Published : 16 Nov 2025, 03:51 PM
বিমানবন্দর এমন এক জায়গা যেখানে ভ্রমণের উত্তেজনা, সময়ের চাপ, দীর্ঘ সারি আর নানান অনিশ্চয়তা মিলেমিশে তৈরি করে চরম ব্যস্ত এক পরিবেশ।
এই বিশৃঙ্খলার মাঝেও শান্ত থাকা, ভদ্রতা বজায় রাখা এবং নিয়ম মেনে চলা শুধু নিজের জন্যই নয়, অন্য সবার ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকেও সহজ করে তোলে।
তবে বাস্তবে দেখা যায়, অনেকে এমন কিছু আচরণ করেন যা অন্যান্য যাত্রীদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
বিমানবন্দরে এমন চারটি কাজ আছে যা যাত্রীরা না করলে সবার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সুন্দর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আধুনিক ভদ্রতা বিশেষজ্ঞ জেনি ড্রেইজেন এবং দীর্ঘদিনের ‘ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট’ এইডেন এই বিষয়ে জানিয়েছেন বিস্তারিত।
অমার্জিত আচরণ বন্ধ করা
ভ্রমণ চাপযুক্ত হতে পারে, এটা সত্যি। তাই বলে চারপাশের মানুষের ওপর রাগ ঝাড়া ঠিক নয়।
জেনি ড্রেইজেন রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “বিমান ভ্রমণ অনেকের জন্য বড় চাপের বিষয়। ফলে মানুষ সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং সেটি অন্যদের ওপর ঝেড়ে দেয়। তবে ভদ্রতা বজায় রাখলে পরিস্থিতি অনেকটা সহজ হয়।”
তিনি মনে করেন, “যদি শুরু থেকেই রাগ নিয়ে এগোন, তখন আর পরিস্থিতি ভালো করা যায় না। তবে শান্ত ও সদয় আচরণ কেবল অন্যদের জন্য নয়, নিজের জন্যও উপকারী।”
বিমানবন্দর কর্মী বা নিরাপত্তাকর্মীরা প্রতিদিন শত শত যাত্রীর সঙ্গে কাজ করেন। তাদের প্রতি রূঢ় আচরণ কেবল তাদের কাজকেই কঠিন করে তোলে না, নিজের যাত্রার অভিজ্ঞতাকেও নেতিবাচক করে।
তাই হাসিমুখে কথা বলা, ধৈর্য ধরা ও শিষ্টাচার বজায় রাখাই শ্রেয়।
নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য পোশাক বাছাইয়ে সতর্ক
যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন, তারা জানেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরীক্ষা কতটা সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তবে অনেক যাত্রী নিজের অজান্তেই সেটিকে আরও কঠিন করে তোলেন ভুল পোশাকের কারণে।
যদি লম্বা লেসওয়ালা বুট, চারটি জ্যাকেট আর অনেক গয়না পরে কেউ আসেন, তাহলে নিরাপত্তা চেক দ্রুত শেষ করা সম্ভব নয়। এতে নিজের ও অন্যদের সময় নষ্ট হয়।
তাই এমন পোশাক পরতে হবে যা সহজে খোলা ও পরা যায়। পকেট ফাঁকা রাখতে হবে, কম পরিমাণে গয়না পরা গুরত্বপূর্ণ। আর এমন জুতো পরতে হবে যা সহজে খুলে ফেলা যায়।
এই সামান্য প্রস্তুতি কেবল নিজের নয়, সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা সবার সময় বাঁচাবে। মনে রাখতে হবে, বিমানবন্দরে কার্যকারিতা মানেই সময় বাঁচানো।
অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত
বিমানবন্দরের বার অনেক সময় যাত্রীদের জন্য বিশ্রামের জায়গা মনে হতে পারে। ‘ফ্লাইট’ বিলম্ব হলে অনেকেই পান করে সময় কাটাতে চান। তবে অতিরিক্ত মদ্যপান বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
জেনি ড্রেইজেন বলেন, “নিজের নিয়ন্ত্রণ হারানো কখনই ঠিক নয়। বিমানবন্দর সারাদিন খোলা থাকে বলেই এটি পানের আসর হয়ে উঠতে পারে না।”
অন্যদিকে, অনেকেই বোঝেন না যে বিমানের ভেতরে অ্যালকোহল শরীরে দ্রুত প্রভাব ফেলে। উচ্চতায় বায়ুচাপ কমে যায়, ফলে একই পরিমাণ পানীয় মাটির তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলে।
তাই বিমানবন্দরে নন-অ্যালকোহলিক পানীয় বা ফলের রসই বেছে নেওয়া উচিত। এতে নিজে স্বস্তিতে থাকা যায় এবং যাত্রীদেরও বাড়তি চাপ পড়বে না।
দেরি করে পৌঁছাবেন না
বিমানের সময়মতো উড্ডয়ন অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে— যাত্রী উপস্থিতি, লাগেজ প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা পরীক্ষা, পাসপোর্ট যাচাই ইত্যাদি।
তাই দেরিতে পৌঁছানো শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো দলের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।
তাই নির্ধারিত উড্ডয়ন সময়ের কমপক্ষে এক ঘণ্টা, পরিস্থিতি অনুসারে তিন-চার ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো উচিত।
অনেকেই মনে করেন, এক ঘণ্টা আগে এলেই যথেষ্ট, তবে বাস্তবে নিরাপত্তা লাইনে অপেক্ষা করতে অনেক সময় লাগে।
উড্ডয়নের এক ঘণ্টা আগে বিমানের ক্রু ও গেট এজেন্টরা প্রস্তুতি শুরু করে দেন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে দেরি করলে পাসপোর্ট যাচাই, ব্যাগ জমা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা— সবই সময়মতো শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেক সময় দেরি করলে গেট এজেন্ট আসন অন্য যাত্রীকে দিয়ে দেয়।
তাই অপ্রত্যাশিত যানজট বা বিলম্বের কথা ভেবে আগেভাগে রওনা দেওয়া জরুরি।
তবে কোনো অপ্রত্যাশিত কারণে দেরি হয়ে গেলে, আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকতে হবে। কারণ এয়ারলাইনগুলো সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীকে পরবর্তী ফ্লাইটে বুক করে দেয়।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন বিমানে দীর্ঘ ভ্রমণে ভালো ঘুম দেওয়ার পন্থা
বিমান যাত্রায় নিজেকে সুস্থ রাখার উপায়