন তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।
নয়াপাড়া গ্রামে রাখাইনদের শ্মশানের জমি দখল করে গাছ লাগিয়েছে স্থানীয় এক পরিবার। পূর্বপুরুষের আমলে কেনা জমি দাবি করলেও, শ্মশানের এই পবিত্র জায়গাটি আদৌ তাদের কেনা কি না, সেই দাবির সপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি। ক্ষমতার জোরে মৃত মানুষের শেষ বিদায়ের শান্তিময় গন্তব্যটুকু নিয়েও এমন নোংরা দর-কষাকষি ও দখলদারিত্ব চললে, জীবিত প্রান্তিক মানুষের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু কোথায় গিয়ে ঠেকবে? স্বাধীন রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু জনজাতির শ্মশান, কবরস্থান, ধর্মীয় উপাসনালয়ের জমি এভাবে অরক্ষিত পড়ে থাকা অসম্ভব। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন বেআইনি দখলদারিত্ব আদিবাসী জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার অভাবকেই নগ্নভাবে ফুটিয়ে তোলে।
রাখাইনদের জনসংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। একসময়ের জনবহুল রাখাইন জনপদ বর্তমানে মাত্র এগারোশো মানুষের বসতিতে এসে ঠেকেছে। সংসারবিমুখতা, দেরিতে বিয়ে এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রবণতা সব মিলিয়ে রাখাইন সমাজে জনসংখ্যার সংকট দিনদিন তীব্র রূপ নিচ্ছে। সেই সঙ্গে বহুবছর ধরে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার অসংখ্য ঘটনা তো রয়েছেই। ফলে তাদের জমিজমা ও বিহার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। এই জনমিতিক সংকটের সমান্তরালে যুক্ত হয়েছে তীব্র কর্মহীনতা। রাখাইনদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও বাজারের বিকাশে যথাযথ পরিকল্পনা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম গ্রহণ করা গেলে একটি টেকসই কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
পায়রা বন্দরের জন্য ২০২১ সালে ছ-আনি পাড়ার ছয়টি রাখাইন পরিবার উচ্ছেদ হয়। গাছপালা ও অন্যান্য সম্পদের জন্য ৯৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও, দীর্ঘ পাঁচ বছরেও তাদের স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও, তা মিলেছে মাত্র ছয় মাস। গত বছর জানানো হয়েছিল, পুনর্বাসনের জন্য ৪০ শতাংশ জমি কেনা হবে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, কেবল জমি চিহ্নিত করার মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ; কোনো ঘর তোলা হয়নি, এমনকি মাটি ভরাটের কাজও অসম্পূর্ণ। অথচ চলতি জুনেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এরপর নিঃস্ব এই ছয়টি পরিবারের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেই উত্তর জানা নেই। ছ-আনি পাড়ার রাখাইনদের পরিত্যক্ত ভিটেমাটি দেখে স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে গৃহহীন উদ্বাস্তুতে পরিণত করাই যেন এই উন্নয়নের প্রচ্ছন্ন লক্ষ্য।
রাখাইনদের শ্মশানের জমি উদ্ধার, রাখাইন কালচারাল একাডেমি চালু করা, বেদখল জমি ফেরত দেওয়া, ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প উন্নয়নে সহায়তা এবং উচ্ছেদ হওয়া ছয় পরিবারের ঘর পাওয়ার ব্যবস্থা করা—আদিবাসী ফোরামের উত্থাপিত পাঁচটি দাবির সঙ্গেই একমত প্রকাশ করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদিক। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, জাল দলিলের জালিয়াতিতে রাখাইনদের জমি হারানোর তীব্র সংকটের কথা। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প বিকাশের পাশাপাশি রাখাইন রেস্তোরাঁ চালু করার ব্যাপারেও প্রশাসনিক সহায়তার আশ্বাস মিলেছে তার কাছ থেকে।
কিন্তু আশ্বাসের বাস্তবায়ন শুরু করতে তিনটি প্রাথমিক কাজ নিশ্চিতভাবে করা দরকার। প্রথমত, শ্রীমঙ্গল ও মিশ্রিপাড়া বিহারের সীমানা অবিলম্বে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিহারের বাইরে বিকল্প জমির ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাখাইন অধ্যুষিত এলাকায় ‘বিশেষ ভূমি সেল’ গঠন করে সব জাল দলিল বাতিল এবং হয়রানিমূলক মামলাগুলো আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, পায়রা বন্দরের জন্য উচ্ছেদ হওয়া সেই ছয়টি পরিবারকে চলতি জুনের মধ্যেই ঘরসহ জমির দলিল বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি। ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষ’—এমন ঠুনকো অজুহাতে রাষ্ট্রের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
বিশ্বের বহু পর্যটন এলাকা আদি অধিবাসীদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের মাধ্যমেই সফল এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সঠিক ব্যবস্থাপনায় পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটানো গেলে কুয়াকাটার রাখাইনদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও সংস্কৃতির সুরক্ষা—দুইই নিশ্চিত করা সম্ভব।
উদাহরণ হিসেবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডের ‘হর্নবিল উৎসব’-এর কথা বলা যায়। এই উৎসবে নাগা জাতির ১৬টি দল তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির বিবিধ প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিশ্বে নিজেদের অস্তিত্ব জানানোর পাশাপাশি আদিবাসী সমাজের আয় ও অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। এছাড়া আমাজন রেইনফরেস্টে বসবাসকারী ‘আচুয়ার’ (Achuar) আদিবাসী সম্প্রদায়ের সম্পূর্ণ নিজস্ব মালিকানায় পরিচালিত ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র ক্যাপাবি ইকো লজের নজিরও রয়েছে। সেখানে বনজ সম্পদ রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে আদিবাসীরা ইকুয়েডরের বৃহত্তর অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার অংশীদার হতে পেরেছে।
বাংলাদেশেও ইকো-ট্যুরিজম অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। দেশের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি এবং বনাঞ্চলকে অক্ষুণ্ণ রেখে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে কুয়াকাটার রাখাইন সমাজের এই সংকটকে অনায়াসে সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করা সম্ভব।
রাখাইনদের বাদ দিয়ে কেবল হোটেল-রিসোর্টে কুয়াকাটা সাজানোর যেকোনো পর্যটন পরিকল্পনা পুরোপুরি অসম্পূর্ণ। কারণ বিস্তীর্ণ জঙ্গলাকীর্ণ এই দুর্গম অঞ্চল রাখাইনদের কঠোর পরিশ্রমেই বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও বাংলার স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে লড়াই করেছিল রাখাইনরা। কুয়াকাটার মাটি, জল আর বাতাসে মিশে আছে এই মুক্তিকামী জনজাতির শ্রম ও রক্তের ইতিহাস।
মূল প্রশ্ন হলো, আমরা কি এই জনপদের দুইশত বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এক বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখব, নাকি দখলদারিত্ব, মিথ্যা মামলা আর উন্নয়নের নামে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে চিরতরে বিলোপের মুখে ঠেলে দেব? ফাঁপা আশা আর আশ্বাসের চেনা বৃত্ত পেরিয়ে দৃশ্যমান কাজের মাধ্যমেই এখন সেই উত্তর মেলার অপেক্ষায় রইলাম।
ড. ঈশিতা দস্তিদার নৃবিজ্ঞানী, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী। ইমেইল: [email protected]