Published : 24 Jun 2026, 05:17 PM
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুই লেবাননি নিহত হয়েছে।
এর পরপরই লেবাননের ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। এই যুদ্ধবিরতি রোববার থেকে প্রায় কার্যকরভাবে পালিত হয়ে আসছিল।
রোববারের পর থেকে মঙ্গলবারই প্রথম ইসরয়েলি গুলিতে দুইজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহের আল-ফাওকা এলাকার আল-দিয়ের মহল্লায় বুলডোজার দিয়ে একটি সড়ক পরিষ্কার করা হচ্ছিল আর কাছেই একদল লোক দাঁড়িয়ে ছিল, ইসরায়েলি বাহিনী ওই লোকগুলোর দিকে গুলি ছোড়ে।
পরে এ ঘটনার বর্ণনায় ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, একটি বুলডোজার ও আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা চার ব্যক্তির দিকে সতর্ক করে গুলি ছোড়ে তারা। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযোগ, দক্ষিণ লেবাননের যে এলাকাগুলো তাদের সেনারা এখনও অধিকার করে আছে ওই বুলডোজার ও মোটরসাইকেল সেখানকার সীমানা অতিক্রম করে ঢুকে পড়েছিল। তারা এদের ‘বেসামরিকের ছদ্মবেশে থাকা হিজবুল্লাহর সন্ত্রাসী’ বলে বর্ণনা করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী আরও জানায়, ওই লোকজন এগোনো অব্যাহত রাখলে ‘হুমকি অপসারণের লক্ষ্যে আরও গুলি চালানো হয়’।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, আলি আল-তাহের খাদ এলাকায় পৃথক আরেক ঘটনায় তারা সেনাদের জন্য ‘আসন্ন হুমকি হয়ে ওঠা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ওপর আঘাত হেনেছে’। দুটি জায়গায়ই দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় অবস্থিত।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুই বেসামরিক নিহত হয়েছে। বিবৃতিতে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। তবে তারা এর জবাব দেবে কি না, তা নিয়ে কিছু বলেনি।
জাতিসংঘের জেনিভা দপ্তরে নিয়োজিত ইরানি রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেইনিকে এই ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, লেবাননে সমঝোতা স্মারকের যে কোনো লঙ্ঘন শান্তি আলোচনার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের জেরে ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়। ওই সময় হিজবুল্লাহ ইরানের পক্ষ নিয়ে ইসরাইলে রকেট নিক্ষেপ করলে ২০২৪ সালের পর থেকে ইসরায়েল দ্বিতীয়বারের মতো লেবাননে ব্যাপক হামলা শুরু করে। তারপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়, রোববার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই বন্ধ আছে।
যুদ্ধবিরতি কতোটা কার্যকর থাকবে তা নিয়ে উদ্বেগ ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের অনেক ভেতরে অবস্থান নিয়ে থাকলেও এই অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিস্থিতিতে উৎসাহিত হয়ে বাস্তুচ্যুত লোকজন দক্ষিণ লেবাননে তাদের ঘরবাড়িতে ফেরা শুরু করেছে। ঘরমুখি এসব মানুষের স্রোতে দক্ষিণমুখি সড়কগুলো গাড়ির জ্যাম লেগে গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর লেবানন যুদ্ধ দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে। এর কারণ ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সমঝোতা চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে লেবাননে ইসলায়েলি হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল তেহরান। তাদের দাবির মুখে ওয়াশিংটন লেবাননে ইসরায়েলি হামলার লাগাম টানার প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়েছে।
ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অবসানে হওয়া বৃহত্তর আলোচনার ভাগ্য লেবানন যুদ্ধের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
পারমাণবিক পরিদর্শন, সম্পদ জব্দ নিয়ে মতবিরোধে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান