Published : 04 Dec 2025, 06:48 AM
ভোরের আলো ফুটতেই ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ১৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয় বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবাঈয়্যাৎ কবীর।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৩৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নরসিংদীর শিবপুরে। এটি ছিল হালকা মাত্রার ভূমিকম্প; রিখটার স্কেলে ছিল ৪ দশমিক ১ মাত্রা।
ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমসিএস) বলছে, নরসিংদী থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরে ছিল এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৪টায় দেশে ভূমিকম্প হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীরই ঘোড়াশাল। সেটি ছিল ৪ মাত্রার ভূমিকম্প।
মাঝে গত সোমবার রাতে মিয়ানমারের ফালামে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়, যা অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকেও। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৯।
তারও আগে গত ২১ নভেম্বর কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আঘাত হানে বাংলাদেশে। ওই ভূমিকম্পে তিন জেলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন।
রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর মাধবদীতে এবং এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
পরদিন সকালে নরসিংদীর পলাশে ৩.৩ মাত্রার ভূমকম্পি হয়। তার রেশ না কাটতেই সন্ধ্যায় সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প হয়, যার একটি উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার বাড্ডা, আরেকটি সেই নরসিংদীতেই।
বারবার ভূমিকম্পের পর এখনই করণীয় ঠিক করতে তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে গত ২১ নভেম্বর বলেন, “আজকের ভূমিকম্পটা বলা যেতে পারে ‘ফোরশক’। বড় ভূমিকম্পের আগে ছোট ছোট যে ভূমিকম্প, এটা সেগুলোর একটি।”
ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার মনে করেন, বড় ধরনের একটি ভূমিকম্পের বিপদ বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে। ওই ঝুঁকি বিপদজনক মাত্রায় পৌঁছেছে জনগণের সচেতনতা, সরকারের পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতির অভাবে।
তার ভাষ্য, ভূমিকম্প ঠেকানো যাবে না, প্রতিরোধ করা সম্ভব না, আগাম সংকেতও দেওয়া যাবে না; কিন্তু এর ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব—যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
“সব কথার শেষ কথা যেটা হচ্ছে, আমাদের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধ বা ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা…।”
ভূমিকম্প নিয়ে জনমনে আতঙ্কের মধ্যে গত ২৪ নভেম্বর বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ওই বৈঠক একটি টাস্কফোর্স গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন
এক সপ্তাহের মধ্যে আবার ভূমিকম্প
মিয়ানমারের ভূমিকম্পে কাঁপল চট্টগ্রাম
ভূমিকম্প: সচেতনতা 'আটকা' বয়ানেই, হুড়োহুড়িতে আতঙ্কিত মানুষ
ভূমিকম্প: টাস্কফোর্স গঠন করবে সরকার
সেকেন্ডের ব্যবধানে ২ ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল বাড্ডা ও নরসিংদী