Published : 10 Jun 2026, 01:38 PM
অন্য সৌরজগৎ থেকে আসা হাতেগোনা কয়েকটি পরিচিত রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুর একটিতে ভিনগ্রহের প্রযুক্তির কোনো চিহ্ন আছে কি না তা খুঁজে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা।
ক্যালিফোর্নিয়ার শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সেখানে কৃত্রিম কোনো সিগনাল মেলেনি। তবে গবেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ভিনগ্রহের প্রাণের চিহ্ন শনাক্ত করতে এ অভিজ্ঞতা বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে।
গেল বছর ‘৩আই/অ্যাটলাস’ আবিষ্কৃত হয়, যা এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক পরিব্রাজক হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এর আগে ‘১আই/ ওউমুয়ামুয়া’ ও ‘২আই/বোরিসভ’ পাওয়া গিয়েছিল।
এ ধরনের বস্তুর বিরল ও অজানা প্রকৃতির কারণে এমন অনুমানও করা হচ্ছে, এগুলো ভিনগ্রহের উন্নত সভ্যতার পাঠানো কোনো মহাকাশযান হতে পারে।
সম্প্রতি ভিনগ্রহের প্রাণ সন্ধানকারী সংগঠন ‘সেটি ইনস্টিটিউট’ বলেছে, তারা বস্তুটিকে গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেখেছে, যা আসলে সাধারণ এক প্রাকৃতিক বস্তু বলেই প্রমাণিত হয়েছে।
তবে গবেষকরা বলছেন, এ অনুসন্ধানটি মোটেও বৃথা যায়নি। ভবিষ্যতে তারা যদি সত্যিই ভিনগ্রহের প্রাণীদের তৈরি কোনো বস্তু পরীক্ষার সুযোগ পান তবে ঠিক কী ধরনের লক্ষণ তাদের নজরে পড়তে পারে তা আরও নিখুঁতভাবে বুঝতে এ গবেষণা সাহায্য করবে।
নতুন এ গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক সোফিয়া শেখ বলেছেন, “একদিন আমাদের নিজেদের তৈরি ভয়েজার মহাকাশযানটিও অন্য কোনো তারামণ্ডলে গিয়ে ভিনগ্রহের এক একটি কৃত্রিম নিদর্শন হিসেবে গণ্য হবে।
“সেই কথা মাথায় রেখে, আন্তঃনাক্ষত্রিক বিভিন্ন বস্তুর স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক রূপ কেমন হয় তা আমাদের ভালো করে বোঝা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কখনও যদি কৃত্রিম কোনো আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তুর দেখা মেলে তবে তার ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য দেখে আমরা সহজেই তা চিনে নিতে পারি।”
গবেষকরা ক্যালিফোর্নিয়ার ‘অ্যালেন টেলিস্কোপ অ্যারে’ ব্যবহার করে দীর্ঘ আট ঘণ্টা ধরে ‘৩আই/অ্যাটলাস’ বস্তুটিকে পরীক্ষা করেছেন। তারা বিভিন্ন কম্পাঙ্কের রেডিও সিগনাল বা বেতার তরঙ্গের ওপর নজর রেখেছিলেন, বিশেষ করে প্রকৃতিতে সাধারণত তৈরি হয় না এমন বিভিন্ন কৃত্রিম তরঙ্গ খুঁজে বের করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
অনুসন্ধানে তারা প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ ‘ন্যারোব্যান্ড সিগনাল’ শনাক্ত করেছেন। এ ধরনের তরঙ্গ কেবল কৃত্রিম প্রযুক্তির মাধ্যমেই তৈরি হওয়া সম্ভব। তবে মানুষের তৈরি করা বেতার তরঙ্গের ব্যাঘাত বাদ দেওয়ার পর এবং আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তুটির গতিপথ অনুসরণকারী বিভিন্ন তরঙ্গকে আলাদা করার পর কেবল দুইশোটি সিগনাল অবশিষ্ট থাকে।
পরবর্তীতে দেখা গেছে, সেগুলোও আসলে আমাদের পৃথিবী বা নিজস্ব স্যাটেলাইট থেকেই আসছিল।
গবেষকরা বলছেন, এ ফলাফল থেকে প্রমাণ মেলে, মহাবিশ্বে যদি সত্যিই এমন কোনো ভিনগ্রহের সিগনাল থেকে থাকে, তবে তা খুঁজে পেতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একইসঙ্গে মহাকাশে কোনো বস্তুর দেখা মিললে তাদের যন্ত্রপাতি কত দ্রুত ও সফলভাবে তা স্ক্যান করতে পারে সেটিও বোঝা গেছে।
গবেষণাপত্রটির সহ-লেখক ভ্যালেরিয়া গার্সিয়া লোপেজ বলেছেন, “৩আই/অ্যাটলাস থেকে পাওয়া ফলাফলে উঠে এসেছে, বর্তমানে আমাদের হাতে যে প্রযুক্তি রয়েছে তা দিয়ে এ ধরনের সিগনাল শনাক্ত করা কতটা বাস্তবসম্মত। এ কারণে টেকনোসিগনেচার বা কৃত্রিম প্রযুক্তির চিহ্নগুলো খুঁজে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যেসব বস্তু থেকে সিগনাল পাওয়ার আশা আমরা করছি না, সেগুলোর ক্ষেত্রেও।”
এ পুরো গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল’-এ।