Published : 02 Oct 2025, 05:39 PM
বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্য ছেড়ে কৈলাশে (স্বামীগৃহে) ফিরে যাচ্ছেন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে। ভক্তরা পথে পথে নেচে-গেয়ে বিদায় জানাচ্ছেন মহিষাসুরমর্দিনীকে।
ষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের যে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছিল, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার।
সে কারণে বিজয়া দশমীর দিনটি ভক্তদের কাছে একদিকে যেমন উৎসবের, অপরদিকে বেদনার।

বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলাশীর মোড় এলাকায় জড়ো হতে থাকে নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পূজা কমিটির ট্রাক, তাতে করে নিয়ে আসা হয় দেবীর প্রতিমা।
শঙ্খনাদ-উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাকের বাদ্য, আর সধবাদের সিঁদুর খেলার আচারে দেবীদুর্গাকে অশ্রুভেজা ভালোবাসায় বিদায় জানান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
বিকাল পৌনে ৪টায় শোভাযাত্রাটি পলাশীর মোড় থেকে রওনা করলে পথের দুই দিকে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ভক্ত উলুধ্বনিতে বিদায় জানান। কেউ কেউ স্লোগান দেন– 'বলো দুগগা কি জয়', 'আসছে বছর আবার হবে'।
কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও অনেকে যোগ দেন শোভযাত্রায়।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, শিববাড়ি আবাসিক এলাকার শিবমন্দির দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটি, তেজগাঁ শাহীনবাগ সার্বজনীন পূজা কমিটি, আজিমপুর সরকারি আবাসন পূজা কমিটি, তেজাগাঁও ফার্ম সরকারি প্রাথমিক হিন্দু কল্যাণ সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়লয় আবসিক এলাকার রামকৃষ্ণ ধর্ম সভা, শাহজাহানপুর রেলওয়ে সার্বজনীন পূজা মন্দিরসহ অন্তত শতাধিক ট্রাকে করে শোভাযাত্রায় যোগ দেন।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, "সবাইকে নিয়ে আমরা দুর্গোৎসবে মেতেছিলাম। দেবীর কাছে আমরা প্রার্থনা করেছি। দেবী ফিরে যাচ্ছেন কৈলাশে, আবার ফিরবেন এক বছর পর। সবাইকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাই।"

দশমীর দিন সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে চলে দেবীরা আরাধন। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ৯টার পর থেকে দশমীর বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
পরে দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জন হয়। দুপুরে শুরু হয় সধবাদের সিঁদুর খেলা। এ সময় আনন্দ-উল্লাসে মাতেন দেবীর ভক্তরা।
আনন্দ উৎসবের এই লগ্ন শেষ হবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। ফের দেবীকে মর্ত্যের পৃথিবীতে আমন্ত্রণ জানাতে অপেক্ষা করতে হবে এক বছর।
পলাশীর মোড় থেকে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের শোভাযাত্রাটি পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। এছাড়া, আশুলিয়া, বছিলাসহ অন্যান্য জায়গাতেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ‘পিতৃগৃহ’ থেকে পুত্র-কন্যা নিয়ে দুর্গা ফিরে যাচ্ছেন কৈলাসে তার ‘স্বামীর’ ঘরে। এক বছর পর নতুন শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে।
মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দশভূজা দেবী দুর্গা; বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব।
এবার ঢাকায় ২৫৯টি এবং সারাদেশে মোট ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা হয়েছে।