Published : 02 Jul 2026, 01:59 PM
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। তবে বিদায়ী বছরে যে রাজস্ব আদায় হয়েছে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ হাজার ৮২৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা কম।
অর্থবছর শেষে বুধবার রাতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ২০২৫-২৬ মেয়াদের রাজস্ব আয়ের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করে।
সেই অনুযায়ী, সবশেষ অর্থবছরে ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭২ হাজার ৫০২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এবার রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৮ হাজার ৯৬৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টমের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বৃহস্পতিবার সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
“মূলত পাম ওয়েল, ডিজেল, ক্রুড ওয়েল, ফ্রেশ ফ্রুটস, ড্রাইড ফ্রুটস, ক্যাপিটাল মেশিনারি ও খাদ্যদ্রব্য আমদানি থেকে এবার আমরা বেশি রাজস্ব অর্জন করতে পেরেছি। তবে বিষয়টি যেহেতু আমদানি নির্ভর, যে পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়, তার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে।”
বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনেই ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ১ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৬৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি।”
তবে সরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিরাট অঙ্কের রাজস্ব বকেয়া রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কাছ থেকে বকেয়া আদায় হয়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা। এর পরও বছর শেষে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে চট্টগ্রাম কাস্টমের বকেয়ার পরিমাণ ২৫ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা পরিমাণ ২১ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কোনো বকেয়াই আদায় হয়নি।
এছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে পাওনা ৩ হাজার ৯২২ কোটি টাকা।
কাস্টম কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে বকেয়া রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।”