Published : 09 Jul 2026, 08:18 PM
চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশের আগে গেজেট প্রকাশ ও শপথ আয়োজন না করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
রায়ের কপি বের হওয়ার আগেই শুধু আইনজীবীর সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে ইসির গেজেট প্রকাশের উদ্যোগকে ‘রহস্যজনক’ এবং আদালতের ‘প্রক্রিয়া বিনষ্টের শামিল’ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেয়।
রায়ের পর বিকালে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গেজেট প্রকাশের কারণ হিসেবে রায়ের ‘সার্টিফায়েড কপি’ হাতে পাওয়ার কথা বলে কমিশন।
এদিন সন্ধ্যা ৭টায় সরোয়ার আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা জানায় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখা।
এরমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে লিগ্যাল নোটিস পাঠালেন আইনজীবী শিশির মনির।
লিগ্যাল নোটিসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, “হাই কোর্টের রায়ের কোনো কপি বের হয়নি। জজ সাহেবরা রায় লিখেননি, সইও হয়নি। কোর্টের কোনো কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনকে কম্যুনিকেট করা হয়নি। হঠাৎ করে শুনলাম যে নির্বাচন কমিশন গেজেট পাবলিশ করতে যাচ্ছে।”
ইসির এমন উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “কিসের ভিত্তিতে? একটা আইনজীবীর সার্টিফিকেট পেয়ে এই কাজ করতে পারেন? যেখানে একটা হটলি কনটেস্টেড ম্যাটার, হাই কোর্টের রায় বের হবে, হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিবাদমান পক্ষ আপিল করবে, এর আগেই এই মামলার কার্যকারিতা নষ্ট করে দিচ্ছেন! ইলেকশন কমিশনের এ আচরণ রহস্যজনক।”
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “যেখানে পাবলিকলি ওপেনলি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে এই রায় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপিল করা হবে, সেখানে আদালতের প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে তা বিনষ্ট করার জন্য এটি করা হচ্ছে?”
এর আগে সকালে হাই কোর্টের রায় আসার পর শিশির মনির বলেছিলেন, “এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব, আপিল করব। আমরা মনে করি, এটি একটি লং ফাইট। ইনশাআল্লাহ, এই মামলার লিখিত রায় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আপিল বিভাগে যাব।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন।
কিন্তু ঋণখেলাপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। এর প্রেক্ষিতে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে পরদিন হাই কোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২৭ জানুয়ারি হাই কোর্ট রুল জারি করে এবং ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে 'লিভ টু আপিল' করেন জামায়াতের প্রার্থী। আপিল বিভাগ নির্দেশ দেয়, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও আইনি ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ফল প্রকাশ বা গেজেট স্থগিত থাকবে। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
এরপর গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না গিয়ে মূল রুলটি দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে মামলাটি ফের হাই কোর্টে পাঠিয়ে দেয়।
সেই রুলেরই চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেয় হাই কোর্ট।
আরো পড়ুন
চট্টগ্রাম-২: সরোয়ার আলমগীরের নামে গেজেট প্রকাশ, সন্ধ্যায় শপথ