Published : 08 Jul 2026, 08:11 PM
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি অবশেষে সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পথটি নিজের কূটনৈতিক দলের জন্য এখনই বন্ধ করেননি তিনি।
বাস্তবে ইরান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অবস্থান বদলানো অবশ্য এবারই প্রথম নয়। গত চার মাসে শান্তিচুক্তি নিয়ে কখনও কঠোর সামরিক হুমকি, আবার কখনও শান্তির বার্তা দিয়ে বারবার নিজের বক্তব্য পাল্টেছেন তিনি।
ট্রাম্পের সেই অবস্থান পরিবর্তনের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হল:
৮ এপ্রিল: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রথম দফায় দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
২১ এপ্রিল: এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প এবং দ্রুতই আবার ইরানে ‘বোমা হামলা’ শুরু হতে পারে বলে আভাস দেন। তবে নাটকীয়ভাবে একইদিন রাতের দিকে তিনি জানান, পাকিস্তানের অনুরোধে মার্কিন বাহিনীর পূর্বপরিকল্পিত হামলা স্থগিত করা হয়েছে।
৮ মে: ট্রাম্প নতুন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেদিন ইরান থেকে ‘একটি বড় আলোর ঝলকানি’ দেখা যাবে, সেদিনই বিশ্ববাসী বুঝবে যে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।
১১ মে: এর মাত্র তিন দিন পরেই ট্রাম্প মন্তব্য করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি মরণাপন্ন অবস্থায় বা ‘লাইফ সাপোর্টে’ টিকে আছে।
১১ জুন: ইরানকে ‘ভয়াবহ’ আঘাত করার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প আবারও যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেন। যদিও অদ্ভুতভাবে সেই দিন রাতেই তিনি পুনরায় তার সামরিক সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেন।
১৭ জুন: যুদ্ধ অবসানের একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করার ঐতিহাসিক মুহূর্তেও ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, “তারা (ইরান) যদি নিজেদের আচরণ না শুধরায়, তবে আমরা সরাসরি তাদের মাথার ওপর বোমা বর্ষণ শুরু করব।”
৮ জুলাই: সর্বশেষ বুধবার ট্রাম্প আঙ্কারায় চলমান নেটো শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, এই যুদ্ধবিরতির অধ্যায় ‘শেষ’।
তবে একইসঙ্গে দুই পক্ষের আলোচকরা চাইলে পর্দার আড়ালে কথাবার্তা চালিয়ে যেতে পারবেন বলে কিছুটা নমনীয়তা দেখান তিনি।