Published : 03 Apr 2026, 10:30 AM
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এক খোলা চিঠিতে বলেছেন, ইরানে মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
দিনকয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করার পর বৃহস্পতিবার তাদের এ খোলা চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের লক্ষ্য ও কবে শেষ হতে পারে তার সময়সীমা নিয়ে বারবার অবস্থান বদলানো ট্রাম্প বুধবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেছেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে না নেয় তাহলে তাদের জ্বালানি ও তেল স্থাপনায় হামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
“মার্কিন বাহিনীর কর্মকাণ্ড ও ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন—যার মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধও রয়েছে—সে বিষয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে,” চিঠিতে এমনটাই বলেছেন শতাধিক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ।
এ বিশেষজ্ঞদের অনেকেই হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চিঠিতে বিশেষভাবে মার্চের মাঝামাঝি ট্রাম্পের করা এক মন্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, “কেবল মজা করতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে।”
পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথের করা এক মন্তব্যও চিঠিতে এসেছে। মার্চে মার্কিন এ যুদ্ধমন্ত্রী বলেছিলেন, “যুদ্ধের অর্থহীন সব নিয়মনীতি মেনে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করে না।”
বিশেষজ্ঞদের এ খোলা চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে জাস্ট সিকিউরিটি পলিসি জার্নালের ওয়েবসাইটে।
এতে বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানে এক স্কুলে হামলার ঘটনাকে উল্লেখ করে বলেন, “স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”
গত মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা ইরানে মেয়েদের এক স্কুলে ২৮ ফেব্রুয়ারি চালানো ভয়াবহ হামলার তদন্ত উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে।
ওই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীই সম্ভবত দায়ী বলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। স্কুলে সেদিনের ওই হামলায় দেড় শতাধিক শিশুসহ অন্তত ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট।
ইরানে ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলা হবে বলে ট্রাম্প বুধবারও হুমকি দিয়েছেন।
“আমরা আগামী দুই-তিন সপ্তাহ তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর হামলা করতে যাচ্ছি। আমরা তাদেরকে প্রস্তরযুগে ফিরিয়ে নিতে যাচ্ছি, যেখানে থাকার যোগ্য তারা,” বলেন ট্রাম্প।
ইরানকে ‘প্রস্তুর যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়াসহ ট্রাম্প যুদ্ধের সময় যেসব উত্তেজক কথাবার্তা বলছেন তা ‘মানবতাবিরোধী’, বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি শীর্ষস্থানীয় সংস্থা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে বসলে মধ্যপ্রাচ্যে এবারের এ ভয়াবহ যুদ্ধের সূচনা হয়। ওয়াশিংটন-তেল আবিবের লাগাতার হামলার পাল্টায় তেহরানও নিয়মিত ইসরায়েল, তাদের দখলকৃত এলাকা, উপসাগরের মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান এরই মধ্যে কয়েক হাজার বেসামরিকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, ঘরবাড়িছাড়া করেছে লাখ লাখ মানুষকে।