Published : 20 Mar 2026, 01:21 AM
ঈদের ছুটিতে রাজধানীর মিরপুর থেকে বরিশাল যেতে দিগন্ত পরিবহনের টিকেট করেছিলেন সাংবাদিক ও গবেষক মুসলিমা জাহান সেতু। এ পথে এমনিতে ভাড়া ৫৫০ টাকা। ঈদ বলে দুটো টিকিটের ভাড়া নেয় দুই হাজার টাকা।
শুধু যে ভাড়া বেশি নিয়েছে তা নয়, দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখার পর লক্করঝক্কর ছোট বাস পাঠিয়ে শুরুতেই ঈদের যাত্রাকে তিক্ত করে তুলেছে পরিবহন কোম্পানিটি। ভোর বেলাতেই ঈদযাত্রার শুরুটা বিরক্তিকর করে তোলার সেই অভিজ্ঞতার কথা বললেন সেতু।
তিন বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে ভোর থেকে বাসের অপেক্ষায় শেওড়াপাড়া মেট্রো স্টেশনের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এই নারী বলছিলেন, তারা (দিগন্ত পরিবহন) বলেছিল- ‘বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় শ্যাওড়াপাড়া এলাকায় মেট্রোরেলের ৩০৫ নম্বর পিলারের কাছে থাকতে’। সেই অনুযায়ী চারটা ব্যাগ আর তিন বছর নয় মাস বয়সি মেয়েকে নিয়ে ভোরবেলা এসে সেখানে দাঁড়ান তিনি।
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পরও কাঙ্খিত সেই বাস আর আসে না। যখন এল, দেখা গেল সেটি রাজধানীতে চলাচলকারী ‘আলিফ পরিবহনের’ একটি ভাঙাচোরা মিনিবাস। দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে টিকেট কেটে এই বাস পেয়ে ক্ষেপে যান যাত্রীরা।

মুসলিমা বলেন, “এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা সেই বাস আটকে রাখেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তারা (দিগন্ত পরিবহন) একটি বড় বাস পাঠায়, সেটাও দিগন্ত’র নিজস্ব বাস না। সেই বাস আবার রাস্তায় দুইবার চাকা ফেটে দুর্ঘটনা থেকে কোনোরকমে রক্ষা পায়। সেখানেও লেগে যায় আরও অন্তত দুই ঘণ্টা।
“গরম, দীর্ঘক্ষণ না খাওয়া আর যাত্রার ধকলে মেয়েও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।”
শেষ দিকের ঈদযাত্রার এমন যন্ত্রণার মুখোমুখি হওয়ার কথা তুলে ধরে মুসলিমা ফেইসবুকে লেখেন, “মন্ত্রী সাহেব, আমার ঈদযাত্রা অথবা ভোগান্তি। বিস্তারিত লিখলাম। সব প্রমাণাদি দিলাম। এবার দেখতে চাই কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমি সত্যি দেখতে চাই। আরও কোনো প্রমাণ দরকার হলে সরবরাহ করা যাবে।”
নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এমন পোস্ট তিনি করেন আগের দিন সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর শেখ রবিউল আলমের একটি বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে।

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে বুধবার তিনি বলেছিলেন, ‘কোথাও বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না’ আর ‘স্বস্তিদায়ক পরিবেশেই ঈদযাত্রা করছে মানুষ’।
তবে সাত দিনের ঈদের ছুটি শুরুর পর প্রথম দিকের ঈদযাত্রায় স্বস্তি থাকলেও শেষ দিকে এসে দুর্ভোগ বাড়তে শুরু করে। বুধবার থেকে উত্তরের পথে শুরু হওয়া যানজট আর সান্তাহারে ট্রেন দুর্ঘটনায় তৈরি দুর্দশায় মন্ত্রীর ভাষ্য আর ঠিক থাকেনি। নিদারুণ ভোগান্তি আর বাড়তি ভাড়া দিয়ে শেষ মুহূর্তে বাড়ির পথ ধরতে হয়েছে উত্তর ও ময়মনসিংহমুখী মানুষদের।
দক্ষিণের পথেও ছিল যানজট তবে তা উত্তরের মত এত দীর্ঘ আর যন্ত্রণাবহুল নয়। তুলনামূলক সহজে বাড়ি পৌঁছে গেছেন চট্টগ্রামমুখী মানুষ।

শেষ সময়ের যাত্রার দুর্ভোগ সড়কে
বৃহত্তর ময়মনসিংহ রুটের যাত্রী যারা মহাখালী থেকে বাসে উঠেছেন তাদের বেশির ভাগই দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। অথচ এ টার্মিনালে এসে তিন দিন আগেই সড়কমন্ত্রী বলে গিয়েছিলেন, কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না, ক্ষেত্র বিশেষে কোন কোন বাস কোম্পানি কম ভাড়াও নিচ্ছে।
ঈদ ঘিরে লম্বা ছুটি দেওয়ার যে কৌশল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কাজে লেগেছিল, তা অব্যাহত রেখে এক মাস বয়সি বিএনপি সরকারও শুরুর দিকে বাহবা পেয়েছে। কিন্তু বুধবার থেকে পোশাক কারখানায় একসঙ্গে ছুটিতে বাড়ি ফেরার চাপ আর ঝড়-বৃষ্টির কারণে চন্দ্রা, যমুনা সেতু হয়ে উত্তরের পথে দীর্ঘ যানজটে পড়ে ঘরমুখী মানুষ। বৃহস্পতিবার এই ভোগান্তি চরমে ওঠে।
ঠিক সময়ে বাস না আসা; বাসে উঠতে না পেরে এবারও বহু মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক-পিকআপে চড়ে বাড়ি যেতে হয়েছে। এবারও দুর্ঘটনায় প্রাণক্ষয় হয়েছে, তবে সংখ্যা বিবেচনায় তা অতীতের তুলনায় কম।
ঢাকা সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার থেকে পানিতে পড়ে একজনের প্রাণহানি ও একজন নিখোঁজ হওয়া ছাড়া নৌপথে বড় কোনো দুর্বিপাক ঘটেনি। ফেরি ঘাটে ঈদের স্বাভাবিক চাপ থাকলেও অতীতের মত ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।
এদিকে রেলে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় পড়ায় রেলপথে ঈদযাত্রায় কিছুটা বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে।

চারগুণ ভাড়া!
শেষ পর্যন্ত এবারের ঈদযাত্রায় যানজটের দুরাবস্থাকে ছাপিয়ে গেছে বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বারবার বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না বলে তুলে ধরলেও সড়কে ছিল উল্টো চিত্র।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে বাসের জন্য রীতিমত হাহাকার করছিলেন যাত্রীরা। ২০০ টাকার ভাড়া ৮০০-১০০০ টাকা দিলেই তবে টার্মিনালের ভেতরে রাখা বাসে জায়গা মিলছিল। দামাদামি করে কিছু পরিবহন কর্মী যাত্রীদের যাবার এ ব্যবস্থা করে দিচ্ছিলেন।
এমন অভিযোগের জবাবে ‘নির্ধারিত ভাড়ার বেশি তারা নিচ্ছেন না’ বলে দায় সেরেছেন বাস কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। কিছু পরিবহনের কাউন্টারতো বন্ধই রাখা হয়েছে।
মহাখালী টার্মিনালে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের হা-হুতাশ দেখা গেছে। অনেকেই আগেভাগে অনলাইন থেকে বা সরাসরি টিকেট সংগ্রহ করেছেন। অনেকেই এদিনই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন, টিকেট মিললেও বাস কখন আসবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না।
ময়মনসিংহের যাত্রী ইমরান হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি আর ছোট বোন বাড়ি যাওয়ার জন্য দুই ঘণ্টা হলো লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, টিকেটের দেখা নাই। কখন টিকিট পাব- বলতে পারি না।”
ময়মনসিংহের যাত্রী সোহেল রানা বলেন, “ভোর ৫টার সময় এসেছি, হাতে টিকেট পাইছি; এখন বাজে ১২টা, কিন্তু কোনো বাসের দেখা পাইনি।”
ময়মনসিংহের পথের যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক বাস মালিকরা কাউন্টার বন্ধ করে বেশি ভাড়া নিয়ে টার্মিনালের ভেতর থেকে যাত্রী ওঠাচ্ছেন। তাতে ২০০-৩০০ টাকার ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা।
ময়মনসিংহের যাত্রী হোমায়রা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আগে ২০০-২৫০ টাকা দিয়ে ময়মনসিংহে যাইতাম, আজকে হেরা ৮০০ টাকা চায়। কেমনে বাড়ি যায়াম।
“ডাক দিয়া ভিতরে নিয়া কয় ৮০০ দেন, গাড়িত উঠেন। ভাড়া বেশি দেহি, কম পাইনি।”
টাঙ্গাইল ঘাটাইলের যাত্রী নিলয় ইসলাম বলেন, “বাসের লোকজন সিন্ডিকেট করছে, তারা ইচ্ছা করে বাসের সংকট তৈরি করেছে, যাতে করে ভাড়া বেশি নিতে পারে।”

সালাম মিয়া নামের আরেক যাত্রী বলেন, “কাউন্টার বন্ধ করে তারা লোজনদের ডেকে পিছনে নিয়ে ১২০০ টাকা, ১০০০ টাকা চায়। বলেন ভাই ২৫০ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা; কেমন যামু বলেন।”
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে এবার যে ‘নৈরাজ্য’ চলেছে, তা গত ২০ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলছে ‘যাত্রী কল্যাণ সমিতি’র পর্যবেক্ষণ।
গাবতলীতে ঈদযাত্রা পরিদর্শনে গিয়ে বুধবার সকালেই মন্ত্রী বলেছিলেন, কোথাও বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। ক্ষেত্র বিশেষে দুই-একটা বাস ২০-৩০ টাকা কম ভাড়াও নিচ্ছে। দুদিন আগেও মহাখালী টার্মিনাল পরিদর্শনে এসে একই কথাই বলেছিলেন তিন।
তবে বাস্তবে প্রায় সব রুটেই বাড়তি ভাড়া নিয়েছে বাস অপারেটরগুলো। মানুষ সেগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন, মন্ত্রীকে ‘ট্রল’ করছেন।
বৃহস্পতিবার সড়কপথে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭৬ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এদিন রাজধানীর ফুলবাড়িয়া, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড়, সায়েদাবাদ, আব্দুল্লাহপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী, হেমায়েতপুর ও সাভার এলাকায় অভিযান চালানোর কথা এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড়, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, বরিশাল ও খুলনায় অভিযান চালিয়েও জরিমানা আদায়ের কথাও বলা হয়েছে সেখানে।

ছয় ঘণ্টা প্রতীক্ষা, ভোগান্তির ষোলকলা
রসায়নবিদ মওদুদ হোসেন ঠাকুরগাঁও যাওয়ার জন্য হেরিটেজ এক্সপ্রেস স্লিপার বাসে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার ট্রিপে ছয় হাজার টাকায় দুটো টিকিট করেছিলেন। এমনিতে দেড় হাজার করে নিলেও ঈদ উপলক্ষে ভাড়া বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের আগে রাত ১০টার দিকে স্ত্রী ও সাত বছরের কন্যাকে নিয়ে কাউন্টারে এসে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। কাউন্টারের কর্মীরা বলেছিল ‘একটু দেরি হতে পারে’।
মওদুদ বলেন, সেই বাস ছেড়েছে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টায়। চন্দ্রার যানজট এড়াতে ধামরাই, মানিকগঞ্জ হয়ে ঘুরে গিয়েও বাস দুপুর ১টায় যমুনা সেতুতে উঠতে পেরেছে। তিনি ইফতার করেছেন দিনাজপুরের বিরামপুরে। আর ঠাকুরগাঁয়ে পৌঁছেছেন রাত ৯ টার দিকে।
তার ভাষ্য, রাস্তায় এত যানজট। ইফতার করতে হল বিরামপুরে রাস্তার ওপর। প্রায় ২৪ ঘণ্টার ভ্রমণে সবাই খুবই ক্লান্ত, একেবারে কাহিল অবস্থা।
এবারের ঈদযাত্রায় এমন ভোগান্তি শুরু হতে থাকে বুধবার দিনের মধ্যভাগ থেকে।
আগের কয়েকদিনের চিত্র পাল্টে দিনভরই ‘চন্দ্রার যানজটে’ ভুগেছে লাখ লাখ মানুষ। উত্তরের জেলাগুলো থেকে যে বাসগুলো ঢাকার দিকে আসছিল যানজটের কারণে সেগুলো সময়মত আসতে না পারায় রাতের ট্রিপ প্রায় সব বাসই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়েছে। এর জের গিয়ে পড়ে বৃহস্পতিবারের ট্রিপগুলোতে।

অব্যবস্থাপনায় যানজট?
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র জটলা তৈরি হয়। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, এলোমেলো পার্কিং, উল্টো পথে অটোরিকশা চলাচল এবং যাত্রী ওঠা-নামার কারণে ভোগান্তি পৌঁছে চরমে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, গাড়ির দীর্ঘ লাইন। রাতভর বৃষ্টি হওয়ার কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদাপানিতে একাকার। রাস্তার উপর এলোমেলো পার্কিং এবং মানুষের ঢলের কারণে যান চলাচলের জন্য রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ড বাজার, ভোগড়া বাইপাস এবং চান্দনা চৌরাস্তায় যানবাহনের গতি মন্থর দেখা গেছে। চান্দনা চৌরাস্তায় সড়কের পাশে পার্কিং থাকায় লেন সংকীর্ণ হয়েছে। এছাড়া যাত্রী ওঠানামার কারণে এই পয়েন্ট অতিক্রম করতে যানবাহনগুলো বেশি সময় নিচ্ছে।
চন্দ্রা এলাকায় সিরাজগঞ্জগামী বাসের অপেক্ষায় থাকা মাসুদ রানা বলছেন, “বুধবার বিকালে কারখানা ছুটির পর বাড়ি যাওয়ার জন্য স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গাড়িতে উঠতে পারিনি। এরমধ্যে আবার শিলাবৃষ্টি শুরু হলে বাসায় ফিরে যাই।
“এখন বৃস্পতিবার ভোর থেকে আবার গাড়ির অপেক্ষা করলেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকেও বাসে উঠতে পারিনি। এখানে যাত্রীর চেয়ে গাড়ি কম।”
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী, স্টেশন রোড ও গাজীপুরা এলাকায়ও ঘরমুখী মানুষের প্রচণ্ড চাপ দেখা গেছে। যানবাহনের সংকটের কারণে পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও অটোরিকশা দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন যাত্রীরা।
নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক সওগাতুল আলম বলেন, বুধবার দুপুরের পর তৈরি পোশাক কারখানা ছুটি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে শ্রমিকরা একযোগে গাজীপুর ছাড়ছেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ও ঘরমুখো মানুষের ভিড় ও জটলা দেখা গেছে।
বিশেষ করে টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক থেকে চন্দ্রা, ওয়ালটন কারখানা থেকে কালিয়াকৈরের বাইপাস সড়ক পর্যন্ত অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হওয়ার তথ্য দেন তিনি।
সকালের নীলসাগর ছাড়ল দুপুরে
বুধবার বগুড়ায় দুর্ঘটনায় পরার কারণে বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ছাড়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সকাল পৌনে ৭টার ট্রেন বেলা পৌনে ১২টায় কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়।
এসময় নীলসাগরের বগিগুলোর ভেতরে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ছাদও ছিল যাত্রীতে ভরা।
কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রত্যেকটি ট্রেনের ছাদও ছিল যাত্রীতে ভরা। এসি কম্পার্টমেন্টগুলোতেও দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে দেখা গেছে।

প্রাণও ঝড়েছে
ঈদযাত্রার দুদিনই সড়কে বেশ কিছু দুর্ঘটনার তথ্য মিলেছে।
বুধবার সকালে বগুড়ায় যাত্রী বোঝাই একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে ধাক্কা লাগলে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। এতে দুই নারী যাত্রী ও চালক নিহত হন। গাড়িটিতে মোট ১২ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় ও আগুনে পুড়ে আহত হন সবাই।
সেদিন সকাল পৌনে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক পান ব্যবসায়ী নিহত হন। দুপুরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ড্রাম ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হন।
মধ্যরাতে লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলায় ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
ছোট খাট এমন কিছু দুর্ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবারও। এদিন সকালে নওগাঁর রাণীনগরে ইট বোঝাই ট্রাক্টর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে চালক ও তার সহকারী নিহত হন। আহত হন আরো একজন।
আরও খবর-
গাজীপুরে বাসে উঠতে না পেরে ট্রাক-পিকআপে ঈদযাত্রা
উত্তরের পথে ঈদযাত্রা: যমুনা সেতু পর্যন্ত ভোগান্তি বিকালে কিছুটা কমেছে
যমুনা সেতু পার হয়ে কিছুটা 'স্বস্তি'র ঈদযাত্রা, তত্ত্বাবধানে ড্রোন
ঈদযাত্রা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে 'তুলনামূলক স্বস্তি
ঈদযাত্রা: গাজীপুর মহাসড়কে যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়ায় নাকাল ঘরমুখো মানুষ