Published : 14 Apr 2023, 02:53 PM
চুরির অভিযোগে দুই ভাইকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, ১৫ বছরে দুই শতাধিক চুরির সঙ্গে জড়িত তারা।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন, মো. জুলহাস (৩১) ও বিল্লাল হোসেন (২৬)। বৃহস্পতিবার রাতে সাভার ও চাঁদপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান।
তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে এক জোড়া হাতের চুরি, এক জোড়া কানের দুল, একটি চেইন এবং গলিত রূপান্তরিত স্বর্ণসহ মোট ৮ ভরি ১০ আনা স্বর্ণ এবং বিভিন্ন ধরনের চাবি, রেঞ্জসহ চুরি করার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মিরপুর থানার আহাম্মেদনগরে সিরাজুম মুনীরা নামের এক নারীর বাসার তালা ভেঙে আনুমানিক ২৪ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা চুরি করা হয়। পরে সিসিটিভি দেখে জুলহাস ও বিল্লালকে শনাক্ত করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এসব চোরাই স্বর্ণ রাখার অভিযোগে লিটন বর্মণ নামে এক গয়নার দোকানিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার জুলহাস ও বিল্লাল ভোলার লালমোহন উপজেলার আবু কালামের ছেলে। তারা চুরি শুরু করে ছোটবেলায়, ২০০৮ সালের দিকে। এরপর ১৫ বছর ধরে চুরিই করছে।
“তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এই ১৫ বছরে তারা দুই শতাধিক চুরি করেছে। এক জায়গায় চুরি করে তারা অন্য জেলায় চলে যায়। ফলে অধিকাংশ ঘটনায় তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।”
এই সময়ে তারা অন্তত ১০ বার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তিনটি পুরনো মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মহসিন।
১১ বছর বয়সে শুরু, ছোট ভাই গুরু
ওসি বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে জুলহাস বড়, বিল্লাল ছোট। বয়সে ছোট হলেও চুরিতে বিল্লাল ‘বড়’। মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই চুরি শুরু করেন তিনি। পরে তার কাছ থেকেই চুরি শেখেন জুলহাস।
জুলহাস ও বিল্লাল শুধু স্বর্ণ ও নগদ টাকা চুরি করে। কারণ এগুলো সহজেই বহনযোগ্য। আর তারা চুরি করে শুধু দিনের বেলায়।
পুলিশ কর্মকর্তা মহসিন বলেন, “সাধারণত সব চোর রাতের বেলা চুরি করলেও এই দুই সহোদর ব্যতিক্রম। তারা চুরি করে দিনের বেলা। দিনের বেলা সাধারণত যে সময়টায় বাচ্চারা স্কুলে থাকে, সেই সময়টাকেই তারা চুরির জন্য বেছে নেয়। সে সময় ঘরের পুরুষ সদস্যরা অফিসে থাকে। আর মহিলা সদস্যরা বাচ্চার স্কুলে থাকে। ফলে বাসা পুরো ফাঁকা থাকে।
“আগে থেকেই এমন একটি বাসা টার্গেট করে বিল্লাল। পরে জুলহাসসহ গিয়ে সেই বাসায় চুরি করে।”

যে চুরির ঘটনায় এ দুই ভাইকে পুলিশ ধরতে পেরেছে, আহাম্মেদনগরের সেই বাসায় তারা কীভাবে চুরি করেছেন, সেই বিবরণও তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দিয়েছেন।
ওসি বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই বাসার তৃতীয় তলায় ওঠেন জুলহাস, এরপর দরজার তালা ভেঙে ঘরে ঢোকেন। বাসার প্রতিটি আলমারি, ওয়ারড্রোব, ড্রয়ারের তালা ও লক খুলে তিনি ২৪ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা চুরি করেন। এসব কিছু করতে জুলহাসের সময় লাগে মাত্র ৩০ মিনিট।
জামাই করে চুরি, শ্বশুর করে বিক্রি
ওসি বলেন, জুলহাসের শ্বশুর মো. আলাউদ্দিন থাকেন চাঁদপুরের মতলবে। প্রতিবার চুরি করার পরপরই শ্বশুর বাড়ি চলে যান জুলহাস।
“জামাইয়ের এই পেশার কথা শ্বশুরের অজানা নয়। তিনি এতে বাধা তো দেনই না, উল্টো সহযোগিতা করেন। জামাই জুলহাস স্বর্ণ চুরি করে তা শ্বশুরের হাতেই তুলে দেন। আর শ্বশুর সেই স্বর্ণ বিক্রি করেন।”
মিরপুর থেকে চুরি করা স্বর্ণও জুলহাস তার শ্বশুরের হাতেই তুলে দিয়েছিলেন। শ্বশুর সেই স্বর্ণ চাঁদপুর উত্তর মতলবের ছেঙ্গারচর বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে বিক্রি করে দেন।
চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ সেই গয়নার দোকানিকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও শ্বশুর আলাউদ্দিন পালিয়ে গেছেন বলে জানান ওসি।