Published : 03 Feb 2026, 09:44 PM
সীমিত পরিসরে উদ্বোধনের মাধ্যমে আগামী সপ্তাহে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
তার আগে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের এ জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “উচ্ছেদ হওয়া স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সাবেক সরকারি বাসভবন গণভবনকে রূপান্তর করে এই জুলাই জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার আগেই মঙ্গলবার প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।”
পরিদর্শনের শুরুতে কূটনীতিকরা শেখ হাসিনার শাসনামলে ‘শহীদ’ হওয়া প্রায় চার হাজার মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জাদুঘরটির উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও তাৎপর্য সম্পর্কে কূটনীতিকদের অবহিত করেন।
তিনি বলেন, “এই জাদুঘরের মূল ভাবনা হল‒এ ধরনের দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি যেন শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর কোথাও না ঘটে।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বলেন, “এই জাদুঘর শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামের প্রতিফলন।”
তিনি বলেন, “জাদুঘরটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের চূড়ান্ত পর্ব তুলে ধরেছে, একই সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে চলা দুঃশাসনের উপাদানগুলোকেও তুলে ধরেছে।”
জুলাই জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব কূটনীতিক ও অতিথিদের জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনী ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত করেন।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, “জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। এটি অনুপ্রেরণাদায়ক এবং একই সঙ্গে ইতিহাস বোঝার গুরুত্ব, গণঅভ্যুত্থান কীভাবে সংঘটিত হয় এবং বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের উৎপত্তি সম্পর্কে একটি শক্তিশালী স্মারক।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, ভুটান, ডেনমার্ক, মিশর, ফ্রান্স, ইরান, ইতালি, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, স্পেন, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিবিদরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এই পরিদর্শনে অংশ নেন।
অন্যদের মধ্যে সরকারের এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব মো. মফিদুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।