Published : 09 Jul 2026, 07:10 PM
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা কমাতে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস ও রপ্তানি বাড়াতে সমন্বিত অংশীদারত্ব চুক্তি বা সিইপিএ নিয়ে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদে বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১১ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১ হাজার ৭৬৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যের হিসাবে, ওই অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি দাঁড়ায় ৯ হাজার ৬২৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা দূর করতে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, আমদানি বিকল্প পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিকে উৎসাহিত করার নীতি অনুসরণ করছে সরকার।”
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২৯ এ দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার সুষ্ঠু ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যবস্থাপনাকে সহজ, স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আবদুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দুটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটানের সঙ্গে এবং ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার আরেক প্রশ্নের জবাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ২০২টি গন্তব্যে বাংলাদেশের ৮১২টি পণ্য রপ্তানি হওয়ার তথ্য দেন আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, ওভেন পোশাক, নিটওয়্যার, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ, কৃষিজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা এবং প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি করে ৪৪ হাজার ১৬৭ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। এটি মোট রপ্তানি আয়ের ৯১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের ফলে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাত কিছু নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা, সহজ উৎসবিধি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার সুবিধায় পরিবর্তন আসতে পারে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের বহুমুখী কৌশল নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা অব্যাহত রেখে জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ৩২টি আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বাস্তবায়ন জোরদার করা হয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়েও তৈরি পোশাকসহ সামগ্রিক রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় থাকবে বলে সরকার আশাবাদী।
বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশার এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন, আন্তর্জাতিক বীমা ব্যবস্থা, সরবরাহ শৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সাময়িক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সরাসরি এ সংঘাতের পক্ষ না হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকায় কিছু পরোক্ষ অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
“তবে সংঘাতজনিত কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি বা ব্যবসা-বাণিজ্যে এখন পর্যন্ত কোনো প্রত্যক্ষ ও পরিমাপযোগ্য আর্থিক ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি।”
বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ, আটা ও চালসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানি সহজীকরণ, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শুল্ক ও করহার যৌক্তিকীকরণ এবং বিকল্প আমদানি উৎস অনুসন্ধানের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।