‘নিয়মের তোয়াক্কা’ না করে লঞ্চ ভেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনা, মৃত্যু: তদন্ত কমিটির প্রধান
এসব লঞ্চের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতাও আছে বলে জানান তদন্ত কমিটি প্রধান।
নিয়ম ভেঙে সদরঘাটে লঞ্চ ভেড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ছিঁড়ে যাওয়া লঞ্চের রশির আঘাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করেন এ দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান।
শুক্রবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
রাতে কমিটির আহ্ববায়ক বিআইডব্লুউটিএর পরিচালক রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তদন্তের কার্যক্রম শুরু করার তথ্য দিয়ে বলেন, “আমরা ছুটির দিন শুক্রবারই ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ কয়েকজনের সাথে কথা বলেছি।
“প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করে একটি লঞ্চ বার্থিং করতে গিয়ে তীরে থাকা অপর একটি লঞ্চের রশি ছিঁড়ে যায়। এই ছিঁড়ে যাওয়া রশির আঘাতেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।”
তিনি বলেন, এসব লঞ্চের মধ্যে যাত্রী পেতে অসুস্থ প্রতিযোগিতাও চলে।
ঈদের দিন বিকাল ৩টার দিকে সদরঘাটে পাঁচজনের প্রাণহানির এ দুর্ঘটনার পরপর ফায়ার সার্ভিস ঘটনার বর্ণনায় বলেছে, এমভি তাসরিফ-৪ ও এমভি পূবালী-১ রশি দিয়ে ১১ নম্বর পন্টুনে বাঁধা ছিল। এ দুটি লঞ্চের মাঝখান দিয়ে এমভি ফারহান-৬ নামের আরেকটি লঞ্চ ঢোকানোর সময় এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে যায়। ছিঁড়ে যাওয়া ওই রশির আঘাতেই পন্টুনে থাকা ওই পাঁচ যাত্রীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ওই দিনই বিকালে এমভি ফারহান ও তাসরিফের পাঁচ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের তিন দিন করে পুলিশ হেফাজতের অনুমতি দিয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান রফিকুল বলেন, পুলিশসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। গ্রেপ্তার হয়ে যারা পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে আছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের অনুমতি লাগবে।
“এ ব্যাপারে আজকালের মধ্যে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করব।”
বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর নৌযান চলাচল দেখভালকারী নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লউটিএ) ঘটনা খতিয়ে দেখতে সংস্থার পরিচালক (ক্রয়) রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যদের কমিটি গঠন করে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন-যুগ্ম পরিচালক (নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন) আজগর আলী ও যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) কবির হোসেন।
কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রথম দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রফিকুল বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে বিআইডব্লিউটিএ এমভি ফারহান-৬ ও তাসরিফা-৪ এর রুট পারমিট বাতিল করেছে।
গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে থাকা পাঁচজন হচ্ছেন- ফারহান-৬ লঞ্চের মাস্টার আব্দুর রউফ হাওলাদার (৫৪), দ্বিতীয় মাস্টার সেলিম হাওলাদার (৫৪) ও ম্যানেজার ফারুক খান (৭০) এবং তাসরিফ-৪ লঞ্চ এর মাস্টার মিজানুর রহমান (৪৮) ও দ্বিতীয় মাস্টার মনিরুজ্জামান (২৮)।
নিহতরা হলেন- পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার মাটিচোরা গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে বিল্লাল (৩০), তার স্ত্রী মুক্তা (২৬), তাদের মেয়ে মাইশা (৩); পটুয়াখালী সদরের জয়নাল আবেদিনের ছেলে রিপন হাওলাদার (৩৮) এবং ঠাকুরগাঁও সদরের নিশ্চিতপুর এলাকার আব্দুল্লাহ কাফীর ছেলে রবিউল (১৯)।
ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে তাদের দাফন করা হয়। ঈদের আনন্দের মধ্যে এমন ঘটনা প্রতিটি গ্রামেই বিষাদের ছায়া ফেলেছে।
