Published : 25 May 2026, 01:40 PM
ধাতব গ্রহাণুর উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে লাল গ্রহ মঙ্গলের মহাকর্ষীয় শক্তি ব্যবহার করে গতি বাড়ানোর সময় গ্রহটির বেশ কিছু নজরকাড়া ছবি তুলেছে নাসার মহাকাশযান সাইকি।
সম্প্রতি নাসার প্রকাশ করা এসব ছবিতে মঙ্গলের বড় আকারের গিরিখাত, দক্ষিণ মেরুর বরফ ও এক মনোহর অর্ধচন্দ্রাকৃতির রূপ ফুটে উঠেছে।
২০২৯ সালে গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া এ মহাকাশযানের পাঠানো ছবিগুলো বিজ্ঞানীদের গ্রহ তৈরির রহস্য উন্মোচনে নতুন সূত্র দেবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
‘১৬ সাইকি’ নামের ধাতব গ্রহাণুর উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে সাইকির তোলা লাল গ্রহটির একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মঙ্গলের সুপরিচিত ‘হাইগেনস ডাবল-রিং ক্রেটার’ বা দুই স্তরওয়ালা বড় এক গিরিখাত।
মঙ্গলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছানোর ঠিক পরপরই সাইকি এই গিরিখাতটির ছবি তোলে, যার ব্যাস প্রায় ২৯০ মাইল। ছবিতে দেখা যাওয়া বিভিন্ন রং সেখানকার ধূলিকণা, বালু এবং শিলাস্তরের উপাদানের ভিন্নতার কারণে তৈরি হয়েছে।

তবে এসব রংগুলোকে আরও স্পষ্ট ও দৃশ্যমান করে তুলতে নাসা ছবিটির কালার বা রং কিছুটা উন্নত করেছে।
মঙ্গলের সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়ার পর সাইকি গ্রহটির দক্ষিণ মেরুর এক উচ্চ মানের ছবিও তুলেছে। মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুতে বিশাল এলাকাজুড়ে জলীয় বরফের স্তর রয়েছে, যা সারা বছরই হিমায়িত অবস্থায় থাকে। ছবিতে এ অংশটিকে একটি উজ্জ্বল বিন্দু বা স্পট হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
তবে গ্রহটির ওপরের বিভিন্ন ছবি তোলার আগে মহাকাশযানটি মঙ্গলের এক অর্ধচন্দ্রাকৃতির ছবি তুলেছিল। অনেক ওপর থেকে মঙ্গলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় মহাকাশযানটি থেকে দৃশ্যটি ঠিক এমনই দেখাচ্ছিল, কারণ ওই সময় গ্রহটির পৃষ্ঠের ওপর সূর্যের আলো প্রতিফলিত হচ্ছিল।
নাসা বলেছে, এ অর্ধচন্দ্রাকার অংশটি সাধারণ মঙ্গল পৃষ্ঠের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল এবং এর বিস্তৃতিও ছিল বেশি। যার কারণ, সূর্যের আলো কেবল গ্রহের বুকেই পড়েনি, বরং মঙ্গলের ধূলিময় বায়ুমণ্ডল দ্বারাও সেই আলো প্রতিফলিত হচ্ছিল।
মঙ্গলের মহাকর্ষীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে গতি বাড়ানোর পর সাইকি মহাকাশযানটি তার যাত্রাপথ সচল রাখতে আবারও নিজস্ব ‘সোলার-ইলেকট্রিক প্রপালশন সিস্টেম’ ব্যবহার শুরু করবে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে মহাকাশযানটি তার সমনামী গ্রহাণুর উদ্দেশ্যে এই ছয় বছরের দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেছিল। মঙ্গলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গ্রহটির উপগ্রহ বা চাঁদের চেয়েও কাছে চলে গিয়েছিল এবং সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছানোর মুহূর্তে মঙ্গল পৃষ্ঠের কেবল ২ হাজার ৮০০ মাইলের মধ্যে চলে আসে।
মহাকাশযানটি ২০২৯ সালে তার গন্তব্যে পৌঁছাবে এবং সেখানে পৌঁছানোর পর গ্রহাণুটিকে প্রদক্ষিণ ও পর্যবেক্ষণ করে দুই বছর সময় কাটাবে।
‘১৬ সাইকি’ গ্রহাণুটি হচ্ছে আমাদের সৌরজগতের জানা মতে সবচেয়ে বড় ধাতব গ্রহাণু।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, গ্রহাণুটি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য আমাদের নিজস্ব পৃথিবীর কেন্দ্র বা কোর কীভাবে গঠিত হয়েছিল, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিতে পারে।
আরও পড়ুন
মঙ্গলের 'মহাকর্ষীয় ধাক্কা' নিয়ে ধাতব গ্রহাণুর খোঁজে নাসার 'সাইকি'