Published : 13 Jul 2026, 02:51 AM
উন্নত জীবন আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন সিলেটের ওসমানীনগরের যুবক মো. শামসুল ইসলাম কামরান (২৫)। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কফিনে বন্দি।
পর্তুগালের মাটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এই রেমিটেন্সযোদ্ধার লাশ আগামী শুক্রবার দেশে ফিরছে সহকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আর্থিক সহযোগিতায়।
নিহতের মামাতো ভাই ও পর্তুগালপ্রবাসী আব্দুল কাইয়ুম এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, “কামরানের লাশ দেশে পাঠানোর জন্য আমরা প্রথমে বাংলাদেশ দূতাবাসের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। তবে দূতাবাস থেকে জানানো হয়, আগের অনেক আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আইনি ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়।”
এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন। এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ইউরোর বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং শুক্রবারের মধ্যে লাশ পাঠানোর যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
পর্তুগাল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রনি মোহাম্মদ এ পরিস্থিতির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পর্তুগালে আছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের অসংখ্য প্রবাসীর লাশ চাঁদা তুলে দেশে পাঠাতে হয়েছে। আমরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স দেশে পাঠাই, অথচ একজন প্রবাসী মারা গেলে তার লাশ পাঠাতে মানুষের কাছে হাত পাততে হয়। এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কিছু হতে পারে না।”
ভবিষ্যতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রবাসীদের লাশ দ্রুত দেশে পাঠানোর দাবি জানিয়ে প্রবাসী ব্যবসায়ী জুমন আহমদ বলেন, “কামরান মাত্র চার মাস আগে দেশে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন। নতুন সংসারের সুখ আর সচ্ছলতার আশায় বিয়ের মাত্র তিন মাস পরেই পুনরায় পর্তুগালে কর্মস্থলে ফিরে আসেন তিনি।”
কিন্তু হাতের মেহেদির রং মুছে যাওয়ার আগেই স্থানীয় সময় ৪ জুলাই রাতে সেতুবাল জেলার আলমেদা এলাকায় কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন কামরান। আহত অবস্থায় তাকে আলমেদা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
লিসবনের সেন্ট্রাল মসজিদে রোববার জোহরের নামাজের পর কয়েক শতাধিক প্রবাসীর অংশগ্রহণে কামরানের জানাজা সম্পন্ন হয়।
কামরানের বাড়ি ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের খাগদিওর গ্রামে, তিনি প্রয়াত মুতলিব আলীর তৃতীয় সন্তান। দয়ামীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস টি এম ফখর উদ্দিন জানান, নিহতের বাড়িতে শোক নেমে এসেছে। নতুন পুত্রবধূসহ পরিবারের সদস্যরা এখন প্রিয়জনের লাশের অপেক্ষায় আছেন।
এদিকে প্রবাসীদের লাশ পাঠানো নিয়ে দূতাবাসের ভূমিকার বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা ফোন ধরেননি। প্রবাসীদের সংগৃহীত অর্থেই শেষ পর্যন্ত বিমানে উঠছে এই রেমিটেন্সযোদ্ধার কফিন।