Published : 21 Jul 2026, 06:34 PM
ফুটপাতে পানি বিক্রি করা উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাবাকে হজে পাঠানোর ইচ্ছে প্রকাশ করা কিশোর সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার রাজধানীর জিয়া উদ্যানে কিশোর সুজনের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিওতে, ফুটপাথে পানি বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাবাকে হজে পাঠানোর ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে সুজন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি সুজনের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন বলে তথ্য দেন প্রতিমন্ত্রী।
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে আমিনুল হকের পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, সুজন যেন ফুটপাথে পানি বিক্রি না করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে তাকে সোমবার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। অনুদান হস্তান্তরকালে সুজনকে আর কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা কায়িক শ্রমে না পাঠিয়ে নিয়মিত স্কুলে পাঠাতে তার পরিবারের প্রতি অনুরোধ করেন প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে সুজনের পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহনের ঘোষণাও দেন তিনি।
বার্তায় বলা হয়, প্রতিমন্ত্রীর এমন আশ্বাসের পর সুজনের বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি ছেলেকে আর কখনো রাস্তায় পানি বিক্রি করতে দেবেন না। অবিলম্বে তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করবেন।
আমিনুল হক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আলহামদুলিল্লাহ, অত্যন্ত সংবেদনশীল একজন মানুষ। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সমাজের ছোট ছোট মানবিক বা প্রান্তিক বিষয়গুলো সবসময় তার নজর এড়ায় না।
“ক্রীড়াঙ্গনের বা সমাজের যে কোনো মানবিক ইস্যু সামনে এলেই প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে ব্যবস্থা নেওয়ার ও সংশ্লিষ্টদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন দূরদর্শী ও দরদী নির্দেশনায় গত প্রায় পাঁচ-সাত বছর ধরে এই ধরনের অসংখ্য মানবিক কাজ চলমান রয়েছে।”
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, “সুজন পানি বিক্রি করে তার বাবাকে হজ করাতে চায়, এটি অত্যন্ত মহৎ এবং বড় একটি নিয়ত। তবে আমরা চাই সুজন যেন ফুটপাথে পানি বিক্রি না করে, ভালোভাবে পড়াশোনা করে বড় হোক। নিজের যোগ্যতায় উপার্জন করে বাবা-মায়ের এই স্বপ্ন পূরণ করুক।”
সুজনের পরিবারে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবার কষ্টের কথা বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন, এখন থেকে সুজনকে আর রাস্তায় নামতে হবে না। তার পড়াশোনা ও পুরো পরিবারের সুন্দরভাবে দিনযাপনের জন্য প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অংকের আর্থিক অনুদান সরাসরি সুজনের বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।