Published : 08 Jul 2026, 12:55 AM
প্যারাগুয়ের সেনেটর সেলেস্তে আমারিয়ার সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপের কাদা ছোড়াছুড়ি থামছেই না। দুইজনই করে চলেছেন পাল্টাপাল্টি আক্রমণ।
এবার এমবাপের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়েছেন আমারিয়া। সেইসঙ্গে এমবাপেকে তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এমবাপের বিরুদ্ধে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা ও নারীর প্রতি রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন আমারিয়া।
কিলিয়ান এমবাপেকে ‘উপনিবেশ ক্যামেরুনের একজন’ ও ‘বর্বর’ বলে বর্ণবাদী আক্রমণ করেছিলেন প্যারাগুয়ের সেনেটর সেলেস্তে আমারিয়া।
এরপর তাকে তীব্র ভাষায় পাল্টা জবাব দেন ফরাসি ফুটবল অধিনায়ক এমবাপে। আমারিয়াকে ‘ঘৃণ্য নারী’ উল্লেখ করে, এমবাপে বলেন, ওই পদে থাকার অযোগ্য তিনি।
এরপরই চরম ক্ষুব্ধ হয়ে এমবাপের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিলেন আমারিয়া।
এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে আমারিয়া লেখেন, “আমাকে ঘৃণ্য এবং অযোগ্য নারী বলার আপনি কে, যখন আপনি আমাকে এমনকি ঠিকমত জানেনও না?”
“এটি নির্জলা এবং সোজাসাপ্টা লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা! একজন নারীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা। এমন একজন নারী যিনি জনগণের ভোটে এই পদমর্যাদায় আছে।
“আপনি আমাকে অবজ্ঞা করেছেন বিশেষ করে আমার লিঙ্গের কারণে। আপনি আমাকে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন বিশেষত আমি একজন নারী বলে
“আপনার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিন। আপনার ফরাসি নাগরিকত্বকে সম্মান করুন এবং ক্ষমা চান। নাহলে আমি লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে পারি”, লেখেন আমারিয়া।
এক্সে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে আমারিয়া এও লেখেন যে, তার বিরোধ এমবাপের সঙ্গে, ফ্রান্সের সঙ্গে নয়। তিনি জানান, এমবাপে হয়ত জানেন না তিনি কে। তিনি শৈশব থেকে ফরাসি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং ফ্রান্সের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ফুটবল বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলার আগে ও খেলা চলাকালে এমবাপে উদ্ধত আচরণ করেছেন এবং প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দেরকে অবজ্ঞা করেছেন।
তাছাড়া ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষককেও এমবাপে সম্মান দেখাননি বলেও অভিযোগ করেন আমারিয়া। তার ভাষ্য, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান দেখানো খেলার অন্যতম মৌলিক মূল্যবোধ।
তবে আমারিয়া স্বীকার করেছেন যে, আবেগের বশে দেওয়া আগের পোস্টটি তিনি পরে মুছে ফেলেছেন। তিনি বলেন, নিজের ভাষা নিয়ে অনুতপ্ত হওয়ায় সেটি সরিয়ে দেন।
এক্স-এর আগের একটি দীর্ঘ পোস্টে সেলেস্তা আমারিয়া অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছিলেন এমবাপেকে।
সেখানে তিনি এমবাপেকে বলেছিলেন ‘উপনিবেশ ক্যামেরুনের একজন, যে নিজেকে ফরাসি হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছে’ এবং তাকে লিখতে না জানা ‘বর্বর’ বলে বর্ণনা করেন।
খেলা শেষে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের উচিত ছিল এমবাপেকে চড় মারা, এমন কথাও লিখেন ওই সেনেটর।
এরপর, কড়া ভাষায় পাল্টা বিবৃতি দেন এমবাপেও। সেখানে ফরাসি অধিনায়ক, প্যারাগুয়ের দলের প্রশংসাও করলেও আমারিয়াকে নিয়ে কড়া ভাষায় কথা বলেন।
এমবাপে লিখেছিলেন, “ম্যাডাম সেলেস্তা আমারিয়া, আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং আপনি ওই পদের অযোগ্য। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না, যে দেশটি এই প্রতিযোগিতায় আবেগ ও সম্মানের সাথে লড়াই করেছে।”
“আপনার বেপরোয়া মনোভাব ও নির্লজ্জ বর্ণবাদের কারণে, আপনার খেলোয়াড়দের এই বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা ও তাদের পথচলা গোটা বিশ্ব ইতোমধ্যেই ভুলে গেছে এবং তাদের সামনে এমন একজন অযোগ্য মহিলা জায়গা করে নিয়েছে, যিনি তার দেশের সবচেয়ে খারাপ ভাবমূর্তি তুলে ধরেন।”
বর্ণবাদী আচরণ করা কাউকে ‘স্বাধীনভাবে’ বর্ণবাদ ও ঘৃণা ছড়াতে না দেওয়ার কথাও বিবৃতিতে লিখেছিলেন ৭ গোল করে ফ্রান্সকে কোয়ার্টার-ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এমবাপে।