Published : 02 Jul 2026, 07:40 PM
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারার বিষয়ে একদিন আগে বন্দর চেয়ারম্যানের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বিদেশিদের কাছে টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী দুটি সংগঠন।
বৃহস্পতিবার বিকালে পৃথক বিবৃতিতে এ নিয়ে প্রতিবাদ জানায় শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ, চট্টগ্রাম এবং বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম।
স্কপের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “বন্দর চেয়ারম্যান বাস্তবতা আড়াল করছেন। কিন্তু এদেশের শ্রমিক, বন্দর-সংশ্লিষ্ট মানুষ এবং সচেতন জনগণ এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য কখনোই মেনে নেবে না।
“দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বন্দরের এনসিটি ও সিসিটির মত লাভজনক টার্মিনাল দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিই আজ দেশের মানুষের উদ্বেগের প্রধান কারণ। জনগণের উদ্বেগ দূর করার পরিবর্তে বন্দর চেয়ারম্যান সেই উদ্যোগকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”
এর আগে বুধবার বন্দরের এক অনুষ্ঠানে এনসিটি ইজারার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনায় দেশের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
এনসিটি ইজারা বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, “আলোচনায় আমাদের স্বার্থে ছাড় দেব না। দেশের স্বার্থ সবার আগে। এটুকু আস্থা রাখেন সরকারের উপর এবং যারা দায়িত্বে আছেন তাদের উপর, যা হবে, আপনারা জানতে পারবেন। কোনো কিছু লুকোচুরি করা হবে না।”
এনসিটি ইজারা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে হচ্ছে। এখানে কোনো কিছু প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও দাবি করেন বন্দর চেয়ারম্যান।
এর প্রতিবাদে স্কপ নেতারা বলেন, “বন্দর চেয়ারম্যান দাবি করেছেন যে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কিন্তু সরকার যদি সত্যিই জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিত, তাহলে এনসিটি ও সিসিটি দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার আলোচনা চলত না।
“জাতীয় স্বার্থের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো- চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতেই রাখা এবং দেশিয় জনবল ও সক্ষমতার মাধ্যমে পরিচালনা অব্যাহত রাখা।”
তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদে স্কপ নেতাদের দাবি, দক্ষ দেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মাধ্যমে এ টার্মিনাল সফলভাবে পরিচালিত হওয়ার পরও বিদেশি অপারেটরের প্রয়োজনীয়তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, “এ ধরনের উদ্যোগ জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের অধিকার এবং ভবিষ্যতে বন্দরের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।”
এ যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতা ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতন, স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি খোরশেদুল আলম।
অপরদিকে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু সাক্ষরিত আরেক বিবৃতিতে এনসিটি ইজারা নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্য ‘বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে’ দাবি করে অবিলম্বে ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে আমরা গভীর উদ্বেগ, বিস্ময় ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
“তিনি দাবি করেছেন, দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, সবকিছু স্বচ্ছভাবে হবে এবং জনগণকে সব জানানো হবে। কিন্তু বাস্তবতা হল- গত কয়েক বছর ধরে এনসিটি ইজারা নিয়ে যে প্রক্রিয়া চলছে, তার কোথাও জনগণের অংশগ্রহণ নেই। জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়নি, শ্রমিক-কর্মচারী, বন্দর ব্যবহারকারী, ব্যবসায়ী সংগঠন কিংবা দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়নি। তাহলে এই তথাকথিত স্বচ্ছতা কোথায়?”
বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্যে একটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার ধারাবাহিকতাকে ‘যৌক্তিকতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন’ দাবি করে বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা বলেন, “এনসিটির মত একটি কৌশলগত ও লাভজনক স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া মানে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও কৌশলগত স্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া।”
এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনায় দেশের স্বার্থ সবার আগে: বন্দর চেয়ারম্যান