Published : 21 Jul 2026, 03:31 PM
একজনের পাসপোর্ট দিয়ে অন্যকে ইতালি পাঠানো হত—এমন এক চক্রের সাতজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডি বলছে, এক নারীর পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে অন্যজনকে ইতালি পাঠানোর অভিযোগ তদন্ত করতে নেমে চক্রটির সন্ধান মেলে। তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি বিভিন্ন ধরনের সিল, একটি ল্যাপটপ, তিনটি সিপিইউ এবং নগদ আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার সিআইডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির ভাষ্য, মামলার বাদীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার জন্য তিনি ভিসার আবেদন করেছিলেন। পাসপোর্ট নবায়নের সময় এক অভিযুক্তের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি ভিসা করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে ওই নারীকে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে চক্রটির সঙ্গে যোগাযোগ করান।
পরে অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে চার লাখ ৪০ হাজার টাকা নেয়। এরপর সন্তানদের নিয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে এরইমধ্যে অন্য এক নারী ২৪ এপ্রিল ইতালিতে চলে গেছেন।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়।
প্রাথমিক তদন্তে সংস্থাটি জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তাররা বিদেশে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করত। পরে তাদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য পাসপোর্টে তাদের বিদেশে পাঠানো হতো।
তদন্তের বরাত দিয়ে সিআইডি দাবি করেছে, চক্রের কথিত হোতা বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে জনা ত্রিশেক মানুষকে ইতালি পাঠিয়েছেন। একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
সিআইডি বলছে, জব্দ করা আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা, আর্থিক লেনদেনের উৎস-গন্তব্য অনুসন্ধান এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।