Published : 08 Jul 2026, 01:47 AM
দুইশ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ৯ বলে তিন ছক্কা। কথায় আছে, ভোরের সূর্য সবসময় পুরো দিনের পূর্বাভাস দেয় না। ভারতের ইনিংসও যেন ঠিক তাই। ঝড়ো শুরুর পর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। বিশাল জয়ে সিরিজে আরও এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের জয় ১২৫ রানে। ট্রেন্ট ব্রিজে মঙ্গলবার স্বাগতিকদের ২০১ রানের জবাবে ১১.৪ ওভারে স্রেফ ৭৬ রানে গুটিয়ে যায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
এই সংস্করণে ভারতের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর এটি। একই সঙ্গে এই প্রথম একশর বেশি রানে হারের তেতো স্বাদ পেল তারা।
২০০৮ সালে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বনিম্ন ৭৪ রানে অলআউট হয়েছিল ভারত।
রানের হিসাবে দলটির আগের সবচেয়ে বড় হার ছিল ২০১৯ সালে ওয়েলিংটনে, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ রানে।
টানা ১৬টি টি-টোয়েন্টি সিরিজে অপরাজিত থেকে কিছুদিন আগে আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে অভাবনীয়ভাবে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশড হয় ভারত। সেখান থেকে ইংল্যান্ডে এসে প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর, টানা দুটি হারল শ্রেয়াস আইয়ারের দল। আরেকটি সিরিজ হার এড়াতে বাকি দুই ম্যাচ জিততেই হবে তাদের।
ইংল্যান্ডের এবারের জয়ে ব্যাট হাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন ফিল সল্ট। সাত চার ও তিন ছক্কায় ৪৪ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেন এই ওপেনার।
বল হাতে ভারতকে গুঁড়িয়ে দেন ইংল্যান্ডের নতুন বলের জুটি জফ্রা আর্চার ও জশ টাং। দুই পেসার মিলে নেন ৭ উইকেট। আগের ম্যাচে অভিষেকে ৪৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকা টাং এবার ২৮ রানে নেন ৪টি। ২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা আর্চার।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারে আর্চারের ১৪৬ কিলোমিটার গতির শর্ট বলে ছক্কা মারেন বিস্ময় বালক বৈভাব সুরিয়াভানশি। পরের ওভারে টাংয়ের প্রথম তিন বলে আভিশেক শার্মা ও সুরিয়াভানশি ছক্কা মারেন একটি করে। এরপরই দুঃস্বপ্নের পথচলা শুরু হয় ভারতের।
ওই ওভারেই বাড়তি বাউন্সে আভিশেককে ফিরিয়ে প্রথম উইকেটের দেখা পান টাং। পরের ওভারে আর্চারের শর্ট বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন সুরিয়াভানশি।
আয়ারল্যান্ড সফর থেকে তাকে দলের সঙ্গে রেখেও খেলানো হচ্ছিল না। প্রবল আলোচনা-সমালোচনার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচে কেবল ১৪ ও ১৩ রান করতে পারলেন ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।
টাংকে একটি ছক্কা মেরে ওই ওভারেই শর্ট বলে বিদায় নেন ইশান কিষান। পরের ওভারে প্রথম বলে শ্রেয়াসকে ফেরান আর্চার। একই ওভারে পরপর চার ও ছক্কা মারার পরের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আকসার প্যাটেল।
পাঁচ ওভারে ৫২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৫ উইকেট হারাল তারা।
দলকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তুলতে পারেননি তিলাক ভার্মা ও শিভাম দুবেও। এই দুজনসহ পরের কেউই দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।
সুরিয়াভানশি ও কিষানের ১৩ রানই ইনিংসের সর্বোচ্চ।
১৪ রানে ২ উইকেট নেন লেগ স্পিনার আদিল রাশিদ। এই সংস্করণে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় টিম সাউদি (১৬৪) ও ইশ সোধিকে (১৬৫) ছাড়িয়ে এখন দুই নম্বরে তিনি (১৬৬)। ওপরে আছেন রাশিদ খান (১৯৩)।
এ দিন দুইশ ছোঁয়া পুঁজি গড়লেও ইংল্যান্ডের শুরুটা আগ্রাসী ছিল না। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম তিন ওভারে করতে পারে ১৯ রান। পরের ওভারে আকসারকে ছক্কা ও চার মেরে রানের গতিতে দম দেন জস বাটলার। চতুর্থ ওভারে তার সামনে একই পরিণতি হয় হার্শিত রানারও।
ইনিংস যদিও টেনে নিতে পারেননি বাটলার। ষষ্ঠ ওভারে আক্রমণে এসেই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে (২১ বলে ৩৬) বোল্ড করে দেন প্রিন্স ইয়াদাভ। এই পেসারের পরের ওভারে বিদায় নেন হ্যারি ব্রুকও (১২ বলে ১৬)।
ইনিংসের প্রথম ৯ ওভার পর্যন্ত অনেকটা ম্রিয়মান ছিলেন সল্ট। তার রান ছিল তখন ১৯ বলে ১৭। পরের ওভারে রহস্য স্পিনার ভারুন চক্রবর্তিকে একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে ডানা মেলেন তিনি।
হার্শিতের পরপর দুই বলে ফেরেন জেকব বেথেল ও টম ব্যান্টন। তখন ১২ ওভারে ইংল্যান্ডের স্কোর ৪ উইকেটে ১১১।
৩৬ বলে ফিফটি করে এগিয়ে যান সল্ট। তাকে ভালো সঙ্গ দেন স্যাম কারান। দুজনের জুটিতে আসে ২৬ বলে ৪৭ রান।
১৭তম ওভারে বিদায় নেন সল্ট। দুই ছক্কায় ১৪ রান করেন উইল জ্যাকস। দলের স্কোর দুইশ পার করে চারটি চারে ২৪ বলে ৪১ রানে অপরাজিত রয়ে যান কারান।
ব্রিস্টলে বৃহস্পতিবার হবে চতুর্থ ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২০১/৭ (সল্ট ৭০, বাটলার ৩৬, ব্রুক ১৬, বেথেল ১৩, ব্যান্টন ০, কারান ৪১*, জ্যাকস ১৪, আর্চার ৫, ডসন ০*; আর্শদিপ ৪-১-৩৬-০, হার্শিত ৪-০-৪০-২, আকসার ৪-০-৪৯-১, প্রিন্স ৪-০-৩০-২, দুবে ১-০-১০-০, ভারুন ৩-০-৩৫-০)
ভারত: ১১.৪ ওভারে ৭৬ (আভিশেক ১০, সুরিয়াভানশি ১৩, কিষান ১৩, শ্রেয়াস ৫, আকসার ১০, তিলাক ৩, হার্শিত ৯, দুবে ২, আর্শদিপ ৪, ভারুন ৫, প্রিন্স ২*; আর্চার ৩-০-২৯-৩, টাং ৪-০-২৮-৪, জ্যাকস ২-০-৫-১, রাশিদ ২.৪-০-১৪-২)
ফল: ইংল্যান্ড ১২৫ রানে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ২-০তে এগিয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচ: জফ্রা আর্চার