Published : 23 Jun 2026, 10:50 PM
ইরান তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তর্জাতিক আনবিক সংস্থার (আইএইএ) অস্ত্র পরিদর্শকদের পরিদর্শনের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন তা নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।
ট্রাম্পের আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও দাবি করেছিলেন যে, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিয়ে সুইজরল্যান্ডে প্রথম দফার আলোচনার পর পূর্বশর্ত হিসাবে ইরান আবার পারমাণবিক কেন্দ্রে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে।
তবে ইরান এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, তারা সুইজারল্যান্ডের বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা শুরু করেনি এবং আইএইএ’র অস্ত্র পরিদর্শকদের পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে রাজিও হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মঙ্গলবার বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে কোনও বৈঠক করেননি। এমনকি জাতিসংঘের এই আণবিক শক্তি সংস্থাকে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনাও তেহরানের নেই।
তবে ইরানের এই বক্তব্যকে মঙ্গলবার ‘প্রতিবাদ এবং ভুল বিবৃতি’ আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ইরান সূদূর ভবিষ্যতে (অনির্দিষ্টকালের জন্য) সর্বোচ্চ স্তরে পারমাণবিক অস্ত্র পরিদর্শনের বিষয়ে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছে।”
২০২৪ সালে মিশরের রাজধানী কায়রোয় আইএইএ-র সঙ্গে চুক্তি সই করেছিল ইরান। সেই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে পরিদর্শকদের যেতে দেবে বলে জানিয়েছিল আইএইএ। কিন্তু ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার পরবর্তী সময়ে এই অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
গত বছরের গত ১৩ জুন রাতে ইরানের রাজধানী তেহরান এবং একাধিক পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান।
এর কয়েকদিন পর ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্র, ফোরদো, নাতাঞ্জ এবং ইস্পাহানে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনায় পর ৮ এপ্রিল অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন ও তেহরান। ১৭ জুন ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (মউ) সই করেন।
এরপরই চূড়ান্ত চুক্তি করতে সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের উচ্চ প্রতিনিধি পর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত সোমবার সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফা আলোচনার পরই ট্রাম্প এবং জে ডি ভ্যান্স আইএইএ পরিদর্শকদের কাজে ফেরার অনুমতি দিতে ইরানের রাজি হওয়া এবং এই সিদ্ধান্ত ‘মার্কিন জনগণের জন্য বড় মাইলফলক’ বলে দাবি করেন।