Published : 08 Jul 2026, 01:27 PM
ম্যাচ শেষে আবেগের ঢেউ বোঝা যাচ্ছিল স্পষ্ট। লিওনেল মেসির চোখের জল আর মুখের হাসিতে টিকে থাকার স্বস্তি, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের উচ্ছ্বাস ধরা পড়ছিল। ম্যাচের শুরুর দিকে পেনাল্টি মিস করার পর পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন, বাইরে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল উদ্বেগ আর ভেতরে? আর্জেন্টাইন মহাতারকা নিজেই বললেন, রাগে ফুঁসছিলেন তিনি।
আটলান্টায় ৭ জুলাই শেষ ষোলোর ম্যাচে তখন আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে পিছিয়ে। নিকোলাস তালিয়াফিকোকে ফাউল করায় পেনাল্টি পেল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। মেসির শট ফিরিয়ে দিলেন মিশরের গোলরক্ষক।
আসরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার স্পট কিকে ব্যর্থ হলেন মেসি। সব মিলিয়ে চতুর্থবার। বিশ্বকাপে আটটি পেনাল্টি শট নিয়ে গোল করতে পারলেন কেবল চারবার।
গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসির পেনাল্টি মিস করার প্রভাব ম্যাচে পড়েনি তেমন একটা। তবে মিশরের বিপক্ষে চড়া মাশুল দিতে বসেছিল দল। দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল ২-০ ব্যবধানে।
দল ৭৮ মিনিট পর্যন্ত এই ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায়, স্বাভাবিকভাবেই হারের শঙ্কা তখন উঁকি দিচ্ছিল আর্জেন্টাইনদের অনেকের মনেই। কিন্তু শেষের আগে তো হার মানতে নারাজ এই দলটি। ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে তিন গোল করে জয়ের আনন্দে মাতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নায়ক মেসিই। ৭৯তম মিনিটে তার অ্যাসিস্ট থেকেই ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। সমতা টানা গোলটি নিজে করেন মেসি। আর যোগ করা সময়ে এন্সো ফের্নান্দেস গড়ে দেন ব্যবধান।
২০১৮ আসরে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম পেনাল্টি মিস করেন মেসি। গত আসরে পোল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়বার। ম্যাচের প্রেক্ষাপটে এবারে ব্যর্থতায় যেন নিজের উপর অনেক বেশি চাপ অনুভব করছিলেন মেসি।
“পেনাল্টি মিস করে খুবই মেজাজ খারাপ হয়েছিল। আবার মিস করে প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। যদি আমি ওই সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারতাম তো সেটা ম্যাচ বদলে দিতে পারত।
“পেনাল্টি ছাড়া বাকিটায় আমরা ভালো খেলেছি। আমরা পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করেছি। ওদের গোলরক্ষক অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করেছে। সৌভাগ্যবশত শেষ দিকে আমি সুযোগ পাই। শুরুতে যা ঘটেছে তার পর এই ছেলেদের সাহায্য করতে পারা খুব বিশেষ কিছু। এটা দলের গর্ব, দৃঢ়তা ও আকাঙ্ক্ষার একটা উদাহরণ। আমি খুব গর্বিত।”