Published : 18 Jul 2025, 09:13 PM
গোপালগঞ্জে সহিংসতার মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো রমজান মুন্সীর ভাইয়েরা শুক্রবার সকাল থেকে বসে ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পড়ন্ত বিকালে লাশ বুঝে পেয়ে তারা রওনা হন বাড়ির উদ্দেশে।
নিহতের ভাইয়েরা বলছেন, রমজান ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতেন। এক যাত্রীসহ রিকশা চালিয়ে যাওয়ার সময় তার হাতে ও বুকে গুলি লাগে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।
গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে বাধা ও হামলাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর যে সংঘাত হয়, তাতে রমজান মুন্সীসহ পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। গুলিবিদ্ধ কয়েকজন এখনো চিকিৎসাধীন আছেন।

রমজানের ভাই ইমরান মুন্সীর ভাষ্য, বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় রমজান গুলিবিদ্ধ হন। তার ডান হাতের কব্জির উপর এবং ডান বগলে গুলি লাগে।
শুক্রবার দুপুরবেলা ঢাকা মেডিকেল মর্গে গিয়ে দেখা গেল, রমজানের লাশের অপেক্ষায় রয়েছেন তার কয়েক ভাই। কোনো কান্নাকাটি নেই, সবাই চুপচাপ। কেউ বেশি কথাও বলতে চান না। মর্গ শেডের যেখানে বসে পুলিশ কর্মকর্তারা লেখালেখি করেন, সেখানে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল তাদের আরেক ভাই এনামুল মুন্সীকে। সুরতহাল প্রতিবেদন লেখার জন্য তার কাছ থেকে পারিবারিক তথ্য নিচ্ছিলেন শাহবাগ থানার কর্মকর্তা।
এনামুল মুন্সী বলেন, “আমাদের বাবা নাই। মা আছে। আমরা আট ভাই। ও (রমজান) আমার বড় মায়ের তৃতীয় সন্তান।
“ও বিয়ে করেছে, এখনো সন্তান নেই তাদের। গোপালগঞ্জের থানা-পাড়ায় একেবারে থানার সামনে আমাগোর পৈত্রিক বাড়ি, সবাই ছোটখাট কর্ম করে খাই।”
রমজান সংঘাতে পড়ল কী করে, জানতে চাইলে এনামুল বলেন, “ও একটা ব্যাটারির রিকশা ভাড়ায় নিয়ে চালাইতো। ওইদিন যখন গ্যাঞ্জাম শুরু হইছে বলে খবর পাইছি, তহনও ও রিকশা নিয়েই বাইরে।
“পরে আমরা বিকালে খবর পালাম যে ওর গুলি লাগছে। যাত্রী নিয়ে ও যাচ্ছিল, লঞ্চঘাট এলাকায় ওর গায়ে গুলি লাগছে।”
এনামুল জানালেন, তারা লাশ নিয়ে গোপালগঞ্জে যাবেন। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার জন্য অন্য ভাইদের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি।
সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের ডান হাতের কনুইয়ের উপরে ও নিচে দুটি গুলির ছিদ্র এবং পিঠের ডানপাশে একটি গুলির ছিদ্র থাকার কথা বলা হয়েছে।
এ প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত রমজান ব্যাটারি রিকশার চালক। তিনি বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জ সদরের চৌরঙ্গী সিনেমার উত্তরপাশের রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে মঙ্গলবার থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত ছিল গোপালগঞ্জ। এরমধ্যেই এনসিপির ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জে’র বহর শহরে ঢুকে মঞ্চে সমাবেশ শুরু করলে সেখানে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ সহস্রাধিক নেতা-কর্মী। দফায় দফায় হামলার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে পুরো শহরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতে পাঁচজন নিহত হওয়া ছাড়াও বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক আহত হন।
নিহত অন্যরা হলেন- শহরের উদয়ন রোডের সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (৩০), কোটালিপাড়ার হরিণাহাটি গ্রামের কামরুল কাজীর ছেলে রমজান কাজী (১৭), শহরের শানাপাড়ার সোহেল রানা (৩৫) এবং সদর উপজেলার ভেড়ার বাজার এলাকার ইমন।