Published : 15 May 2025, 02:51 PM
গ্রীষ্মকালীন ছুটি মানেই ঘুরতে যাওয়ার উত্তেজনা। তবে এর সঙ্গে আসে একটি অদৃশ্য ঝুঁকি। বিশেষ করে বিমান ভ্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়া।
যাত্রীদের ঘনত্ব, পুনঃচক্রিত বাতাস, স্পর্শকাতর স্থান— সবই রোগজীবাণুর বিস্তারের জন্য আদর্শ পরিবেশ।
তবে সুস্থভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়েলনাও আর্জেন্ট কেয়ার’-এর প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. রবার্ট বিয়ার্নবাম এবং ‘গুডআরএক্স’-এর চিকিৎসক ডা. কার্লা রবিনসন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
ভ্রমণের আগে: প্রস্তুতি নিন সময় থাকতেই
“রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান’ ডা. বিয়ার্নবাম রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে এই পরামর্শ দিয়ে বলেন, “ভ্রমণের সময় শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে হলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আগে থেকেই মজবুত রাখা জরুরি।”
আর এজন্য দরকার যথেষ্ট পানি পান, ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম।
ডা. কার্লা রবিনসন যোগ করেন, “এই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো ভ্রমণের ভিড়ে ও বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর জায়গায় সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে।”
ধাপে ধাপে আর্দ্র থাকা: অনেকেই মনে করেন, শুধু যাত্রার আগের দিন পানি পান করলেই চলবে।
তবে ডা. রবিনসন বলেন, “ভ্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগ থেকেই পানি গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলুন। হঠাৎ করে পানি পান করা বাড়ালে তেমন কাজে আসবে না।”
সিট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কৌশলী: ২০১৮ সালে ‘ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডা’র করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জানালার পাশের সিটে বসলে অন্যান্য যাত্রীর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা কম থাকে।
আবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়’য়ের ২০২২ সালের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিমানের পেছনের দিকে বসলে সংক্রমণের আশঙ্কা আরও কম হতে পারে। সুতরাং সিট বুকিংয়ের সময় এসব বিষয় বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখা: ডা. রবিনসনের বলেন, “হালকা জ্বর, ঠাণ্ডা বা কাশি হলে ব্যবহারের জন্য ওষুধ সঙ্গে রাখতে পারেন। আর স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস ও খালি পানির বোতল সঙ্গে রাখলে যাত্রাপথে আর্দ্র থাকা সহজ হয়।”
বিমানবন্দরে বোতল ভর্তি করেই বোর্ডিং করা উচিত।
ফ্লাইট চলাকালীন: অতিরিক্ত সতর্ক থাকা
মাস্ক ব্যবহার: “বিমান ভ্রমণে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস সংক্রমণ,” বলেন ডা. বিয়ার্নবাম।
আরও বলেন, “বিমান যেহেতু পুনঃচক্রিত বাতাস ব্যবহার করে, সেখানে মাস্ক পরা অত্যন্ত কার্যকর।”
ডা. রবিনসন বলেন জানান, “ফ্লু, সর্দি বা করোনা ভাইরাসের মতো সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক একটি কার্যকর অস্ত্র।”
হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজার ব্যবহার: ডা. বিয়ার্নবামের মতে, “প্রতিবার বাথরুম ব্যবহারের পর অবশ্যই সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। পাশাপাশি সঙ্গে রাখতে হবে ট্র্যাভেল সাইজ বা ভ্রমণের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার। আর সেটা নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।”
উচ্চ-স্পর্শ এলাকাগুলো মুছে ফেলা: বিমানের ট্রে টেবিল, সিট বেল্ট, আর্মরেস্টের মতো স্থানগুলোতে জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি।
ডা. বিয়ার্নবাম বলেন, “ডিসইনফেক্টেন্ট ওয়াইপস বা জীবানুনাশক দিয়ে এসব জায়গা মুছে নিন। শুধু শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস নয়, খাবার গ্রহণের জায়গা বা শিশু পালা বদলের জায়গা হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এসব জায়গা।”
ভ্রমণের পর: শরীরের প্রতি মনোযোগ
ভ্রমণ শেষে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। হালকা জ্বর, সর্দি বা শরীরে দুর্বলতা অনুভব করলে বিশ্রাম ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এতে যেমন দ্রুত সুস্থ হওয়া যাবে। তেমনি আশপাশের মানুষও নিরাপদ থাকবে।
পরামর্শ
ভ্রমণ-পরবর্তী সময়ে প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। হালকা ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টাও স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক।
আরও পড়ুন
ছোট সফরের জন্য অতিরিক্ত কিছু নয়
ভ্রমণে গিয়ে খরচ বাঁচানোর পন্থা