Published : 08 Sep 2025, 05:53 PM
রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখলের সময় তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমানের আদালতে সোমবার প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম মামলা করেন।
বাদীর আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে এক মাসের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিতে বলেছে।
মামলায় বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া ‘সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের’ প্রোপ্রাইটার আরেফিন সামসুল আলম, মেরিনা ইরশাদ, কেশব চন্দ্র নাথ, হারুন অর রশীদ, ফেরদৌস মুনসি, শাহাবুদ্দিন ও ছালাউদ্দিন আব্বাছি নামে আরও সাতজন রয়েছেন আসামি তালিকায়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় ছয় তলা ভবন নির্মাণে আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে ২০০৬ সালে মাইনুল ইসলাম ও ফারজানা আন্না ইসলাম দম্পতি চুক্তিপত্র করেন। ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা বাড়ি বুঝে পান। পরের বছর ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ মারা যান মাইনুল ইসলাম। তার মৃত্যুর পর সামসুল আলম অন্য আসামিদের নিয়ে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করতে থাকেন। আসামিরা জাল দলিল তৈরি করে বাড়ির দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গত ১৪ জুলাই তারা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ফ্ল্যাটগুলোর তালা ভেঙে দখল করার চেষ্টা করেন। তারা ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। ফারজানা আন্না ইসলামকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।
গত ২৮ অগাস্ট আবারও তারা বাসায় প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে বাসার লোকজনকে আহত করেন। তারা ১০ লাখ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণের জিনিসপত্র নিয়ে যান। ৫ কোটি টাকা না দিলে ফ্ল্যাটগুলো দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন। চলে যাওয়ার সময় আসামিরা বাসার নিচে গ্যারেজ ভাঙচুর করে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি করেন। হামলায় আহতরা পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এটিকে ‘বানোয়াট’ মামলা দাবি করে গিয়াস কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে সামির কাদের চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘এটা পুরোপুরি বানোয়াট মামলা। গত সাড়ে চার বছরে এমনকি আজকে পর্যন্ত কখনও আমরা ওই ভবনের ধারে কাছে যায়নি। এই নারীর বিরুদ্ধে ১০ দিন আাগে থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
ওই ভবনে গিয়ে সাংবাদিকদের খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “এই ভবনের উপরের যারা বাসিন্দা, যারা অ্যাপার্টমেনন্টধারী তাদেরকেও তারা সেখানে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। একটা ভয়াবহ অবস্থা। আজকে (সোমবার) আমরা শুনলাম যে, উল্টো ওই নারী আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এর নিন্দা জানাই।”