Published : 23 Jun 2026, 03:24 PM
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক থেকে ইরানের প্রতিনিধি দলের আকস্মিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কলিবফ।
লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলাকে কেন্দ্র করে শনিবার ইরানের হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে ফের হামলা শুরু করার হুমকির কারণে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে রোববার কাতারি মালিকানাধীন সুইস পর্বত ব্যুরগেনস্টকের রিজোর্টে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল।
লেবাননে লড়াই বন্ধের প্রতিশ্রুতি পালনে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে, এমন কারণ দেখিয়ে ইরান আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম অবগত একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায়, ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পর যেখানে আলোচনা হচ্ছিল ইরানি প্রতিনিধি দল সেই ঘরে ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত থাকে।
মঙ্গলবার এক্স এ এক পোস্টে বৈঠক কক্ষের ভেতরের পরিস্থিতি বর্ণনা করে কলিবফ বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই আমরা সভাকক্ষে প্রবেশ করে আলোচনা শুরু করেছিলাম। কোনো রকম মতবিরোধ ছাড়াই আলোচনা বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিল। আমরা যখন আলোচনার প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, ঠিক তখনই জানতে পারি যে আমাদের বৈঠকের মাঝেই ট্রাম্প আমাদের প্রতিনিধি দল ও প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে চরম হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, এমনকি আমাদের দেশে হামলারও হুমকি দিয়েছেন।”
“ঠিক তখনই আমি মি. ভ্যান্সকে বলি, মি. ভ্যান্স, আমরা এখানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করছি এবং এই চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে আমরা ইতিমধ্যেই স্বাক্ষর করেছি, যেখানে স্পষ্ট বলা আছে কোনো ধরনের হুমকি বা বলপ্রয়োগ করা যাবে না। কিন্তু আজ আপনার প্রেসিডেন্ট সেই হুমকি ও বলপ্রয়োগেরই আশ্রয় নিলেন। আপনার জানা উচিত, কোনো ধরনের হুমকি বা বলপ্রয়োগের মুখে আমরা কখনোই আলোচনা করি না।
“এরপরই আমরা আলোচনার সমাপ্তি টেনে বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসি। আমরা আর ফিরে যাইনি। এমনকি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের একটি প্রস্তাবও আমরা প্রত্যাখ্যান করি এবং অধিবেশন ত্যাগ করি।
“অবশ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্বরত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলতে আসেন। আমরা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি। তাদের কিছু বিষয়ে বক্তব্য ছিল এবং আমরা তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিই, আমরা আপনাদের সঙ্গে কথা বলব, তবে এই মুহূর্তে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা করব না।
“তাই এর আগের ৮০ মিনিটে যা আলোচনা হয়েছিল, আমরা তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করি। সেই সারসংক্ষেপটিই পরবর্তীতে আমাদের দুই মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতি হিসেবে প্রকাশ করা হয়।”
এই আলোচনার পর শান্তি চুক্তির সম্ভাবনাকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যা সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া শুরু হয়েছে। পশ্চিম এশিয়াজুড়ে শত্রুতা শেষ করার লক্ষ্যে দুপক্ষের মধ্যে হওয়ার সমঝোতা চুক্তির আওতায় লেবাননে লড়াইয়ে একটি টেকসই বিরতি শুরু হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।