১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আলিফ হত্যা মামলা: অভিযোগ গঠনের শুনানিতে যা যা হলো

“আদালতের পক্ষ থেকে আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে বলছি, শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছি, ন্যায় বিচার পাবেন,” আসামিদের উদ্দেশে বলেন বিচারক।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Jan 2026, 06:25 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:35 PM

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী; একই দাবি ছিল অন্য আসামিদেরও।

অন্যদিকে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, মামলার অভিযোগপত্র, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সুরতহাল ও জবানবন্দিতে অভিযোগ গঠনের মতো যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। 

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এই মামলার ৩৯ আসামির সবার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন। 

তবে সোমবার শুনানির শুরুতে উপস্থিত আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও আইনজীবী সমিতির নেতাদের আশ্বাসে চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবী আদালতে হাজির হন। 

পলাতক ১৬ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত একজন আইনজীবী ছিলেন। তবে তিনি অভিযোগ গঠনের কোনো বিরোধিতা করেননি।  

উপস্থিত থাকা আসামিদের মধ্যে একজন নিজের পক্ষে আদালতে বক্তব্য দেন। বাকি ২১ আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। 

অভিযোগপত্র ‘উদ্দেশ্যমূলক’, পুনঃতদন্ত দাবি চিন্ময়ের

শুনানির শুরুতে আদালত জানতে চান আসামিদের কারো আইনজীবী আছেন কিনা। 

এসমময় আসামি রাজীব ভট্টাচার্য্য বলেন, “আমার পরিবার থেকে উকিল দিতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কেউ রাজি হয়নি। আইনজীবীরা বলেছেন, আইনজীবী সমিতি থেকে লিখিত না দিলে উনারা আসবেন না।” 

এরপর বিচারক জানতে চান, আর কোনো আসামি কিছু বলতে চান কিনা। তখন মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী হাত তুলে বক্তব্য দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে আদালত তাকে অনুমতি দেন। 

বক্তব্যের শুরুতে চিন্ময় দাস বলেন, “আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি। ইসলাম ধর্ম ও সনাতন ধর্মসহ প্রতিটি ধর্মে বিচারকের পদটিকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে। আমি আপনার কাছে পরিপূর্ণ ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি। 

“এই ঘটনা প্রবাহ এবং যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, এই প্রক্রিয়াটা ত্রুটিপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যমূলক। তার কারণ হচ্ছে, আমাকে ২৫ তারিখ (২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর) ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবং আমাকে ডিবি হেফাজতে রাত্রে চট্টগ্রাম আনে। ২৬ তারিখ আমাকে কোর্টে নিয়ে আসা হয়।”

তিনি বলেন, “কোর্টে নিয়ে আসা, গাড়ি থেকে নামা এবং আবার কারা ফটকে যাওয়া পর্যন্ত পুরো সময়ে প্রায় ৪০-৫০টা টিভি চ্যানেল, বিভিন্ন মিডিয়া এবং পারসোনাল মোবাইল তো ছিলই। আমি যখন এজলাসে ছিলাম, তখনো সেখানে আমি দেখেছি সিসি ক্যামরা ছিল। 

“আমি যদি কোনো বক্তব্য দিয়ে থাকি; কাউকে উসকানি দিয়ে থাকি…। সন্ন্যাসী হিসেবে আমরা চারটা রুলস ফলো করি। একটা হচ্ছে, কোনো প্রাণী হত্যা করা যাবে না; মানুষ তো দূরের কথা, কোনো সাধারণ পশু-পাখি পর্যন্ত আমাদের হত্যা করা নিষিদ্ধ।”

চিন্ময় কৃষ্ণ বলেন, “এজাহারে বর্ণনা করা হয়েছে, বোধহয় সাড়ে ৪টার দিকে আমাদের যে ভাই আইনজীবী, উনি ইন্তেকাল করেছেন, উনি কোর্ট থেকে নেমেছেন। আর চার্জশিটে দেওয়া হয়েছে সাড়ে ৩টার দিকে উনার হত্যাকাণ্ড হয়েছে। তখন কিন্তু আমি অলরেডি কারাগারের মধ্যে।” 

এই পরিস্থিতিতে তাকে এই মামলায় আসামি করার পুরো প্রক্রিয়া ‘ত্রুটিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যমূলক’ দাবি করে চিন্ময় দাস বলেন, “যেদিন আমাকে জেলগেটে সাক্ষাতে দিয়েছে, সেদিন শুধু আমার নাম, ঠিকানা এগুলো ঠিক আছে কিনা, কনফার্ম করেছে। 

“আমি যখন বলেছি, আমার বক্তব্য আছে। তখন বলেছে, সবকিছু সেটআপ আছে। শুধুমাত্র আমরা দায়িত্ব পালনের জন্য এসেছি। তো এরকম যদি একটা দায়সারা তদন্ত করে এতগুলো মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি হয় এবং প্রকৃত ন্যায় বিচার থেকে যদি আমার ভাই আলিফ এবং তার পরিবার ও সমাজ বঞ্চিত হয়…।” 

আদালতে চিন্ময় দাস বলেন, “এই দেশে একজন সংখ্যালঘু হিসেবে আমরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো কিছু বলি নাই। কোনো দলের বিরুদ্ধে বলিনি। সেদিন যখন আমাকে পুলিশ প্রশাসন বলেছিল, সেদিনও বলেছি যে আমরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে না। আমাদের শুধু মৌলিক ৮টা দাবি। 

“সে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছি। এই পরিস্থিতিতে এখন যদি আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়, তাহলে সেখানে ন্যায় বিচারের পরিপন্থি হয়। এটা একটা বাজে দৃষ্টান্ত হবে সারা পৃথিবীতে।” 

অন্য সব আসামির পক্ষে এই বক্তব্য কিনা, আদালত তা জানতে চাইলে চিন্ময় কৃষ্ণ বলেন, “আমি আমার বক্তব্যটা রেখেছি। অন্যদের সঙ্গে জেলগেটে এবং আজকে এখানে এসে দেখা। এর আগে কোনো দিন কারো সঙ্গে দেখা হয়নি। কে হত্যাকাণ্ডে জড়িত, এটা তো আমি জানি না। প্রকৃত হত্যাকারী যেই হন, তার যেন বিচার হয় এবং সে যেন দণ্ডপ্রাপ্ত হয়। 

“যদি কেউ প্রকৃত হত্যার সঙ্গে যুক্ত না থাকে, তারা যেন মৌলিক, মানবিক ও আইনগত যে সাপোর্টগুলো পাওয়ার কথা, সেগুলো যেন নিশ্চিত হয়।”

গত চার মাসে যতবার মামলার তারিখ পড়ত ততবার তাকে ওকালতনামা পাঠানো হত জানিয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ বলেন, “কিন্তু দেখা গিয়েছে তারা (আইনজীবী) এখানে মুভ করতে পারে না। আবার সরকারি উকিল দেওয়ার জন্য আমার ফর্মে সাইন নিয়ে আসত। দেখা যেত দুটোই অনুপস্থিত। সামগ্রিকভাবে আইনজীবীদের মধ্যে যারা সনাতনী আছেন, তারা মুভ করতে খুব ভয় পাচ্ছেন। 

“বাংলাদেশে একটা মৌলিক পরিবর্তনের জন্য চব্বিশের অভ্যুত্থান হয়েছে। এর সুফল যেন সবাই পায়। ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে যেন সবাই কাজ করতে পারেন। আইনজীবীদের প্রতি বা সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো বিদ্বেষ নেই এবং এটা পুনঃতদন্ত চাইছি আমরা।”

এরপর চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, “আপনাদের যে আইনজীবী আছে, তাকে লিখিত দিব, পূর্ণ সহায়তা দেওয়া হবে। তাদের নাম ও ফোন নম্বর দিন; আমরা কথা বলব। ইসলাম ধর্মের বিধান হলো, বিচারে কখনো কোনো একজন নিরপরাধ লোকও যেন সাজা না পায়। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।”

এসময় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি মফিজুল হক ভুঁইয়াও আসামিদের উদ্দেশ্যে আইনজীবী দেওয়া ও আইনজীবীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে বক্তব্য রাখেন। 

‘অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা আছে’

তারপর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি এসইউ এম নুরুল ইসলাম শুনানিতে বলেন, “এই মামলায় ৩৯ জন আসামি; ২৩ জন হাজতে আছেন। বাকি ১৬ জন পলাতক। ভুক্তভোগী ব্যক্তি আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ আইনজীবী; তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেদিন অভিযুক্ত চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে একটি মামলায় আদালতে আনা হয়। 

“তার জামিন নামঞ্জুর হলে তার অনুসারীরা আদালত কক্ষে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। তাকে যখন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তার অনুসারী সন্ত্রাসীরা প্রিজন ভ্যান ঘিরে অরাজকতা করছিল। তাকে প্রিজন ভ্যানে উঠানোর সময়, যারা তার জামিনের বিরোধিতা করেছিল তাদের দেখে নিতে অনুসারীদের বলেছিল। এমনকি হ্যান্ড মাইকেও বক্তব্য দেয়। এরপর সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালায়।”

পিপি এসইউএম নুরুল ইসলাম বলেন, “তারা পুলিশের উপর হামলা চালায়। গাড়ি ভাংচুর করে; মসজিদে ভাংচুর চালায়। তখন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ আদালতে কাজ সেরে বাসায় ফিরছিলেন। অনেক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসামিরা তাকে কুপিয়ে থেতলে পিটিয়ে হত্যা করে। 

“আসামিদের ৩ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রত্যেক অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা চার্জশিটে আছে। আসামিরা যেটা বলছে তারা জড়িত নয়, তা সত্য নয়। অভিযোগ গঠনের আবেদন করছি।” 

আদালতে চিন্ময় দাস। ফাইল ছবি

আদালতে চিন্ময় দাস। ফাইল ছবি

আলিফের শরীরের ‘২৬টি কোপ’

এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, “মামলার এজাহারে থাকা তিনজনকে আইও অব্যাহতি দিয়েছে, তাদের সম্পৃক্ততা নেই বলে। আপনি (চিন্ময়) বললেন, আপনার রীতিতে প্রাণি হত্যা নাই। তাহলে আপনার অনুসারীরা কীভাবে একজন আইনজীবীকে হত্যা করে এই আদালতের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। 

“ব্রিটিশ আমল থেকে এই আদালতে শত শত রাজনীতিবিদসহ বহু আসামিকে আনা হয়েছে। অতীতে কখনো এরকম হয়নি। একজন আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।”

আইনজীবী মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, “আসামি চন্দন দাস জবানবন্দিতে বলেন, ‘আমরা গিয়ে মহল্লার ভেতর দাঁড়াই। ওরা ৫০-৬০ জন আসছিল; আমরা ১৫-২০ জন ছিলাম। ৩ জন মন্দির থেকে তিনটি কিরিচ আনে। আমাকে একটা কিরিচ দিয়ে বলে, মার। আমি কিরিচ দিয়ে লোকটার পায়ে একটা কোপ দিই। অন্য একজন লাঠি দিয়ে মারে।’ 

“তাদের বসবাস আদালতের সামনে। তারা জন্মের পর থেকে উকিলদের চেনে। আমাদের নির্দিষ্ট ড্রেস কোড রয়েছে। সাইফুল ইসলাম আলিফকে আইনজীবী হিসেবে দেখে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তার শরীরে ২৬টি কোপ…ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আছে, সুরতহালে আছে। তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটা কোন ধর্মের বাণী, কোন অহিংসার বাণী? আপনি কোন ধর্মের শিক্ষা দিলেন?”

মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, “উনাকে (চিন্ময়) সেদিন আদালতে উপস্থাপনের পর উনার অনুসারী ও আইনজীবীরা সেদিন উনাকে ঘিরে ধরে। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা এজলাসে ছিলেন। উনি কি তাদের নিবৃত্ত করেছেন? নাকি উসকানি দিয়েছেন? সেটা মামলায় প্রমাণিত হোক।

“উনাকে এজলাস থেকে প্রিজন ভ্যান পর্যন্ত উনার অনুসারীরাই নিয়ে গেছে। প্রিজন ভ্যানে তোলার পর উনার অনুসারীরা সামনে দাঁড়িয়ে গেছে; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কলাপস করে, চাপ সৃষ্টি করে। এবং দিনশেষে উগ্র অনুসারীরা আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবী আলিফকে হত্যা করে।” 

এরপর পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনজীবী দুলাল চন্দ্র রায় আদালতে বলেন, “চার্জ গঠন মানেই অভিযোগ প্রমাণ হওয়া নয়। অভিযোগ গঠনের বিষয়ে কোনো আপত্তি করছি না।”

‘এগুলো ডিজাইন, যেন আন্দোলন না হয়’

এরপর আদালতে হাজির হয়ে চিন্ময়ের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, “উনি (চিন্ময়) জীবনে একটা পিপড়াও মারেননি। বৈষ্ণব ধর্মের ভাবধারা হলো প্রেম দিয়ে সবাইকে আকৃষ্ট করা। সেই ধারা থেকে উনি বিচ্যুত হতে পারেন না। 

“আইনগতভাবে যে বিষয়টা, ৩ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। যতদূর জানি, কেউ উনার নাম বলেননি। সনাতন জাগরণ মঞ্চ থেকে যে দাবিগুলো, সেগুলো সারা বাংলাদেশের সনাতনীদের প্রাণের দাবি। এসব দাবির বিষয়ে বর্তমান সরকারপ্রধানও বলেছেন, তিনিও এটার সঙ্গে একমত।”

তিনি বলেন, “সারা বাংলাদেশে ৩ কোটির উপর সংখ্যালঘু, এটার উপর একমত। ওদের উনি মুখপাত্র। উনি অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব। ১৬৪ ধারায় কেউ উনার নির্দেশ বা পরিকল্পনার কথা বলেনি। উনাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২৫ নভেম্বর এরেস্ট করেছে। ২৬ তারিখ এখানে আনে। এগুলো একটা ডিজাইন, যেন আন্দোলন সংগ্রাম না হয়। আমার আসামি কোনভাবে কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না। ইতিপূর্বে কোনো মামলা নেই উনার বিরুদ্ধে।”

আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, “১৬৪ ধারার জবানবন্দিগুলো আমি প্রার্থনা করেছিলাম। কিন্তু আমাকে দেওয়া হয়নি। এফআইআর এ এতগুলো নাম ছিল, উনার নাম ছিল না। 

“কখন থেকে উনাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাচ্ছে? হাইকোর্ট থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রুল এবসুলিউট হবার দুদিন পর থেকে ৫টি মামলায় উনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এতে বোঝা যায়, ‘মেলা ফাইড ইনটেনশন’। বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠী আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। শত শত বছর ধরে এই দেশে হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ সবাই মিলেমিশে আছি। উনাকে সেদিন নেওয়ার সময় হাত জোড় করে বলেছেন, সবাই যেন শান্ত থাকে। পুলিশে মাইক দিয়েছিল উনাকে। এভাবে উনার বিরুদ্ধে চার্জ হয় না।” 

এরপর চিন্ময়ের আইনজীবী তার অব্যাহতির আবেদন জানান।  

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময়ের অনুসারীদের হট্টগোলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময়ের অনুসারীদের হট্টগোলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

‘সুষ্ঠু তদন্ত চাই’

আইনজীবী না থাকায় নিজে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নিয়ে আসামি রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, “পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়নি। এজাহারে আছে, উনি (আলিফ) কোর্ট বিল্ডিং থেকে বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার দিকে উনার বাসায় যাচ্ছিলেন। উকিলের ড্রেস পড়া অবস্থায় উনার উপর হামলা হয়েছে। 

“চার্জশিটে কী লিখেছে? চার্জশিটে লিখেছে ৩ টা ৫৮ মিনিটে উনার লাশ নিয়ে গেছে। তাহলে উনি চারটা থেকে সাড়ে চারটায় কীভাবে বাসায় যাচ্ছিলেন? উনার বাসা তো ওদিকে না স্যার। তাহলে উনি ওদিকে কেন গেলেন? উনার বাসাটা কোথায় স্যার? উনার বাসা তো স্যার যতটুকু জানি, শান্তিনগরে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আর কিছু না।” 

এরপর বিচারক বলেন, “চিন্ময় দাস বলেছেন, আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে আমি বিচার করতে এসেছি। আদালতের পক্ষ থেকে আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে বলছি, একশ পারসেন্ট নিশ্চয়তা দিচ্ছি ন্যায় বিচার পাবেন। আসামি হিসেবে যারা আছেন, আদালতের দৃষ্টিতে আপনারা বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিদোর্ষ। সাক্ষী প্রমাণে জেরার ভিত্তিতে বিচার হবে। যারা নির্দোষ, তাদের চিন্তার কিছু নাই।  

“উনার আইনজীবী ১৬৪ ধারার কথা বলেছেন। ১৬১ ধারায় একজন আইনজীবী আমজাদ হোসেন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সেখানে উনার (চিন্ময়) নির্দেশে উনার অনুসারীরা যে হামলা করেছে, সে বিষয়টা আছে।” 

‘সবাই আমার কাছে যান’

এরপর আবারও এক মিনিট কথা বলার অনুমতি নিয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ বলেন, “এখানে বলা হয়েছে, আমি আইনজীবীদের উপর প্রতিশোধ নিতে বলেছি। আমার পুরো বক্তব্য মিডিয়াতে আছে। সব জায়গায় আছে। একটা অন্তত ভিডিও ফুটেজ ভিত্তি থাকা উচিত যে এটার ভিত্তিতে বলা হচ্ছে। 

“আমি শুধু ব্যক্তি চিন্ময় কৃষ্ণ নই। বাংলাদেশের তিন কোটি সনাতনীসহ পুরো বিশ্বের সনাতনীরা এ মামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমার সঙ্গে শাহজাহান চৌধুরী থেকে শুরু করে জামায়াতে ইসলামী থেকে, বিএনপি থেকে আমীর খসরু মাহমুদরা সবাই আমার কাছে যান। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শফি সাহেব, উনি আমাদের ওখানে এসেছিলেন।”

তিনি বলেন, “তো আমার সঙ্গে কোনো দ্বৈরথ নেই। এমন একটা জিনিসি এখানে উপস্থাপন করা হলো, পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আগে মানুষের শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এখনো একই জিনিস রিপিট হচ্ছে। এটা যেন অন্তত না হয়।” 

এরপর বিচারক মামলার নথি, এজাহার, ১৬১ ধারা ও ১৬৪ ধারার জবানবন্দি বিবেচনায় নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর্যাপ্ত উপাদান আছে জানিয়ে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

আরও পড়ুন

আলিফ হত্যাচিন্ময়সহ সব আসামির বিচার শুরুর আদেশ

আলিফ হত্যাঅভিযোগ গঠনের শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণসহ আসামিরা আদালতে

আলিফ হত্যার অভিযোগ গঠনের শুনানিকে ঘিরে চট্টগ্রাম আদালতে বাড়তি নির

আইনজীবী আলিফ হত্যাঅভিযোগ গঠনের শুনানি ১৯ জানুয়ারি