Published : 10 Jun 2026, 09:39 PM
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়াসহ ৬ দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে এই স্মারকলিপি জমা দেন স্কপ চট্টগ্রাম জেলার নেতারা।
এ সময় ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদ আলম, বিএফটিইউসির সাধারণ সম্পাদক কে এম শহিদুল্লাহ, স্কপের যুগ্ম সমন্বকায়রী এস কে খোদা তোতন, ইফতেখার কামাল খান, বিএলএফ সভাপতি নুরুল আবছার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের হেলাল উদ্দিন কবির, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল ১০টায় একই দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে স্কপ।
সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি, সিসিটি, জিসিবিসহ কোনো টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের সব উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়।
পাশাপাশি ডিপি ওয়ার্ল্ড বা অন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ সংক্রান্ত চলমান আলোচনা ও প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিও স্মারকলিপিতে তুলেছে স্কপ।

স্মারকলিপিতে স্কপ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর কেবল একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
“চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালসমূহ বিশেষ করে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো বিদেশি অপারেটরের নিকট হস্তান্তরের উদ্যোগ পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
“এ ধরনের উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং দেশের কৌশলগত স্বার্থের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।”
সিসিটি ও এনসিটি উভয় টার্মিনালই বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় জনবল ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এগুলো ‘সফলভাবে’ পরিচালিত হয়ে আসছে। ফলে বিদেশি কোম্পানি ছাড়া বন্দর পরিচালনা সম্ভব নয়, এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বিদেশি অপারেটরের হাতে হস্তান্তর করা হলে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে, রাষ্ট্রের কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর বিদেশি প্রভাব বৃদ্ধি পাবে এবং দেশীয় কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে বলেও স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়।
স্কপের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে আছে- বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘হয়রানিমূলক মামলা ও দমনমূলক কার্যক্রম’ প্রত্যাহার, স্কপ প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের ব্যবস্থা করে তাদের মতামত ও উদ্বেগ সরাসরি শোনার উদ্যোগ গ্রহণ এবং চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হবে না মর্মে সরকারের সুস্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান।