Published : 07 Apr 2026, 02:04 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার মামলায় ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
তাদের মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন; বাকি ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
কারাগারে থাকা চার আসামিকে আগামী ১৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন—চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম ও মো. ফিরোজ।
পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিরা হলেন—সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, দেবাশীষ পাল দেবু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
এ মামলায় তিনটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ফারুককে হত্যা; দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্র হত্যা এবং তৃতীয় অভিযোগ জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার অপরাধের অভিযোগ আনা হং।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গুলি করে হত্যা, নির্দেশ, উসকানি ও সহায়তার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।
গত রোববার এ ২২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
পরে প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আমরা একটা ফরমাল চার্জ দাখিল করেছি। সেখানে আমাদের এই তিনটা ফরমাল চার্জ উপস্থাপন করেছি। এক নম্বর চার্জ হল তিনজন শহীদ— মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত, মোহাম্মদ ফারুক। দুই নাম্বার চার্জে আমাদের শহীদ হচ্ছে তানভীর সিদ্দিক, মোহাম্মদ সাইমন ওরফে মাহিন, হৃদয়চন্দ্র তরুয়া।
“আর তিন নম্বর চার্জ হলো আহত হচ্ছেন— জাহিদ হাসান, আব্দুল কাদের ওরফে সাঈদ, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা ঝিনু, আব্দুল্লাহ লুবাব। এই তিনটা চার্জ আমরা এনেছি। এই মামলার সর্বমোট আসামি ২২ জন।”
আসামিদের অপরাধের ধরন বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আপনারা জানেন যে এই আসামিদের উসকানি, ইন্ধন, তাদের নির্দেশনা এবং তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে ছয়জন নিহত হন, তাদেরকে খুন করা হয়; এবং পাঁচজনকে আহত করা হয়। সেই ঘটনা সারা বাংলাদেশে একটা আলোচিত ঘটনা ছিল।
“দীর্ঘ তদন্ত শেষে আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ইনভেস্টিগেশনের পরে রিপোর্ট সাবমিট করা হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে আমরা ট্রাইব্যুনাল টু-তে ফরমাল চার্জ দাখিল করেছিলাম।”
আদালতের আদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে অনারেবল ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রাইমা ফেসি কেস প্রতীয়মান আছে।
“আমরা বিশ্বাস করে আশা করছি যে আমরা সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আজকের যে আনীত চার্জ, আমরা যথাযথভাবে সেটি ট্রাইব্যুনালে প্রতিষ্ঠা করতে পারব এবং আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হব।”
চট্টগ্রামে ওয়াসিম হত্যা: হাছান, নওফেল ও ফজলে করিমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ