Published : 03 Jul 2026, 10:07 AM
ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই ইউজারনেইমের মাধ্যমে যোগাযোগের নতুন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখতে হোয়াটসঅ্যাপকে বলেছে ভারত সরকার। দেশটির আশঙ্কা, এই সুবিধা চালু হলে অনলাইন প্রতারণা, ফিশিং এবং পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা বাড়তে পারে।
বিবিসি-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, বুধবার পাঠানো এক নোটিশে, যেটি বিবিসি’র দেখার সুযোগ হয়েছে, তাতে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় হোয়াটসঅ্যাপকে বলেছে, সরকার সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত নতুন সুবিধাটি যেন চালু না করা হয়। একই সঙ্গে কোম্পানিটির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, এমন একটি সুবিধা চালুর কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
হোয়াটসঅ্যাপ চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা দিয়েছে, ব্যবহারকারীরা নিজেদের জন্য একটি আলাদা ইউজারনেইম সংরক্ষণ করতে পারবেন। আগামী কয়েক মাসে ধাপে ধাপে এই সুবিধা চালু হলে ফোন নম্বরের পরিবর্তে ইউজারনেইম ব্যবহার করেই নতুন কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
ভারত সরকারের আশঙ্কা, এতে প্রতারকরা ফোন নম্বর গোপন রেখেই সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। পাশাপাশি ব্যক্তি, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে ইউজারনেইম তৈরি করে পরিচয় জালিয়াতির ঘটনাও বাড়তে পারে।
হোয়াটসঅ্যাপের মালিক কোম্পানি মেটার একজন মুখপাত্র বলেছেন, সুবিধাটি এখনো চালু হয়নি। এটি চলতি বছরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে উন্মুক্ত করা হবে।
মেটা বলছে, পরিচয় জালিয়াতি ঠেকাতে এতে শুরু থেকেই একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।
মেটা বলছে, “জনপ্রিয় ব্যক্তি, সরকারি সংস্থা, তারকা এবং মেটার যাচাইকৃত অ্যাকাউন্টগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ইউজারনেইম আগেই সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। ফলে সেগুলো কেবল প্রকৃত মালিকরাই ব্যবহার করতে পারবেন। পরিচিত নামের সঙ্গে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, এমন মিলযুক্ত নামও সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।”
কোম্পানিটি আরও বলেছে, ইউজারনেইম ব্যবহার করলেও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতে ফোন নম্বর লাগবেই।
এ ছাড়া প্রতারণা ঠেকাতে একাধিক নিরাপত্তা স্তর রাখা হয়েছে বলে দাবি মেটার।
কোম্পানিটির ভাষ্য, “কেউ আপনাকে বার্তা পাঠাতে চাইলে তাকে আপনার সঠিক ইউজারনেইম জানতে হবে। নতুন একটি অ্যাকাউন্ট কতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে, তার সীমা নির্ধারণ করা হবে। কারও ইউজারনেইমের নিরাপত্তা ‘কি’ বারবার অনুমান করার চেষ্টাও আটকে দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিচয় জালিয়াতি বা অপব্যবহারের সাধারণ ধরন শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থাকবে।”
এ ছাড়া প্রথমবার কেউ যোগাযোগ করলে সেটি নতুন অ্যাকাউন্ট কি না, আগে থেকেই পরিচিত কি না, কোনো অভিন্ন গ্রুপে আছেন কি না বা অন্য কোনো দেশ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে কি না, এমন তথ্যও দেখানো হবে। এতে ব্যবহারকারীরা বার্তার জবাব দেবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
হোয়াটসঅ্যাপের সবচেয়ে বড় বাজার ভারত, যেখানে সেবাটির ব্যবহারকারী সংখ্যা ৮৫ কোটিরও বেশি।