১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ছোট ব্যাগেই ভ্রমণ: ব্যাগ গোছানোর কৌশল

কিছু কৌশল অবলম্বন করলে ব্যাগের ভেতর জায়গা বাঁচানো যায়।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2025, 05:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:29 PM

ভ্রমণের আগে অনেকগুলো প্রস্তুতির মধ্যে একটি হল ব্যাগ গোছানো। কী নেবেন, কী ছেড়ে যাবেন, ব্যাগে কীভাবে জায়গা বাঁচাবেন, সবকিছু গোছাতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে হুলস্থুল লেগে যায়।

অথচ গোছানোটাও হতে পারে স্টাইলিশ ও চাপমুক্ত। শুধু প্রয়োজন কিছু কৌশল।

মিলানভিত্তিক ‘মাই স্টাইল ব্যাগস’-এর প্রতিষ্ঠাতা লোরেঞ্জা বেল্লোরা, যুক্তরাষ্ট্রের কনটেন্ট নির্মাতা ও পেশাদার প্যাকার ব্রিয়ানা অ্যাপল এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্যাগ নির্মাতা ‘কার্ল ফ্রিডরিক’ -এর সহপ্রতিষ্ঠাতা নিকলাস ওপারম্যান জানিয়েছেন নানান মতামত।

সঠিক ব্যাগ বাছাই

লোরেঞ্জা বেল্লোরা রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “সঠিক ব্যাগ বেছে নেওয়াটা ঠিক সঠিক সফরসঙ্গী বেছে নেওয়ার মতো।”

তিনি বলেন, “ছোট ছুটির জন্য কাঠামোগত ডাফেল ব্যাগ বেছে নেওয়া উচিত। আর দীর্ঘ সফরের জন্য মধ্যম বা বড় আকারের, একাধিক ভাগযুক্ত ব্যাগ ব্যবহার করা শ্রেয়।”

অন্যদিকে, ব্রিয়ানা অ্যাপল বলেন, “আগে কী কী নেওয়া হবে তা এক জায়গায় জড়ো করতে হবে। তারপর দেখতে হবে কী পরিমাণ জিনিস নিতে হবে। শেষে ব্যাগ বাছাই করলে ভালো। বড় ব্যাগ মানেই ভালো, তা কিন্তু নয়।”

ভ্রমণ পরিকল্পনার ভিত্তিতে পোশাক ঠিক করা

অ্যাপল বলেন, “আগে ভ্রমণসূচি দেখে নেওয়া জরুরি। তারপর সেই অনুযায়ী প্রতিদিনের জন্য পোশাক ঠিক করতে হবে।”

কার্ল ফ্রিডরিক-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা নিকলাস ওপারম্যানের মতে, “ব্যাগে শুধুমাত্র দুই ধরনের জিনিস রাখা উচিত। যা একাধিক কাজে লাগে অথবা একেবারে প্রয়োজনীয়। অর্থা, কোনো পোশাক বা জিনিস যদি বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য না হয়, তবে তা রাখার দরকার নেই।”

প্রিয় বা নতুন পোশাককে গুরুত্ব

ভ্রমণের জন্য যদি বিশেষ কোনো জিনিস নেওয়ার ইচ্ছে থাকে যেমন- নতুন জুতা, ব্যাগ বা শার্ট— তাহলে সেগুলোর সঙ্গে মানানসই করে বাকি পোশাক ঠিক করতে হবে।

ব্রিয়ানা অ্যাপল বলেন, “যে জিনিস নিয়ে বেশি আগ্রহ, সেগুলো দিয়েই পরিকল্পনা শুরু করা উচিত। আর অন্যান্য জিনিস এর সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।”

দিনের ও রাতের পোশাক আলাদা

প্রথমে দিনের পোশাক পরিকল্পনা করতে হবে। তারপর রাতের জন্য পোশাক, ঘুমানোর কাপড়, অন্তর্বাস ইত্যাদি ঠিক করা জরুরি। এতে করে কোনো কিছু বাদ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।

ভারী জিনিস আগে রাখা

ব্যাগে প্রথমেই রাখুন ভারী ও মোটা কাপড়। যেমন- জিনস, সোয়েটার। তারপর হালকা ও ছোট পোশাক গুঁজে দিতে হবে। এতে জায়গা বাঁচে এবং ব্যাগ ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।

মোজা গুঁজে দিন জুতোর ভেতর

মোজা খুব ছোট হলেও, তা জায়গা নেয়।

অ্যাপল বলেন, “আমি সবসময় জুতোর ভেতরে মোজা গুঁজে দিই। এতে আলাদা করে জায়গা লাগে না।”

ভাঁজ নয়, গুটিয়ে নেওয়া

ব্রিয়ানা অ্যাপল পরামর্শ দেন, “সবকিছু গুটিয়ে রাখুন—এমনকি অন্তর্বাসও। এতে জায়গা বাঁচে এবং ব্যাগে ঢোকানোও সহজ হয়।”

প্যাকিং কিউব ব্যবহার

নিকলাস ওপারম্যান বলেন, “প্যাকিং কিউব ব্যবহারে শুধু জায়গাই বাঁচে না, পোশাকও থাকে আলাদা ও গোছানো।”

এই কিউবগুলো ভাঁজ কম করে, পরিষ্কার ও পরা পোশাক আলাদা রাখতে সাহায্য করে এবং খোলার পরও সবকিছু সহজে খুঁজে পাওয়া যায়।

ওজন বেশি না হয় তা নিশ্চিত করা

ব্যাগের অতিরিক্ত ওজন মানেই অতিরিক্ত খরচ।

অ্যাপল বলেন, “বাড়িতে ওজন মাপার যন্ত্র না থাকলে ছোট পোর্টেবল ব্যাগ স্কেল কিনে নিতে পারেন। এগুলো দামেও সাশ্রয়ী ও আকারে ছোট।”

তিনি আরও বলেন, “ভারী জিনিস যেমন- জুতা, হেয়ার ড্রায়ার, হ্যান্ডব্যাগ ক্যারি-অন ব্যাগে রাখা ভালো। ব্যাগের ভেতরে যে ব্যাগ নিচ্ছেন, তার মধ্যেও ছোট ছোট জিনিস যেমন— গহনা, চশমা রাখতে পারেন।”

ব্যাগ ঝাঁকিয়ে অতিরিক্ত জায়গা করা

অ্যাপলের মতে, “ব্যাগ বন্ধ করে দাঁড় করান, তারপর নিচের দিকটা মেঝেতে আলতো করে চাপ দিন বা ঝাঁকান। এরপর পাশের দিকেও একই কাজ করুন। দেখবেন ওপরের দিকে জায়গা তৈরি হয়ে গেছে।”

আনুষ্ঠানিক পোশাকের জন্য গার্মেন্ট ব্যাগ

যদি কোনো কর্পোরেট মিটিং বা অনুষ্ঠানে যাওয়া হয়, তবে ‘গার্মেন্ট ব্যাগ’ ব্যবহার করা উচিত।

লোরেঞ্জা বেল্লোরা বলেন, “এতে পোশাক ভাঁজ হয় না, আয়রনের প্রয়োজন পড়ে না এবং হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে সরাসরি পরা যায়।”

কেনাকাটার আগে ব্যাগ গুছিয়ে ফেলা

ভ্রমণের আগে অনেকেই নতুন জামাকাপড় কেনেন।

ব্রিয়ানা অ্যাপল বলেন, “কেনাকাটার আগে পুরো ব্যাগ গুছিয়ে ফেলুন যেন বোঝা যায় কী কী আছে। তারপর প্রয়োজন হলে পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করুন।”

এতে শুধু প্যাকিং সহজ হয় না, বাজেটও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আরও পড়ুন

ঠিকমতো ব্যাগ গোছানোর উপায়

ব্যাকপ্যাক ধোয়ার যত পন্থা

ভ্রমণে গিয়ে খরচ বাঁচানোর পন্থা