Published : 24 Jul 2026, 10:08 AM
অগাস্টেই চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে স্পেসএক্সের তৈরি ফ্যালকন ৯ রকেটের একটি অংশ।
গতিপথ হারিয়ে মহাকাশে ভাসতে থাকা চার হাজার কেজির এ ধ্বংসাবশেষটির আঘাত হানার বিরল দৃশ্য সরাসরি পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
৫ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় আনুমানিক ভোর ২ টা ৩৫ মিনিটে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটটির ওপরের অংশ চাঁদের ‘আইনস্টাইন ক্রেটার’ নামের গর্তের কাছে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকে শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্যে এ দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করা হবে। ‘প্রজেক্ট প্লুটো’ নামের জনপ্রিয় ডেস্কটপ প্ল্যানেটেরিয়াম সফটওয়্যারের স্রষ্টা বিল গ্রে প্রথম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রকেটটির কক্ষপথ ও গতিপথের বিভিন্ন উপাত্ত নিজ সফটওয়্যারে বিশ্লেষণ করে তিনি আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, আগামী মাসে চাঁদের বুকে আঘাত হানবে রকেটটির অংশ।
চাঁদের পৃষ্ঠে ধ্বংস হতে যাওয়া রকেটের এ অংশটি স্পেসএক্সের ‘ফায়ারফ্লাই ব্লু ঘোস্ট’ মিশনের, যা ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি উৎক্ষেপিত হয়েছিল।
ওই সময় ফ্যালকন ৯ রকেটটি ‘ফায়ারফ্লাই অ্যালোক্রাফট’-এর ‘ব্লু গাউস্ট’ লুনার ল্যান্ডারের পাশাপাশি জাপানি কোম্পানি ‘আইস্পেস’-এর ‘হাকুতো-আর’ লুনার ল্যান্ডারটিকেও মহাকাশে পৌঁছে দিয়েছিল।
বিজ্ঞান সাময়িকী ফিজ ডটঅর্গ বলেছে, ল্যান্ডার দুটিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে বসানোরর পরপরই রকেটটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। ফলে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেনি। এর পর থেকে দীর্ঘ দিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মহাকাশেই ভাসছিল এ ধ্বংসাবশেষ।
রকেটের এ ওপরের অংশটি প্রায় ৩৯ ফুট দীর্ঘ ও ১৩ ফুট চওড়া এবং এর ওজন প্রায় চার হাজার কেজি, যা ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়বে।
বিল গ্রে ও তার সহকর্মীদের প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধ বলছে, সিমুলেটরে পাওয়া তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই আঘাত থেকে খুব বড় কোনো প্রভাব বা বিপর্যয় হবে না।
তাদের মতে, চাঁদে আছড়ে পড়া বেশিরভাগ স্বাভাবিক গ্রহাণুর তুলনায় রকেটের এ অংশটি আকারে বড় হলেও এর ভেতরটি ফাঁপা এবং গতিও সেগুলোর তুলনায় ‘অনেকটাই ধীর’।
এরপরও এ ঘটনাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা রিয়াল টাইমে বা সরাসরি মহাকাশে তৈরি কৃত্রিম আঘাত পর্যবেক্ষণের এক দারুণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চাঁদে কোনো বস্তুর আঘাতে ধূলা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী কীভাবে ছড়ায় তা অধ্যয়নের পাশাপাশি মহাকাশ বর্জ্যের প্রভাব ও ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা সম্ভব হবে।
বিল গ্রে ও তার গবেষণা দল বলেছে, আঘাত হানার মুহূর্তে যেসব অঞ্চলে সম্পূর্ণ অন্ধকার বা রাত থাকবে সেখান থেকেই এমনটা স্পষ্ট দেখা যাবে, অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকা ও উত্তর আফ্রিকার নিম্ন থেকে মধ্য অক্ষাংশের অঞ্চলগুলো থেকে ঘটনাটি দেখার সবচেয়ে ভালো সুযোগ থাকবে।
আঘাতের সময় আকাশে চাঁদের অবস্থান যত উঁচুতে থাকবে দুর্ঘটনাকবলিত দৃশ্যটি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে, যার অর্থ উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের দূরের অঞ্চলের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাই এ বিরল দৃশ্যের সবচেয়ে বড় সাক্ষী হতে পারবেন।