Published : 13 Apr 2026, 09:41 PM
চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুতের পাইকারি এবং খুচরা মূল্যহার সমন্বয়ের প্রস্তাব তৈরি করতে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার।
গত ৯ এপ্রিল জারি করা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এই কমিটি এমন এক প্রেক্ষাপটে গঠিত হল, যখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম নির্ধারণের আইনি কাঠামো গত কয়েক বছরে একাধিকবার বদলেছে।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের এই কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, অর্থ বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব সদস্য হিসেবে আছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনার পর বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্যহার সমন্বয়ের বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবে এই কমিটি।
কমিটি প্রয়োজনে সদস্য নিতে পারবে, প্রয়োজন অনুযায়ী সভা করবে এবং বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের সচিবিক সহায়তা দেবে।
২০২২ সালের শেষে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি, আইন সংশোধন করে ৩৪(ক) ধারা যোগ করা হয়। ওই ধারার মাধ্যমে গণশুনানি ছাড়াই নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির দাম সমন্বয়ের ক্ষমতা সরকারের হাতে যায়।
২০২৩ সালের শুরুতে সরকার ওই ক্ষমতা ব্যবহার করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার যুক্তি দেখিয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ২৭ অগাস্ট বাংলাদেশ অ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করে ওই ৩৪(ক) ধারা বিলোপ করা হয়। তখন সরকার বলেছিল, এর ফলে গণশুনানি ছাড়া নির্বাহী আদেশে দাম নির্ধারণের ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি আবার বিইআরসির প্রক্রিয়ায় ফিরছে।
এতে প্রায় দেড় বছর পর গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য জ্বালানির দাম বাড়ানো বা কমানোর ক্ষমতা আবার বিইআরসির কাছে ফিরে যায়।
এদিকে এলপিজির ক্ষেত্রে বিইআরসি ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে মাসভিত্তিক দর নির্ধারণ শুরু করে। তার আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো করে দাম ঠিক করত। পরে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে নতুন মূল্য ঘোষণার ব্যবস্থা চালু হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আরেক ধাপে ‘জেট এ ১’ ও ফার্নেস অয়েলের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্বও বিইআরসির হাতে যায়। ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা গেজেটে এই ক্ষমতা স্থানান্তরের কথা জানানো হয়েছিল। এর আগে এসব পণ্যের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-বিপিসি।
অন্যদিকে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের দাম এখনও প্রশাসনিকভাবে সরকার নির্ধারণ করে; কার্যকর করে বিপিসি। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এসব পণ্যে স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, তবে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই আছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও সরকার ভোক্তা পর্যায়ে এসব জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
নতুন সংসদ গঠনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ পাস না হলে তাদের আইনি বৈধতা থাকে না। এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যেই বিইআরসি সংশোধন, বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি বিশেষ বিধান রহিতকরণ বিল ছিল।