Published : 15 Jul 2026, 05:04 PM
ছুটিতে ঘুরতে যাওয়া যতটা আনন্দের, ভ্রমণের আগে ব্যাগ গোছানো বা প্যাকিং করা ততটাই ঝামেলার। শেষ মুহূর্তে কী নেব আর কী বাদ দেব— এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েই অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
তার ওপর সব জিনিস ব্যাগে ঢুকিয়ে চেইন টানতে গিয়ে যখন দেখা যায় চেইন লাগছেই না, তখন মেজাজটাই বিগড়ে যায়।
তবে ব্যাগ গোছানোর সঠিক পদ্ধতি এবং কিছু পেশাদার কৌশল জানা থাকলে এই ঝক্কি এক নিমেষেই দূর করা সম্ভব।
রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে, মিলান-ভিত্তিক লাক্সারি ট্রাভেল ব্র্যান্ড ‘মাই স্টাইল ব্যাগস’-এর প্রতিষ্ঠাতা লরেঞ্জা বেলোরা, যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ট্রাভেল প্যাকার ব্রায়ানা অ্যাপল এবং লাগেজ ডিজাইনার নিকলাস অপারম্যানের দেওয়া এমন ১২টি কৌশল নিচে তুলে ধরা হল, যা ব্যাগের ভেতরের জায়গা বাঁচাবে দ্বিগুণ।
সঠিক ব্যাগ বেছে নেওয়া
ভ্রমণের দিন এবং ধরনের ওপর নির্ভর করে ব্যাগ বেছে নিতে হবে। দীর্ঘ ছুটি বা বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম থাকলে চেম্বার বা পকেটযুক্ত মাঝারি থেকে বড় সাইজের লাগেজ উপকারী। আর সপ্তাহের শেষে ছোটখাটো ভ্রমণ হলে, একটি মজবুত ডাফেল ব্যাগ বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
তবে ব্যাগ বের করার আগে কী কী নেওয়া হচ্ছে, তা এক জায়গায় জড়ো করে পরিমাণটা দেখে নেওয়া ভালো।
ভ্রমণের পরিকল্পনা অনুযায়ী পোশাক বাছা
ভ্রমণের প্রতিদিনের রুটিন কেমন হবে, সেটা মাথায় রেখে পোশাকের সেট মেলানো উচিত। অহেতুক বাড়তি কাপড় নিয়ে ব্যাগ ভারী করার কোনো মানে হয় না। পোশাক যত সাধারণ রাখা যাবে, তত কম ব্যাগ গোছাতে হবে।
গয়না, স্কার্ফ বা সানগ্লাসের মতো অনুষঙ্গ দিয়ে একই পোশাককে ভিন্ন ভিন্ন দিনে নতুন ‘লুক’ বা সাজ দেওয়া যায়।
ডিজাইনার নিকলাসের মতে, “ব্যাগে জায়গা পাওয়ার যোগ্য কেবল দুটি জিনিস, যা বহুমুখী এবং যা জরুরি।
প্রিয় পোশাককে প্রাধান্য দেওয়া
ভ্রমণে পরার জন্য যদি নতুন কোনো পোশাক, জুতা বা বিশেষ কোনো ব্যাগ কেনা হয়, তবে সেটিকে ঘিরেই অন্য দিনের পোশাক মেলানো ভালো। এতে পোশাকের পুনরাবৃত্তি করা সহজ হবে এবং ব্যাগের জায়গা বাঁচবে।
দিন এবং রাতের পোশাকের ভাগ
ব্যাগ গোছানোর সময় প্রথমে দিনের বেলার পোশাকগুলো গুছিয়ে তারপর রাতের পোশাক, অন্তর্বাস এবং ‘নাইটওয়্যার’ আলাদাভাবে একের পর এক স্তরে রাখতে হবে। এতে ব্যাগের ভেতর সব কিছু ছড়ানো-ছিটানো থাকবে না।
ভারী জিনিস নিচে রাখা
প্যাকিং করার সময় সব সময় ভারী ও বড় জিনিসগুলো, যেমন: জিন্স প্যান্ট, জ্যাকেট বা সোয়েটার আগে ব্যাগের নিচের দিকে রাখতে হবে। এর ওপর তুলনামূলক হালকা কাপড়গুলো একটার সঙ্গে আরেকটা মিলিয়ে সাজানো যেতে পারে।
জুতোর ভেতর মোজা লুকানো
মোজা দেখতে ছোট হলেও এগুলো ব্যাগের অনেকটা জায়গা নষ্ট করতে পারে। বুদ্ধিমানের কাজ হল, মোজাগুলো সুন্দর করে গোল করে গুটিয়ে জুতার ভেতরের ফাঁকা জায়গাটুকুতে ঢুকিয়ে দেওয়া। এতে জুতোর আকারও নষ্ট হবে না এবং জায়গাও বাঁচবে।
ভাঁজ নয়, কাপড় করুন রোল
পেশাদার ভ্রমণকারীদের গোপন কৌশল হল, কাপড় ভাঁজ না করে রোল করা। অন্তর্বাস থেকে শুরু করে টি-শার্ট—সবকিছু শক্ত করে গোল করে রোল করে নিলে ব্যাগে অতিরিক্ত জায়গা তৈরি হয়। আর কাপড়ে কুঁচকানো দাগ পড়ে না।
প্যাকিং কিউবস ব্যবহার
ছোট বা বড় যেকোনো ভ্রমণের জন্যই 'প্যাকিং কিউবস' বা ছোট ছোট জিপার পাউচ ব্যবহার করা উপকারী। এর ফলে পরিষ্কার কাপড়ের সঙ্গে পরা বা নোংরা কাপড়গুলো আলাদা রাখা যায় এবং ব্যাগ থেকে কোনো জিনিস বের করার সময় পুরো ব্যাগ ওলটপালট করতে হয় না।
ক্যারি-অন ব্যাগের ব্যবহার
বিমানে ভ্রমণের সময় লাগেজের ওজন কমানোর জন্য জুতার মতো ভারী জিনিস, হেয়ার ড্রায়ার বা হ্যান্ডব্যাগগুলো হাতের ব্যাগে রাখতে হবে। এছাড়া যে পার্স বা ছোট ব্যাগগুলো সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর ভেতরেই গয়না বা সানগ্লাসের মতো ছোট ছোট জিনিস ঢুকিয়ে রাখার যেতে পারে।
ব্যাগকে একটু ঝাঁকিয়ে নেওয়া
সব জিনিস ব্যাগে ঢুকানোর পরও যদি চেইন না লাগে, তবে একটি গোপন কৌশল খাটানো যেতে পারে।
ব্যাগের চেইন অর্ধেক টেনে লাগেজটি সোজা করে দাঁড় করিয়ে মেঝেতে আলতো করে দুতিন বার ঝাঁকুনি বা বাড়ি দিতে হবে। এতে ব্যাগের ভেতরের কাপড়গুলো নিচের দিকে চেপে যাবে এবং ওপরের অংশে নতুন করে অনেকখানি জায়গা তৈরি হবে।
ফরমাল পোশাকের জন্য গার্মেন্ট ব্যাগ
ব্যবসায়িক ভ্রমণ বা কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য স্যুট, ব্লেজার বা ভারী কাজের পোশাক থাকলে তা মূল লাগেজে না ঢুকিয়ে একটি ‘গার্মেন্ট ব্যাগ’-এ হ্যাঙ্গারসহ রাখা যেতে পারে। এতে পৌঁছানোর পর পোশাকটি ইস্ত্রি ছাড়াই পরার উপযোগী থাকবে।
শপিং করার আগেই প্যাকিং শেষ করা
ভ্রমণে যাওয়ার ঠিক আগে নতুন জামাকাপড় কেনাকাটার অভ্যাস অনেকেরই আছে, যা ‘ওভারপ্যাকিং’য়ের প্রধান কারণ।
তাই আগে আলমারিতে কী কী আছে তা দিয়ে পুরো প্যাকিং শেষ করতে হবে। এরপর যদি সত্যিই কোনো কিছুর অভাব বোধ হয়, তবেই কেবল সেটা কেনা যেতে পারে। এতে বাজেটও নিয়ন্ত্রণে থাকবে, লাগেজও হালকা হবে।
আরও পড়ুন
গোছানো থাকতে প্রতিদিন যা করতে হবে