১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

দুদকের এক মামলায় পি কে হালদারসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

চার বছর আগে পি কে হালদার ভারতে ধরা পড়েন; তখন তাকে দেশে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো সেটি সম্ভব হয়নি।

দুদকের এক মামলায় পি কে হালদারসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
২০২২ সালে পি কে হালদারকে ভারতে গ্রেপ্তারের এই ছবি এসেছিল সংবাদমাধ্যমে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2026, 08:17 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:37 PM

বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগে আলোচিত পি কে হালদারসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আসামিদের মধ্যে ফেরারি হিসেবে হালদারসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত।

ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বলছেন, আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেল কি না, সেই ব্যাপারে প্রতিবেদন দিতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর দিন রেখেছে আদালত।

অভিযোগপত্রের আসামিদের মধ্যে পি কে হালদার, মো. নুরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, মো. নুরুজ্জামান, মোহাম্মদ আবুল হাসেম, এম এ হাশেম, জহিরুল আলম, মো. নওশেরুল ইসলাম, রাশেদুল হক, আল মামুন সোহাগ, রফিকুল ইসলাম খান ও মর্জিনা বেগমকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

অন্য ৬ আসামি শঙ্ক বেপারী, বাসুদেব ব্যানার্জি, পাপিয়া ব্যানার্জি, নাহিদা রুনাই, রাফসান রিয়াদ চৌধুরী ও সৈয়দ আবেদ হাসান কারাগারে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার শুনানির সময় তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

হালদারসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি হয়েছিল ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এ মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ২০ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

দুদকের এ মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ‘মুন এন্টারপ্রাইজ’ এর নামে রেকর্ডপত্র তৈরি করেন। এরপর ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের কর্মকর্তা ও বোর্ড সদস্যদের সহায়তায় আসামিরা ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ঋণ নেন। পরে তা বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়।

পি কে হালদার নামে পরিচিত প্রশান্ত কুমার হালদার বেসরকারি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

তিনি নামে-বেনামে পিপলস লিজিংসহ নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলে হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পালিয়ে যান বলে ২০২০ সালের শুরুতে খবর আসে। এরপর দুদক তদন্তে নেমে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের ৩৪টি মামলা করে। তাকে গ্রেপ্তারে রেড নোটিশও জারি করেছিল ইন্টারপোল।

এরপর ২০২২ সালের মে মাসের মাঝামাঝিতে পি কে হালদারকে ভারতে গ্রেপ্তারের খবর আসে। সেসময় তাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো সেটি সম্ভব হয়নি।

পরে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকার একটি আদালত পি কে হালদারকে ২২ বছরের কারাদণ্ড দেয়। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অপরাধে ১০ বছর ও অর্থ পাচারের অপরাধে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। অপর ১৩ আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।