Published : 08 Jul 2026, 11:05 PM
তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত নেটো সম্মেলনে স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি পুনরায় তোলার মধ্য দিয়ে তালগোল পাকানোর পর শেষমেশ সুর নরম করে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে সম্মেলন শেষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোতে “ভালোবাসা ও প্রচুর ঐক্য” রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার নেটো বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “বৈঠক ছিল দারুণ। কক্ষে অঢেল ভালোবাসা ছিল। প্রচুর ঐক্য ছিল।”
বৈঠকে উপস্থিত এক সূত্র জানিয়েছে, রুদ্ধদ্বার আলোচনায় ট্রাম্প মিত্রদের সমালোচনা করেননি, বরং তাদেরকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আমরা আপনাদের সঙ্গেই থাকতে চাই।” অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র নেটো জোটে থাকার প্রতিশ্রুতিই পুনরায় ব্যক্ত করেছে।
একই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে নেটো সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায়। সেখানে নেটো নেতারা জোটের অনুচ্ছেদ-৫ এ বর্ণিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষার অঙ্গীকারে অটল থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ঘোষণায় বলা হয়, “এক সদস্যের ওপর হামলা মানেই সবার ওপর হামলা।”
তবে সম্মেলনের শুরুটা ছিল ভিন্ন। সম্মেলনের মূল অধিবেশন শুরুর আগে ট্রাম্প ইরান অভিযানে নেটো মিত্রদের সমর্থন না দেওয়ার সমালোচনা করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেন, স্পেনকে ‘ভয়াবহ অংশীদার’ আখ্যা দিয়ে তাদের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দেন এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নেওয়ার দাবি ফের তোলেন।
নেটোর ওপর খুবই অসন্তুষ্ট বলেও ট্রাম্প মন্তব্য করেন। তবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পর ট্রাম্পের অবস্থান বদলে যায়। ইরান নিয়েও ট্রাম্পের ভাষা তুলনামূলক সংযত ছিল এবং বৈঠকের পর তিনি স্পেন বা গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গও আর তোলেননি।
এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল অনেক বেশি গঠনমূলক। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ট্রাম্প মূলত এই বার্তাই দিয়েছেন যে ইউরোপকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে এবং প্রতিরক্ষায় বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। পরিবেশ ছিল ইতিবাচক এবং আলোচনাও ছিল গঠনমূলক।
লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্যকে নেটো জোটের দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার কথায় নেটো দুর্বল হচ্ছে বা ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে বলে আমি মনে করি না।”
ইউক্রেইন যুদ্ধও নেটো সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে অনেকটাই উষ্ণ বৈঠক করেন ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দেন, ইউক্রেইনকে ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিজ দেশে উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়া হবে।
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির কারণে ইউক্রেইনের সেনাবাহিনী চাপে রয়েছে। তবে সাম্প্রতি রাশিয়ার গভীরে হামলা চালানো এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান স্থিতিশীল রেখে ইউক্রেইন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
আঙ্কারা ত্যাগের আগে ট্রাম্পের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করারও কথা রয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি ফেরানোর চেষ্টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।