Published : 01 Jul 2026, 10:07 PM
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনায় দেশের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের নবনির্মিত ওয়ানস্টপ সার্ভিস ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বন্দর চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
এনসিটি ইজারা বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা যদি এত সহজে হত, তাহলে কিন্তু অনেক আগেই হয়ে যেত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই বছর এটা নিয়ে অনেক হয়েছে, কিন্তু তারপরও সম্ভব হয়নি। কারণ আলোচনায় আমাদের স্বার্থে ছাড় দেব না। দেশের স্বার্থ সবার আগে।”
“এটুকু আস্থা রাখেন সরকারের উপর এবং যারা দায়িত্বে আছেন তাদের উপর। যা হবে, আপনারা জানতে পারবেন। কোনো কিছু লুকোচুরি করা হবে না।”
এনসিটি ইজারা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে হচ্ছে। এখানে কোনো কিছু প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও দাবি করেন রিয়ার এডমিরাল মনিরুজ্জামান।
ইজারা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী হয়েছে- প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। আরেকজন প্রশ্ন করেন, “এনসিটি একটি নির্দিষ্ট এলাকা। সেখানে বিনিয়োগ বা সম্প্রসারণের সুযোগ কতটুকু আছে? এর আগেও এটা নিয়ে আন্দোলন হয়েছে, এখনো হচ্ছে।”
জবাবে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, “বন্দর দেশের ১৮ কোটি মানুষের, কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংস্থার না। আমরা এখানে সেবাদানকারী হিসেবে এসেছি। ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিষয়টি আজকের না। আমি জয়েন করারও আরো অনেক আগে ২০১৯ সাল থেকে এই কাজটা শুরু হয়েছে। তখন ইউএই গর্ভমেন্টের সঙ্গে জিটুজি প্ল্যাটফর্ম মিটিং হয়, তখন আমরাই ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বলেছিলাম এনসিটি নেওয়ার জন্য। তখন আমাদের ভিতর একটা এমওইউ হয়। পিপিপি প্রজেক্ট হিসেবে ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার আমরাও নিয়োগ করেছি। উনাদেরও একটা এরকম ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার আছে।
“বিভিন্ন সময় এই প্রসেসটাতে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়েছি। এগুলোর অনেক কারণ আছে। শুধু এটুকু বলতে চাই, এই প্রকল্পটা না হওয়ার কারণে দুই দেশের মধ্যে যে কমিটমেন্ট, সেটার ওপর মাঝে মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
গত জুনের প্রথম সপ্তাহে এনসিটি ইজারা বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় সরকার।
অন্যদিকে এই প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে একাধিক সংগঠন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে।