Published : 08 Jul 2026, 09:27 PM
টানা ভারি বৃষ্টিতে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় বান্দরবানে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের মেয়াদ আরও দুদিন বাড়িয়ে ১২ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অব্যাহত ভারি বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ৬ জুলাই জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এর আগে ৬ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় আবারও বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও দুদিন বাড়ানো হল।
এদিকে বান্দরবানে তৃতীয় দিনের মত থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকালের দিকে আবহওয়া শুষ্ক থাকলেও ১০টার পর আবার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। টানা বৃষ্টির কারণে শহরের মধ্যম পাড়ায় অবস্থিত সাপ্তাহিক মারমা বাজারও বসেনি। সকাল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা খুব একটা দেখা যায়নি।
তবে শহরের বাইরে কোথাও এখনও বড় ধরনের পাহাড় ধসের খবর আসেনি।
জেলা শহর থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও উপজেলা পর্যায়েও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে। শহরের পাশে কালাঘাটা এলাকায় বেইলি ব্রিজ ডুবে যাওয়ায় রোয়াংছড়ি সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারছে।
বান্দরবান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, বান্দরবানে ২৪ ঘণ্টায় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটা মূলত ভারি বৃষ্টিপাত।
তিনি বলেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বুধবার বিকাল ৩টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
ভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, মাতামুহুরী নদীর বিপৎসীমা ১১.৮০ মিটার এবং সাঙ্গু নদীর ১৪.৮০ মিটার। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদী ১১.৯৮ মিটার এবং সাঙ্গু নদী ১৬.০৬ মিটার বিপৎসীমা উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।