Published : 24 Jun 2026, 10:10 AM
যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির সবগুলো প্রধান দিক নিয়ে পরস্পরবিরোধী বিবরণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এগুলোর মধ্যে পারমাণবিক পরিদর্শন ও সম্পদ জব্দ নিয়ে পক্ষ দুটির মধ্যে স্পষ্টতই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ‘অনন্ত সংখ্যক’ পারমাণবিক পরিদর্শনে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু তেহরান বলছে, আলোচনায় এমন কোনো ছাড় দেয়নি তারা।
এতে তাদের মধ্যে হওয়া নড়বড়ে শান্তি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, জানিয়েছে রয়টার্স।
এই দুই দেশ সুইজারল্যান্ডে প্রথম পর্বের আলোচনায় মিলিত হয়েছিল যা সোমবার শেষ হয়। কিন্তু তারা ইরানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননে ইসরায়েলের সমান্তরাল যুদ্ধ নিয়ে তাদের সমঝোতার বিষয়ে পরস্পর বিরোধী বিবরণ দিচ্ছে আর তাতে যুদ্ধ শেষ করতে হওয়া সমঝোতা চুক্তির সবগুলো প্রধান দিক নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
তারপরও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা মসৃণভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেইনিয়ায় তিনি এক সমাবেশে বলেছেন, “আমরা বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে চলছি।”
সমঝোতা চুক্তিটিতে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তেহরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে জব্দ ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে। এতে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিলের রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে।
এই রূপরেখায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচীর ওপর কোনো সীমা আরোপ করেনি বরং এই বিষয়টি ৬০ দিনের আলোচানায় সমাধান করার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের অনন্ত সংখ্যক পরিদর্শনের বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
“ইরান সুদূর ভবিষ্যতে (অসীম!!!) সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারমাণবিক পরিদর্শনে পুরোপুরি ও সম্পূর্ণভাবে সম্মত হয়েছে,” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন ট্রাম্প।
তাদের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে কোনো আলোচনা হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ফের তাদের দেশে আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়নি।

এই দুই পক্ষ বিদেশের একাউন্টগুলোতে জব্দ থাকা ইরানি তহবিলে দেশটির প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ের বিস্তারিত নিয়েও একমত হতে পারেনি।
ট্রাম্প বলেছেন, যেকোনো অবমুক্ত সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও ওষুধ কিনতে ব্যবহার করা হবে। অপরদিকে জাতিসংঘের জেনিভা দপ্তরে নিয়োজিত ইরানি রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেনি বলেছেন, ওই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে সিদ্ধান্ত নেবে ইরান।
ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিতে রাজি হয়ে তেহরানকে তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রির ও সেগুলোর জন প্রদান করা অর্থ গ্রহণ করার অনুমোদন দিয়েছে।
ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবল টিমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দলটিকে পরবর্তী খেলার একদিনের বদলে দুদিন আগেই মেক্সিকোর তিহুয়ানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
লেবাননের ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সমান্তরাল যুদ্ধ আর একটি বিতর্কিত বিষয় হয়ে রয়েছে। বাহরেনি বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলকে লেবানন থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘নিরাপত্তা জোন’ বজায় রাখবে আর ইসরায়েলের সেনা ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে হুমকিগুলো ‘নির্মূল’ করা অব্যাহত রাখবে।
এমনকি মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পরও এদিন দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই লেবাননি নিহত হয়েছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স এ হত্যাকাণ্ডের কথা জানানোর পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে যা রোববার থেকে প্রায় সফলভাবে কার্যকর হয়ে আসছিল।
আরও পড়ুন:
পারমাণবিক কেন্দ্রে ‘অনির্দিষ্টকাল’ পরিদর্শন নিয়ে ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল ইরান
ইসরায়েল-লেবানন নতুন দফা আলোচনা শুরু
ইরানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: চার দশকের 'জট' খোলা সহজ হবে না
সুইজারল্যান্ডের আলোচনা থেকে হঠাৎ কেন বেরিয়ে গেল ইরানি প্রতিনিধি দল