২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘামরোধী প্রসাধনী ব্যবহারের পরও যে কারণে ঘাম কমে না

অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট রোলঅন বা স্প্রে ঘাম রোধ করে। তবে সঠিক নিয়মে না মাখলে কাজ দেবে না।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jul 2026, 05:20 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

গরমে শরীর ঘেমে যাওয়া এবং ঘামের দুর্গন্ধ পরিচিত অস্বস্তিকর সমস্যা।

এই সমস্যা থেকে বাঁচতে প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে কিংবা গোসল শেষ করেই বগলে রোল-অন বা ‘অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট’ ব্যবহার করা অনেকেরই নিয়মিত রুটিন। তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের এই অতি পরিচিত অভ্যাসটি আসলে শতভাগ ভুল।

ভুল সময়ে ব্যবহারের কারণে দামি এবং ‘ক্লিনিক্যাল স্ট্রেন্থের’ পণ্য ব্যবহার করার পরও বাহুমূল ভেজা থাকে এবং শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হয়।

সাধারণ ডিওডোরেন্ট বনাম অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট: তফাত কী?

নিউ অরলিন্সের স্যানোভা ডার্মাটোলজির বোর্ড-প্রত্যয়িত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মামিনা তুরেগানো, সেল্ফ ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “সাধারণ সুগন্ধি বা ডিওডোরেন্ট কেবল ঘামের দুর্গন্ধকে আড়াল করে, তবে ঘাম হওয়া থামাতে পারে না। অন্যদিকে, অ্যান্টিপারস্পিরেন্টে অ্যালুমিনিয়াম-ভিত্তিক উপাদান থাকে, যা সাময়িকভাবে ত্বকের ঘাম গ্রন্থি বা ‘সোয়েট গ্ল্যান্ড’গুলোর মুখ বন্ধ করে দেয়। ফলে প্রাকৃতিকভাবেই ঘাম হওয়া বন্ধ হয়।”

ব্যবহারের আসল সময় কখন?

বোস্টনের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উচেনা ওকেরেকে একই প্রতিবেদনে বলেন, "অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ব্যবহারের সেরা এবং সঠিক সময় হল রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে।"

এর পেছনের কারণগুলো হল

ত্বকের শুষ্কতা: অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট তখনই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়, যখন ত্বক পুরোপুরি শুষ্ক থাকে। সকালে তাড়াহুড়ো করে বের হওয়ার সময় বা চুল ব্লো-ড্রাই করার সময় শরীর কিছুটা গরম থাকে, ফলে হালকা ঘামের আর্দ্রতায় প্রসাধনীর সক্রিয় উপাদানগুলো ধুয়ে যায়।

তবে রাতে ঘুমানোর সময় শরীরের তাপমাত্রা প্রাকৃতিকভাবে কমে যায় এবং ঘাম গ্রন্থিগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে। যা এই পণ্য কাজ করার ক্ষেত্রে ভালো সুযোগ দেয়।

শোষণের পর্যাপ্ত সময়: ঘাম রোধী প্রসাধনী, ঘাম গ্রন্থির ভেতরে প্রবেশ করে একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর বা প্লাগ তৈরি করতে কয়েক ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হয়। রাতে শরীর স্থির থাকায় উপাদানটি ত্বকে ভালোমতো শোষিত হওয়ার সুযোগ পায়।

সকালে গোসল করলেও কি কাজ করবে?

ডা. ওকেরেকে বলেন, “রাতে সঠিক নিয়মে অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ব্যবহারের পর, সকালে উঠে গোসল করলেও এর কার্যকারিতা বিন্দুমাত্র কমে না। কারণ রাতের বেলাতেই ঘাম গ্রন্থির ওপর যে সুরক্ষাবলয় তৈরি হয়ে গেছে, তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা সম্ভব নয় এবং এটি অনায়াসে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরকে ঘামমুক্ত রাখতে সক্ষম।”

সর্বোচ্চ সুফল পাওয়ার ৩টি নিয়ম

ত্বকের কোনো ক্ষতি ছাড়া পুরোপুরি সুরক্ষার জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা ৩টি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়া: রাতে ঘুমানোর আগে বগল বা বহুমূল ভালো করে পরিষ্কার করে, পানি পুরোপুরি শুকিয়ে নিতে হবে। গোসলের পর ত্বকে সামান্য পানি অবশিষ্ট থাকলে তা অ্যান্টিপারস্পিরেন্টের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

মাত্র একবার বা দুবার রোল করা: অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করলে ঘাম কম হওয়া বা ভালো সুবাস মেলার কোনো সম্ভাবনা নেই। উল্টো অতিরিক্ত প্রলেপের কারণে সংবেদনশীল ত্বকে চুলকানি, লালচে র‌্যাশ বা অ্যালার্জির মতো জ্বালাপোড়া তৈরি হতে পারে।

সকালে ডিওডোরেন্টের কম্বিনেশন: রাতে অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ব্যবহারের ফলে সারাদিন শরীর ঘামমুক্ত থাকবে। তবে সকালে অতিরিক্ত সুবাস বা সতেজতা পাওয়ার জন্য হালকা কোনো সুগন্ধি বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

সতর্কতা

ডা. তুরেগানো স্পষ্ট করেছেন যে, “সাধারণ মানুষের জন্য এই রাতের নিয়মটি কাজ করলেও, যাদের মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হওয়ার বা ‘হাইপারহাইড্রোসিস’ নামক মেডিকেল কন্ডিশন রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ ‘ওটিসি’ বা বাজারে পাওয়ায় যায় এমন পণ্য কাজ নাও করতে পারে।”

এক্ষেত্রে ঘরে বসে পরীক্ষা না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ড্রপ বা লোশন ব্যবহার করা উপকারী।

আরও পড়ুন

হাত, পা অতিরিক্ত ঘামার কারণ ও নিয়ন্ত্রণের উপায়

ঘাম কমাতে সারা শরীরে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করা কতটা উপযোগী?

মুখে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার কারণ