Published : 20 Jul 2025, 07:07 PM
মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ককে বিজ্ঞান ফেলোশিপ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছিল যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানভিত্তিক অ্যাকাডেমি রয়্যাল সোসাইটি।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান প্রতিবেদনে লিখেছে, অ্যাকাডেমি মাস্ককে পরামর্শ দিয়েছিল, তিনি যদি গবেষণার ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আক্রমণ ঠেকানোয় কিছু করতে না পারেন তবে নিজের ফেলোশিপ থেকে যেন পদত্যাগের কথা বিবেচনা করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর মালিক মাস্ক এবং মার্কিন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বা ইভি নির্মাতা টেসলা ও মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স-এর সিইও’ও বটে তিনি। ২০১৮ সালে মহাকাশ ও ইভি শিল্পে অবদানের জন্য যুক্তরাজ্যের জাতীয় বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন মার্কিন এই প্রযুক্তি টাইকুন।
তবে গত এক বছরে বারবার প্রতিষ্ঠানটিকে মাস্কের মন্তব্য ও আচরণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রয়্যাল সোসাইটির অনেক ফেলো ও অন্যান্য বিজ্ঞানী।
তারা বলেছেন, অ্যাকাডেমির আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন মাস্ক। এ নিয়ে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা খোলা চিঠি লিখেছেন, পদত্যাগ করেছেন, এমনকি নিজেদের পুরস্কারও ফিরিয়ে দিয়েছেন তারা। রয়্যাল সোসাইটির এই বিষয়ে নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদেই তারা এমনটি করেছেন।
এ প্রতিবাদের অন্যতম কারণ ছিল ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ বা ডজ নামে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এক পদের প্রধান হিসেবে মাস্কের দায়িত্বে থাকা। বিভাগটি গবেষণা তহবিল বা ফান্ডিং ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাডেমিয়ার গবেষণা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর সেন্সরশিপ বা নিয়ন্ত্রণ চাপানোর অভিযোগও উঠেছিল মাস্কের বিরুদ্ধে।
এ বছরের মার্চে গার্ডিয়ান প্রতিবেদনে লিখেছিল, রয়্যাল সোসাইটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাস্কের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কোনো তদন্ত চালাবে না তারা। তবে জানা গিয়েছে, মে মাসে সোসাইটির প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট স্যার পল নার্স মাস্ককে পরামর্শ দিয়েছিলেন, মাস্ক যেন নিজেই ফেলোশিপ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করেন।
ফেলোশিপে পাঠানো এক ইমেইলে রয়্যাল সোসাইটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট স্যার অ্যাড্রিয়ান স্মিথ লিখেছেন, গত ১৯ মার্চ মাস্ককে প্রথম চিঠি লেখেন প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট স্যার পল। ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে ট্রাম্প প্রশাসন ‘বিজ্ঞানের ক্ষতি করছে’ তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি মাস্ককে অনুরোধ করেছেন, যেন ‘এতে হস্তক্ষেপ করে এই বিপর্যয় ঠেকাতে সাহায্য করেন’।
স্মিথ আরও লিখেছেন, মাস্ক সঙ্গে সঙ্গে এই চিঠির জবাব দেন এবং সেখানে তিনি ‘বিজ্ঞানের প্রতি নিজের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছেন এবং স্যার পল নার্সের বিভিন্ন উদ্বেগের নির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে অনুরোধও জানিয়েছিলেন’।
এরপর ২৭ মার্চ স্যার পল আরেকটি চিঠি পাঠান মাস্ককে, যেখানে তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপ বিজ্ঞান ও গবেষণার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে তা সরাসরি জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যেন কথা কথা বলেন মাস্ক।
অ্যাড্রিয়ান স্মিথ লিখেছেন, “পল তার ওই চিঠির কোনও জবাব পাননি, এমনকি পরে পাঠানো একটি অনুস্মারক বা রিমাইন্ডার চিঠিরও কোনো উত্তর আসেনি।”
২০ মে পল নার্স আরেকটি চিঠি পাঠান, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে পাওয়া কিছু উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন তিনি। ওইসব উদ্বেগগের মধ্যে রয়েছে, “কিছু প্রস্তাবিত বাজেট কাটছাঁট একেবারেই অযৌক্তিক মনে হচ্ছে।”
স্মিথ লিখেছেন, “পল ওই চিঠিতে বেদনাভরে এ কথাও বলেছেন, আপনি যদি সহায়তা করতে না পারেন তবে হয়ত আপনার বিবেচনা করা উচিত যে, আপনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো হিসেবে থাকতে চান কি না। কারণ আমাদের সোসাইটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিজ্ঞানকে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া। ফেলোশিপ থেকে পদত্যাগ করবেন কি না সে বিষয়েও আপনার ভাবা উচিত।”
এরপরও কোনো উত্তর দেননি মাস্ক। পরবর্তী সময়ে স্মিথ ও পল নার্স তাকে জানান, এসব চিঠিপত্রের কনটেন্ট ফেলোদেরকে জানানো হবে। তখনই সংক্ষিপ্ত আকারে উত্তর দিয়েছিলেন মাস্ক।
রয়্যাল সোসাইটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, মাস্ককে ফেলোশিপ থেকে পদত্যাগের যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। ফলে, ‘মাস্ক এখনও রয়্যাল সোসাইটির একজন ফেলো’।
এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মাস্কের প্রতিনিধিরা।