Published : 09 Jun 2026, 05:17 PM
ঘটনা অনুমিতই ছিল, তারপরও অ্যাপলের সফটওয়্যার প্রধান ক্রেইগ ফেডেরিঘি যখন ঘোষণা করলেন মঞ্চে আসছেন, “দ্য ম্যান, দ্য মিথ দ্য লেজেন্ড টিম কুক”, দর্শকদের সবাই দাঁড়িয়ে গেলেন। অবিরাম করতালি, দর্শকদের ফোনে ছবি তোলার হিরিক আর আনন্দধ্বনির মধ্যেই মঞ্চে প্রবেশ করলেন টিম কুক।
করতালি থামাতে টিম কুককে মোট ১৭ বার ধন্যবাদ জানাতে হয়েছে। শেষে বললেন, “আমি জীবনে এতোগুলো আইফোন একসঙ্গে দেখিনি”।
অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত আয়োজন ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপার কনফারেন্স বা ডব্লিউডব্লিউডিসি শুরু হয়েছে। এবারের আয়োজনটি অন্যবারের চেয়ে একটু আলাদা। সিইও হিসেবে টিম কুকের শেষ ইভেন্ট ডব্লিউডব্লিউডিসি ২০২৬। এরপরই নতুন নেতৃত্বে যাচ্ছে অ্যাপল।
নেতৃত্বের এ পালাবদলের আবহেই অ্যাপল উন্মোচন করেছে গুগলের জেমিনাই মডেল চালিত ‘সিরি এআই’, ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’-এর একঝাঁক ফিচার, নতুন অপারেটিং সিস্টেম ও উন্নত শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা।
বছরের এ বিশেষ সময়টাতে অ্যাপল পার্ক মুখরিত হয়ে ওঠে। অ্যাপল ইকোসিস্টেমের জন্য যারা অ্যাপ ও প্রযুক্তিগত টুল তৈরি করেন সেসব ডেভেলপার ও প্রযুক্তি বিষয়ক সাংবাদিকরা সশরীরে সেখানে জড়ো হন। সবার উদ্দেশ্য একটাই, এ বছরের শেষদিকে অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেমগুলোতে কী কী নতুন চমক আসছে, তা জানা।

বরাবরের মতোই সোমবার অ্যাপলের ডব্লিউডব্লিউডিসি ২০২৬ শুরু হয়েছে মূল বক্তব্যের মধ্য দিয়ে, যেখানে টেক জায়ান্টটির বড় সব ঘোষণার সিংহভাগই উন্মোচিত হয়েছে। ডব্লিউডব্লিউডিসি ইভেন্টটি সফটওয়্যার কেন্দ্রিক আয়োজন।
এবারের ডব্লিউডব্লিউডিসি ২০২৬-এর মঞ্চে অ্যাপল যা যা ঘোষণা করেছে তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক–
সিরি এআই
ইভেন্টটির আগেই প্রযুক্তি বিশ্বে জোর গুঞ্জন ছিল, অ্যাপল এবার তাদের ‘সিরি’কে নতুন করে সাজানোর ওপর বেশি জোর দেবে। এ নতুন সংস্করণের প্রথম ঝলক তারা দেখিয়েছিল ২০২৪ সালের কনফারেন্সেই, তবে তা বাজারে আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে।
এ বছরের জানুয়ারিতে কোম্পানিটি নিশ্চিত করেছিল, গুগলের জেমিনাই মডেলের সহায়তায় আরও ব্যক্তিগত ও কার্যকর সিরি আনছে তারা। সিরি’র এ আপগ্রেডেড সংস্করণের নাম ‘সিরি এআই’ রেখেছে অ্যাপল।
অন্যান্য পরিবর্তনের পাশাপাশি সিরি এআইয়ের ভিজুয়াল বা বাহ্যিক রূপেও কিছু পরিবর্তন আসছে। ‘ডায়নামিক আইল্যান্ড’ থাকা বিভিন্ন আইফোনে কোনো কমান্ড দিলে সিরি’র অ্যানিমেশনটি এখন আর স্ক্রিনের নিচে না দেখিয়ে সরাসরি ডায়নামিক আইল্যান্ডের ভেতরে দেখাবে।
ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টটিকে চালুর জন্য আগের মতোই ‘হেই সিরি’ নির্দেশনা ব্যবহার করা যাবে। তবে আইওএস ২৭-এ স্ক্রিনের মাঝখান থেকে নিচের দিকে সোয়াইপ করলেই সিরি এআইয়ের ইন্টারফেইস চলে আসবে। সেখান থেকে সরাসরি প্রশ্ন বা যে কোনো কিছু সার্চ করা যাবে। সিরি’র বিভিন্ন উত্তর একটি কার্ডের মতো ভেসে উঠবে ও ব্যবহারকারী চাইলে চ্যাটবটের মতো এর সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যেতে পারবেন।
সিরি এআই’কে নির্দিষ্ট ছবি ফ্যামিলি অ্যালবামে যোগ করতে, কনসার্টের টিকিটের লটারির সময় মনে করিয়ে দিতে বা ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচ পার্টির জন্য অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী রান্নার রেসিপি খুঁজে দিতে বলা যাবে। ব্যবহারকারীর বিভিন্ন ডকুমেন্টের ওপর এটি ফিডব্যাকও দিতে পারবে।
পাশাপাশি, সিরি এআইয়ের ভয়েস ডিক্টেশন বা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে লেখার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে অ্যাপল। সিরি’কে আরও আলাপযোগ্য করে তুলতে ‘সিরি চ্যাটবট অ্যাপ’ নিয়ে আসছে কোম্পানিটি, যেখানে ব্যবহারকারী প্রশ্ন, টেক্সট ও ছবি তৈরি, ফাইল অ্যানালাইসিসসহ আরও কিছু করতে পারবেন।
ব্যবহারকারীরা সিরি এআইয়ের গলার আওয়াজ ও কথা বলার গতিও নিজেদের মতো কাস্টমাইজ বা পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। আইওএস, আইপ্যাডওএস এবং ম্যাকওএসের পাশাপাশি সিরি এআই পাওয়া যাবে ওয়াচওএস, ভিশনওএস, কারপ্লে ও এয়ারপডসেও।
প্রাথমিকভাবে সিরি এআই কেবল ইংরেজি ভাষায় পাওয়া যাবে। তবে অ্যাপল বলেছে, খুব শিগগিরই আরও অন্যান্য ভাষা এতে যােগ হবে।
অ্যাপলের তথ্যমতে, “আইওএস, আইপ্যাডওএস, ম্যাকওএসের, ওয়াচওএস ও ভিশনওএস-এ ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘সিরি এআই’ ব্যবহার করতে হলে আইফোন ১৬ বা তার পরবর্তী মডেল, আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, আইপ্যাড মিনি, এম১ বা তার পরবর্তী চিপের আইপ্যাড ও ম্যাক, অ্যাপল ভিশন প্রো, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১০ বা তার পরবর্তী মডেল, অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ২ বা তার পরবর্তী মডেল এবং কাছাকাছি অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সমর্থিত আইফোন থাকলে অ্যাপল ওয়াচ এসই ৩-এর প্রয়োজন হবে।”
অ্যাপলের এ নতুন অপারেটিং সিস্টেমগুলোর ‘ডেভেলপার বিটা’ সংস্করণ মঙ্গলবার থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। এ বছরের শরৎকালে এসব ডিভাইসের ব্যবহারকারীদের জন্য আইওএস, আইপ্যাডওএস, ম্যাকওএস গোল্ডেন গেট’সহ নতুন সব সংস্করণ উন্মুক্ত করবে।

অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স
সিরি এআই’য়ের পেছনের মূল চালিকাশক্তি ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’, যা নিয়েও অ্যাপলের কিছু নতুন ঘোষণা রয়েছে। অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সাফারি, মেসেজেস ও পাসওয়ার্ডসের মতো অ্যাপের নতুন বিভিন্ন ফিচারকে পরিচালনা করবে। নিজেদের এ এআইকে ‘শর্টকাটস’ ও ‘হোম’ অ্যাপেও যোগ করছে অ্যাপল।
সাফারি ব্রাউজারে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারকারীর ওপেন থাকা বিভিন্ন ট্যাবকে বিষয় অনুসারে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সাজাতে পারবে, যা সত্যিই বেশ দরকারী। অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারকারীকে কোনো ওয়েবসাইটের পরিবর্তনের ব্যাপারেও নোটিফিকেশন পাঠাবে।
কোনো পণ্যের দাম কমলে বা স্টক ফিরে এলে বা কোনো কোম্পানির পলিসি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের জানাবে এআই, যাতে আগেই টের পাওয়া যায় যে, কোনো কোম্পানি তাদের পণ্য জোর করে এমন কোনো জেনারেটিভ এআই ফিচার ঢোকাচ্ছে কি না যা কেউ চায়নি। ব্যবহারকারী ঠিক কেমন সাফারি এক্সটেনশন চান তা মুখে বলে দিলেই অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স তার জন্য কাস্টম এক্সটেনশন তৈরি করে দেবে।
দুর্বল বা হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন লগইন আইডি-পাসওয়ার্ডকে ‘পাসওয়ার্ডস’ অ্যাপে কেবল এক ট্যাপেই শক্তিশালী করে দেবে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স। অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড আপডেটও করে দিতে পারবে।
মেসেজেস অ্যাপে থাকছে একটি ‘স্মার্ট রিপ্লাই’ ফাংশন, যা ব্যবহারকারীর লেখার ধরন নকল করে উত্তর লিখে দেবে, যা মেইল অ্যাপের জন্যও প্রযোজ্য। ‘ইমেজ প্লেগ্রাউন্ড’-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জলজ্যান্ত ছবির মতো বাস্তবসম্মত ইমেজ ও লক স্ক্রিন ওয়ালপেপার তৈরি করতে পারবেন।
কোম্পানিটির দাবি, অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারকারীদের ‘ফটোস’ অ্যাপে ‘অসাধারণ এডিটিং’ করতে সাহায্য করবে, যেমন ভার্চুয়ালি একটি ছবির ফ্রেম নতুন করে সাজানো। এর ‘এক্সটেন্ড টুল’ দিয়ে একটি ছবিকে টেনে বড় করা যাবে। অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে তৈরি বা এডিট করা সব ছবিতেই ‘সিন্থআইডি’ জলছাপ থাকবে।
ডিজাইন ও পারফরম্যান্স আপডেট
গত বছরের ওএস আপডেটের মাধ্যমে অ্যাপল ব্যবহারকারীদের ওপর যে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন চাপিয়ে দিয়েছিল, এবার তারা সেখানে কিছু চমৎকার পরিবর্তন আনছে। এ বছরে কোম্পানিটি লিকুইড গ্লাসের ডিফল্ট চেহারায় পরিবর্তন আনছে।
পাশাপাশি যোগ হচ্ছে ‘অপাসিটি স্লাইডার’, যার মাধ্যমে আইফোনের স্ক্রিন কতটা স্বচ্ছ বা ট্রান্সপারেন্ট দেখাবে তা ব্যবহারকারীরা নিজেই ঠিক করতে পারবেন।
ম্যাকওএসের ডিজাইনেও কিছু পরিবর্তন আনছে কোম্পানিটি। এখন থেকে অ্যাপগুলোর টুলবার আরও ইউনিফর্ম দেখাবে। মনোযোগের বিঘ্ন ঘটা কমাতে বিভিন্ন সাইডবার স্ক্রিনের একদম প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। ম্যাকওএসের সব উইন্ডোর বিভিন্ন কোণা এবার আরও কিছুটা গোল বা বাঁকানো এবং অ্যাপ আইকনগুলোকে নতুন রূপ দিচ্ছে অ্যাপল।
পারফরম্যান্সের দিক থেকে অ্যাপল বড় উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি এয়ারড্রপ ট্রান্সফার, মেইলে মেসেজ লোড হওয়া ও অ্যাপল মিউজিকে গান চালু হওয়ার গতি প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।
অ্যাপলের দাবি, বিভিন্ন অ্যাপ এখন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দ্রুত চালু হবে এবং ক্যামেরা রোলে এসব ছবি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দৃশ্যমান হবে। আর ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলে সেলুলার বা মোবাইল নেটওয়ার্কে সুইচ করা এখন আরও দ্রুত হবে।
যারা এখনও পুরানো মডেলের আইফোন ব্যবহার করছেন তাদের জন্য সুখবর রয়েছে। অ্যাপল বলেছে, তারা ‘সিপিইউ শিডিউলার’ উন্নত করেছে, যা পুরানো বিভিন্ন ডিভাইসকে আরও সচল ও দ্রুতগতির করতে সাহায্য করবে।
আইওএস ২৬ সমর্থন করে এমন সব মডেলেই আইওএস ২৭ কাজ করবে। ফলে আইফোন ১১ বা তার পরবর্তী মডেলের ব্যবহারকারীরা আপডেট করার পর এ সুফলটি টের পাবেন।
আইওএস, আইপ্যাডওএস ও ম্যাকওএস জুড়ে সার্চ অপশনটিকে নতুন করে সাজিয়েছে অ্যাপল। তারা স্পটলাইট, মেইল ও ফটোস অ্যাপের সার্চের মূল ভিত্তিটিকে সম্পূর্ণ নতুন করে তৈরি করেছে, যাতে বিষয়টি আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর হয়। এ নতুন পরিকাঠামো যে কোনো নতুন ফাইল ও ডেটা ‘প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই’ খুঁজে পাওয়ার জন্য সাজানো শুরু করবে।

প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ও শিশু সুরক্ষা ফিচার
এবারের ডব্লিউডব্লিউডিসি’র মূল বক্তব্যে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ও বিভিন্ন শিশু সুরক্ষা ফিচার নজর কেড়েছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার যেভাবে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে অ্যাপলের এ পদক্ষেপটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মা-বাবা ও অভিভাবকরা খুব শিগগিরই শিশুদের জন্য ‘চাইল্ড অ্যাকাউন্ট’ খোলার সুবিধা পাবেন। ১৩ বছরের কম বয়সীরা গ্যাজেট ব্যবহার করতে চাইলে এ অ্যাকাউন্ট তৈরি করা বাধ্যতামূলক এবং চাইলে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তা বহাল রাখা যাবে।
অ্যাপল বলেছে, ‘চাইল্ড অ্যাকাউন্ট শিশুর বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরো সিস্টেম জুড়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখবে’।
শিশুরা ফোন, ফেইসটাইম ও মেসেজেস অ্যাপের মাধ্যমে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে তা অভিভাবকরা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। পাশাপাশি, তারা কোন কোন অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
শিশুরা কোনো অ্যাপ ডাউনলোডের অনুমতির জন্য যেমন অনুরোধ পাঠাতে পারে তেমনই সাফারিতে ব্লক করে রাখা কোনো ওয়েবসাইটে ঢোকার জন্যও মা-বাবার কাছে অনুমতি চাইতে পারবে। নতুন করে ডিজাইন করা ‘স্ক্রিন টাইম’ ফিচারের মাধ্যমে অভিভাবকরা এখন অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমার ওপর আরও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ও তাদের সন্তানরা ডিভাইস কীভাবে ব্যবহার করছে তা বুঝতে পারবেন।
যেসব শিশুর নিজস্ব আইফোন নেই তাদের জন্য মা-বাবারা যেন সহজেই একটি অ্যাপল ওয়াচ সেটআপ করে দিতে পারেন তার একটি নতুন উপায় আনছে অ্যাপল। এসব বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অভিভাবকদের সাহায্যের জন্য অ্যাপল বিভিন্ন তথ্য ও রিসোর্সও সরবরাহ করবে।