Published : 21 Jul 2026, 06:28 PM
জুলাই আন্দোলনে নিহত মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে।
শুনানিতে সাবেক এক সংসদ সদস্য ও সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলে এ শুনানি হয়।
ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও তারেক আবদুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।
স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন ও এম হাসান ইমাম কয়েকজন পলাতক আসামির পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন।
আরেক স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম ও অন্যান্য আসামির আইনজীবীদের শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশ এলাকায় চলা হত্যাকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত ২৬ আসামির আটজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন— ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।
মামলার বাকি ১৮ আসামি পলাতক রয়েছেন। এ তালিকায় আছেন ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, উত্তরা বিভাগের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে যুবরাজ, সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডিএম শামীম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ওরফে সাথিল এবং তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ওরফে মিঠু।