Published : 03 Nov 2025, 12:29 PM
দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ অনেকাংশে থামিয়ে রেখেছে যে নাজুক যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করছে বলে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও শর্ত মেনে আরও তিন জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছে হামাস।
রোববার রেড ক্রসের মাধ্যমে পাঠানো ৩টি কফিন গাজায় থাকা ইসরায়েলি বাহিনী গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়।
শনাক্ত করতে এসব মরদেহ এখন ইসরায়েলে পাঠানো হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী এখনও যে ১১ মরদেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে ইসরায়েলের, এই তিনজন তার মধ্যে থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে। শনাক্ত হওয়ার ইসরায়েলই তা নিশ্চিত করবে।
তেল আবিব বলছে, যুদ্ধবিরতির শর্তে হামাস দ্রুত জিম্মিদের মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তারা মৃতদেহ হস্তান্তর করছে বেশ ধীরগতিতে।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীটি বলছে, খুবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তারা যত দ্রুত সম্ভব জিম্মিদের মৃতদেহ ফিরিয়ে দিতে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে ১০ অক্টোবর থেকে যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তার পূর্ণ বাস্তবায়নের পথে এখনও যেসব বিরোধ বিদ্যমান রয়েছে জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তরের গতি তার একটি।
এর আগে রোববারই ইসরায়েলি বিমান হামলায় উত্তর গাজায় একজন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের সেনাদের ওপর হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া এক জঙ্গিকে নিশানা করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
আল-আহলি হাসপাতাল জানিয়েছে, গাজার শেজাইয়া শহরতলিতে এক সবজি বাজারের কাছে বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছে।
“গাজায় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে এখনও হামাসের পকেট রয়ে গেছে, আমরা ধাপে ধাপে তাদেরকে নির্মূল করছি,” জেরুজালেমে মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যে এ কথা বলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।
হামাস এরই মধ্যে তাদের ভাষায় ইসরায়েলের করা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তালিকা প্রকাশ করেছে।
ফিলিস্তিনি এ গোষ্ঠীর যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে বলে তেল আবিব যেসব অভিযোগ আনছে, হামাস-পরিচালিত গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের পরিচালক ইসমাইল আল থোয়াবতা তা অস্বীকারও করেছেন।
দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি গাজায় সংঘাত অনেকটাই থামিয়ে রেখেছে, যা লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িতে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। ইসরায়েল ভূখণ্ডটির অনেক এলাকা থেকে সৈন্য সরিয়ে নিয়েছে, বেশি বেশি ত্রাণ প্রবেশের সুযোগও করে দিয়েছে।
শর্ত অনুযায়ী এরই মধ্যে ২০ জীবিত জিম্মিকে ছেড়ে দিয়েছে হামাস; তার বদলে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী ও যুদ্ধের সময় আটক প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে তেল আবিব।
যুদ্ধবিরতির আওতায় ২৮ মৃত জিম্মির মরদেহও ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে হামাস, তার বদলে ইসরায়েলও যুদ্ধে নিহত ৩৬০ ফিলিস্তিনির মৃতদেহ ফিরিয়ে দেবে। রোববারের আগ পর্যন্ত ইসরায়েল ১৭ জিম্মির মরদেহ পেয়েছিল।
তবে এর মধ্যেও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ২৩৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই মরেছে গত সপ্তাহের একদিনেই, সেদিন ইসরায়েল তার বাহিনীর ওপর হামলার বদলা নিতে গাজায় হামলে পড়েছিল।
তেল আবিব বলছে, তার তিন সেনা নিহত হয়েছে এবং তারাও পাল্টা হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের নিশানা করে হামলা চালিয়েছে।
গাজা নিয়ে কথা বলতে শনিবার মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ইআয়াল জামিরের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের যে কোনো পদক্ষেপের ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত মানাতে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের পরের ধাপে গাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা সাজাতে দক্ষিণ ইসরায়েলের ঘাঁটিতে ২০০ জনের মতো মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
যদিও ট্রাম্পের প্রস্তাবের পরের ধাপ বাস্তবায়নে অগ্রগতির কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি। হামাসের অস্ত্র সমর্পণ, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের সময়সীমা এবং ভবিষ্যৎ গাজার শাসনব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুতে এখনও পক্ষগুলোর মধ্যে মতদ্বৈততা রয়েই গেছে।