Published : 01 Sep 2025, 02:02 PM
বিমানে দীর্ঘ ভ্রমণ অনেক সময় একঘেয়ে ও কষ্টকর মনে হয়। বিশেষ করে ঘুম না হলে যাত্রা যেন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিটে বসে থাকা, ইঞ্জিনের শব্দ, আসনের অস্বস্তি— সব মিলিয়ে অনেকেই বিমানে ঘুমোতে পারেন না।
অথচ সামান্য কিছু প্রস্তুতি নিলে এবং সঠিক মানসিকতা নিয়ে উঠলে বিমানের দীর্ঘ ভ্রমণেও ভালো ঘুম সম্ভব।
এ বিষয়ে সিএনএন ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ঘুমের প্রস্তুতি, মানসিক অবস্থা এবং ভ্রমণের আগে-পরে কিছু অভ্যাস বিমানের ভেতর ভালো ঘুমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা না করা
অনেকেই বিমানে উঠে ঘুমানোর জন্য জোর করেন, যা উল্টো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। ঘুম একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তাই শরীরকে স্বাভাবিকভাবে ঘুমিয়ে পড়তে দিতে হবে।
যদি আগে থেকেই ঘুমের ঘাটতিতে ভোগেন, তাহলে বিমানে ঘুম আসতে আরও দেরি হবে। তাই যাত্রার আগেই পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে নিলে শরীর ও মন বিমানের ভেতরেও সহজে বিশ্রাম নিতে পারে।
ভ্রমণের আগেই বিশ্রাম
যাত্রার আগের দিন যথেষ্ট ঘুমালে ভ্রমণকালে ক্লান্তি ও জেটল্যাগ কম হয়। যদি ক্লান্ত অবস্থায় বিমানে ওঠা হয়, তাহলে ঘুমের অভাব আরও বাড়বে। তাই যাত্রার আগে ঘুম পূর্ণ করা জরুরি।
স্বাভাবিক ঘুমের রুটিন বজায় রাখা
বিমানে ঘুম ভালো হওয়ার জন্য স্বাভাবিক ঘুমের রুটিন বজায় রাখা দরকার। অর্থাৎ, যেদিন রাতে সাধারণত ঘুমান, সম্ভব হলে সেই সময়ের কাছাকাছি সময়ে বিমানে ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত।
ঘুমানোর আগে অন্তত এক ঘণ্টা মোবাইল, ট্যাব বা টিভি স্ক্রিন বন্ধ রাখা ভালো। কারণ ‘স্ক্রিন’ থেকে নির্গত নীল আলো ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন মেলাটোনিন নিঃসরণে বাধা দেয়।
এর পরিবর্তে বই পড়া, হালকা সংগীত শোনা বা ধ্যান করলে ঘুম দ্রুত আসে।
সঠিক আসন বেছে নেওয়া
বিমানে দীর্ঘ ভ্রমণে আসন বেছে নেওয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিমানের টয়লেট বা ক্রুর কাজের জায়গার কাছে বসলে শব্দ ও যাতায়াত বেশি হয়, ফলে ঘুম ভেঙে যায়। তাই যতটা সম্ভব নিরিবিলি আসন বেছে নিতে হবে।
এছাড়া যদি সম্ভব হয়, অতিরিক্ত পায়ের জায়গাযুক্ত আসন নিলে শরীর আরাম পায় এবং ভ্রমণ শেষে কোমরব্যথা বা পিঠের চাপ কম হয়।
অনেকে জানালার পাশের আসন পছন্দ করেন, কারণ সেখান থেকে মাথা ঠেকিয়ে বিশ্রাম নেওয়া যায়।
সঠিক পোশাক নির্বাচন
ঘুম-বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, আঁটসাঁট বা ভারী পোশাকের বদলে ঢিলেঢালা ও নরম পোশাক পরা ভালো। এতে শরীর শিথিল থাকে এবং ঘুম সহজ হয়। গরম বা ঠাণ্ডার জন্য হালকা চাদর বা কার্ডিগান রাখা যেতে পারে।
কানে ও চোখে আরাম
বিমানের ক্রমাগত শব্দ অনেকের ঘুমের প্রধান বাধা। এজন্য কানে লাগানো বিশেষ ‘প্লাগ’ বা আরামদায়ক হেডফোন ব্যবহার করা যায়।
একইভাবে চোখে আলো পড়লে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। এজন্য হালকা, চাপমুক্ত ‘আই মাস্ক’ ব্যবহার করা ভালো।
শরীরকে আরামদায়ক রাখা
ঘাড় ও কোমরে সঠিক ‘সাপোর্ট’ পেলে বিমানে ভালো ঘুম সম্ভব। এজন্য গলার পেছনে আরামদায়ক কুশন বা কোমরে ছোট বালিশ রাখা যেতে পারে।
পা ও রক্তসঞ্চালনের দিকে খেয়াল রাখা
দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে অনেকের পা ফোলা বা ব্যথা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এজন্য মাঝে মাঝে পা নাড়ানো বা আসনের নিচে পা রাখার ছোট স্ট্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে।
এটি রক্ত চলাচল ঠিক রাখে এবং ঘুম আরামদায়ক করে।
পানি পান করা
বিমানে বাতাস শুষ্ক থাকায় শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়। তাই ভ্রমণের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। ঘুমের সময় শরীরকে সতেজ রাখতে নিয়মিত অল্প অল্প করে পানি পান করতে হবে।
তবে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত চা, কফি বা মিষ্টি খাবার খাওয়া উচিত নয়।
ক্যাফিন ও চকলেট ঘুমে বাধা দেয়। আবার অ্যালকোহল খেলে শুরুতে ঘুম এলেও পরে ঘুম ভেঙে যায় এবং ঘুমের ধাপগুলো নষ্ট হয়। তাই বিমানে আরামদায়ক ঘুম চাইলে এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
মানসিক প্রস্তুতি
ঘুমের জন্য শরীরের পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও জরুরি। বিমানে ওঠার আগে যদি মনে হয় ঘুম আসবেই না, তবে সত্যিই ঘুম আসবে না।
নিজেকে আরাম দিতে হবে এবং ইতিবাচক মানসিকতায় ভ্রমণ শুরু করতে হবে। এতে শরীর ও মন দুটোই সহজে ঘুমিয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন