Published : 23 Jun 2026, 11:53 PM
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন করে পঞ্চম দফার আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে মঙ্গলবার এই বৈঠক হচ্ছে।
লেবাননের কর্মকর্তারা ইসরায়েলের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করার ওপর জোর দিচ্ছেন। তারা বলছেন, ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল লড়াই বন্ধের এটিই একমাত্র পথ।
দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল।
তারপর গত ২ মার্চ ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালায় লেবাননের হিজবুল্লাহ। এরপর ইসরায়েলের প্রত্যাঘাতে লেবাননে এখনও পর্যন্ত চার হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি করার আগে তেহরানের শর্ত ছিল, লেবাননেও ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হতে হবে। সেই মতো সমঝোতাচুক্তিতে শর্তটি রাখাও হয়।
এতে হিজবুল্লাকে স্বস্তি পেলেও অস্বস্তি বাড়ে লেবানন সরকারের। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও অন্যান্য নেতারা অভিযোগ করে বলতে থাকেন, লেবাননকে ইরান দর কষাকষির হাতিয়ার করতে পারে না।
লেবানন সরকার মনে করছে, ইসরায়েলের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনাতেই সমাধান মিলবে। এর আগে গত এপ্রিল মাস থেকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চার বার আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু কোনও সমাধান বেরিয়ে আসেনি।
তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর এ সপ্তাহে লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের হামলা কিছুটা থিতিয়ে এসেছে।
মঙ্গলবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, “আজ এবং আগামী দিনগুলোতেও আমরা নতুন দফা আলোচনা চালিয়ে যাব।
“সেইসব আলোচনা থেকে আমাদের দেশ ও জনগণের ভালর জন্য আমরা যা প্রত্যাশা করি তা অর্জনে চূড়ান্ত কোনও সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে আমরা আশা করি।”
মঙ্গলবারের বৈঠকে লেবানন ও ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন এবং দুইদেশের রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর।
এরপর বুধ ও বৃহস্পতিবারে এই দুটি বিষয়ের ওপর আলাদা আলাদা বৈঠক হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, “আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য হল সহিংসতার চক্র চিরতরে শেষ করে দেওয়া।
“আমরা শান্তি ও নিরাপত্তার পথ খুঁজে পেতে ইসরায়েল এবং লেবাননকে দুটি আলাদা সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে আলোচনার টেবিলে এনেছি।”