Published : 09 Sep 2025, 05:11 PM
নিজেদের ‘কেনা ফ্ল্যাট’ দখল করায় কীভাবে মামলা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে সামির কাদের চৌধুরী।
ফারজানা আন্না ইসলামের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সামির কাদের চৌধুরী বলেন, ‘‘প্রায় ২০ বছর আগে ২০০৫ সালে আমরা ফ্ল্যাটটি ডেভেলপার কোম্পানি (সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেড) থেকে কিনেছি। তখন বাড়িটির নাম ছিল ওয়াটার ফ্রন্ট। এখন (নাম) পরিবর্তন করে ফেলেছে।
‘‘উনার (ফারজানা আন্না ইসলাম) কাছে থাকা কাগজপত্র যে বানোয়াট, ২০ বছর ধরে এগুলো উনি খেয়াল করেননি; এখন উনার খেয়ালে আসছে। আর খেয়ালে আসার পরে উনি ভবনের ভেতরে, আর আমরা বাইরে আছি, খুবই দুঃখজনক।”
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমানের আদালতে প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ এনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
‘সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের’ স্বত্বাধিকারী আরেফিন সামসুল আলম, মেরিনা ইরশাদ, কেশব চন্দ্র নাথ, হারুন অর রশীদ, ফেরদৌস মুনসি, শাহাবুদ্দিন ও ছালাউদ্দিন আব্বাছি নামে আরও সাতজন রয়েছেন আসামি তালিকায়।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় ছয় তলা ভবন নির্মাণে আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে ২০০৬ সালে মাইনুল ইসলাম ও ফারজানা আন্না ইসলাম দম্পতি চুক্তি করেন। ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা বাড়ি বুঝে পান। পরের বছর ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ মারা যান মাইনুল ইসলাম। তার মৃত্যুর পর সামসুল আলম অন্য আসামিদের নিয়ে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করতে থাকেন। আসামিরা জাল দলিল তৈরি করে বাড়ির দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেন।
সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সামির বলেন, ‘‘ আপনারা যদি একটু বিল্ডিংয়ে জাস্ট গেটের সামনে দিয়ে ঘুরে যান, তাহলে দেখবেন কী পরিস্থিতি সেখানে। চারপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারবেন এই মহিলার (ফারজানা আন্না ইসলাম) সম্পর্কে। ওখানে আশপাশে ভবন আছে, ব্যাংক আছে। আপনারা সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে, এই ভবনে স্পা আছে, কফি হাউজ আছে, সেখানে কী চলে না চলে।
‘‘গত সপ্তাহে আমাদের গার্ডরা যখন বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, আমাদের ফ্ল্যাটে রিনোভেশনের কাজ চলছিল, মালামাল আসছিল, ওই সময় উনি ও উনার ছেলেরা উপর থেকে বলতেছে যে, এখান থেকে সরে যা, নইলে গরম তেল দিয়ে জানে মেরে ফেলব। এই ভিডিওটা আমাদের কাছে আছে। এখন থ্রেট আমরা কোথায় দিলাম, উনি কোথায় দিল, এটা প্রমাণ হোক।”
‘আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই, আমাদের ফ্ল্যাটে যেতে চাই’
সামির দাবি জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক।
‘‘আর আমরা আমাদের ফ্ল্যাটে এই মুহূর্তে ঢুকতে চাই। এটা তো আমাদের প্রোপার্টি, আমরা আমাদের প্রপোর্টিতে কেন ঢুকতে পারব না? আমরা বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি, থানায় অবহিত করা আছে। আমি শিগগিরই আমাদের প্রপোর্টিতে গিয়ে আমাদের ফ্ল্যাটের রিনোভেশনের কাজ চালু করতে চাচ্ছি।”
গুলশানে নাভানা টাওয়ারে ‘কিউসি’ অফিসে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে সামির কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই সাকির কাদের চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে ‘এমএফ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ এর কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বলেন, ‘‘ আমাদের অফিস এখন বন্ধ। কারণ আমাদেরকে ঢুকতে দিচ্ছে না।”
‘মামলাটি বানোয়াট’
সামির কাদের ‘‘গতকাল যে মামলা হয়েছে, এটা বানোয়াট। গতকাল উনি কী উদ্দেশ্যে মামলা করেছেন এটা চিন্তার বিষয়। এটার পেছেনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।”
তিনি বলেন, ‘‘আমরা ফার্স্ট ফ্লোরে আছি। আমাদের সঙ্গে এই সংবাদ সম্মেলনে আছেন, উনারা সেকেন্ড ফ্লোরে আছেন। ২০২২ পর্যন্ত ওই বিল্ডিং আমাদের একটি কোম্পানি ‘রেডিও আমার’ এর অফিস অপারেশনে ছিলেন। এরপর আমরা ওইটা বিল্ডিংয়ের যে পরিস্থিতি হয়ে গেছে, আমি গত চার বছরে ওই ভবনে যাইনি। আমার ভাই বোধহয় আরও বেশি সময় ধরে ওখানে যাননি।”
সামির অভিযোগ করেন, ‘‘গত সপ্তাহে সেখানে একটা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আপনারা গণমাধ্যমে যে ওই ঘটনার যে ভিডিও দেখছেন, সেটার শুরুর পার্ট কিন্তু আপনাদেরকে দেখানো হচ্ছে না। এটা পুলিশের কাছেও চাওয়া হয়েছে। পুলিশও ওনাদের কাছে চেয়েছে। আপনারা নিজেরা বিল্ডিংয়ে গেলে দেখতে পারবেন ওখানে কত প্রকারের সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। গত নভেম্বরে যখন অভিযান চলে, “আপনারা নিউজে দেখতে পাবেন, ওখানে যে স্পা সেন্টার ছিল, ওখানে কারা জড়িত ছিল।”
আরও পড়ুন
'ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা': গিয়াস কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ ৯ জনের নামে মামলা