Published : 21 Jul 2026, 04:53 PM
চিকিৎসার কথা বলে নগরীতে এনে অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজউল ইসলাম মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
দণ্ডিত ৪৩ বছর বয়সি মো. নেজাম উদ্দিন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পূর্ব জিরি গ্রামের মৃত কবির আহাম্মদের ছেলে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মোস্তফা মোহাম্মদ এমরান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় মো. নেজাম উদ্দিন তার স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে নির্যাতন করত।
“ঘটনার সময় স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে নগরীতে একটি আবাসিক হোটেলে এনে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছিল।”
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ জানুয়ারি পটিয়া থানার মেহের আটি গ্রামের মো. মহসিন চৌধুরীর ২২ বছর বয়সি মেয়ে শাহনাজ বেগমের সাথে মো. নেজাম উদ্দিনের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর ২০১১ সালে রোজার ঈদের আগে কেনাকাটা করতে পটিয়া সদরে যাওয়ার সময় মাথায় আঘাত পান শাহনাজ বেগম। দুর্ঘটনার পর থেকে নেজাম উদ্দিন তাকে অবহেলা করত বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অবহেলার স্বীকার হয়ে শাহনাজ শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ঘটনার সময় তিনি ৮ মাসের অন্তঃস্বত্তা ছিলেন।
২০১২ সালের ১১ জুলাই রাতে চিকিৎসার জন্য শাহনাজকে হাসপাতালে ভর্তির কথা বলে নগরীর বহদ্দারহাট এলাকার আল রেজা নামের আবাসিক হোটেলে নিয়ে আসে মো. নেজাম উদ্দিন।
দুইদিন পর ওই বছরের ১৩ জুলাই বিকেলে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে শাহনাজকে মৃত অবস্থায় তার বাবার বাড়িতে নিয়ে মো. নেজাম উদ্দিন দাবি করেছিলেন, অসুস্থ অবস্থায় শাহনাজের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় শাহনাজ বেগমের বড় ভাই আজগর আলী বাদী হয়ে মো. নেজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার এই রায় দেওয়া হল।